ঢাকা, বুধবার,১৩ ডিসেম্বর ২০১৭

নগর মহানগর

রোহিঙ্গাদের জন্য বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তা চাইলেন অর্থমন্ত্রী

বিশেষ সংবাদদাতা

১৩ অক্টোবর ২০১৭,শুক্রবার, ০০:২০


প্রিন্ট

রোহিঙ্গাদের জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকেও সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। বুধবার রাতে (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার) বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ বার্ষিক সম্মেলনের প্রথম দিন ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা ও দণি এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যানেট ডিক্সনের সঙ্গে বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ সহায়তা চেয়েছেন। বৈশ্বিক আর্থিক খাতের এই দুই শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের ছয় দিনব্যাপী বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিতে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল বর্তমানে ওয়াশিংটনে অবস্থান করছে। অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে রয়েছেনÑ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থসচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব কাজী শফিকুল আযম ও ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন ভূঁইয়া।
অর্থমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা শাহেদুর রহমান জানিয়েছেন, মিয়ানমার থেকে আসা অসহায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ায় বিশ্বব্যাংকের দুই কর্মকর্তা বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন ও বিশ্বব্যাংক রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে।
বৈঠকে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, আমরা রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা নিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে কী পরিমাণ সহায়তা তারা দেবে, তার কতটা অনুদান হবে; কতটা ঋণ হবে, না পুরোটাই ঋণ হবে তা দুই প বসে নির্ধারণ করা হবে।
তথ্য কর্মকর্তা জানান, সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করতে খুব শিগগির বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করবে।
বিশ্বব্যাংকের দুই শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের সহায়তার ব্যাপারে তারা খুবই আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ এই তহবিলের কী পরিমাণ পাবে, শর্ত কী হবে সেসব বিষয়ে দ্রুতই সিদ্ধান্ত হবে।
বিশ্বব্যাংক সিইও ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত খুলে দিয়ে বাংলাদেশ যে ভূমিকা রেখেছে তার জন্য আমরা সম্মান জানাই ও প্রশংসা করি। আমরা বাংলাদেশের সহায়তার জন্য যা করা সম্ভব তার পুরোটাই করব। আমাদের একটি রিফিউজি সহায়তা খাত আছে; সেখান থেকে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে পারলে আমরা সম্মানিত বোধ করব। স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি কেউ যাতে সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে যৌক্তিক বিবেচনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
বৈঠক শেষে বিশ্বব্যাংকের এক বিবৃতিতে বলা হয়, লাখ লাখ রোহিঙ্গার ভার সামাল দিতে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চেয়েছে ও বিশ্বব্যাংক এই সঙ্কটে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত আছে। ওই সহায়তার পরিমাণ কী হবে তা এখনো নির্ধারণ করা না হলেও স্বাস্থ্য, শিা, সুপেয় পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও সড়ক অবকাঠামোর মতো বিষয় এর আওতায় আসতে পারে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।
অ্যানেট ডিক্সনকে উদ্ধৃত করে বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা আশা করব, রোহিঙ্গারা শিগগিরই তাদের দেশে ফিরে যেতে পারবে। কিন্তু তার আগে তাদের জরুরি মানবিক সহায়তার জন্য স্থানীয় কর্তৃপরে পাশে থাকতে হবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে। এ জন্য যা করা সম্ভব তার সবই আমরা করব।
বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের জন্য দরজা খোলা রেখেছে। তাদের সহায়তা দেয়া বাংলাদেশের জন্য চাপে পরিণত হয়েছে। কারণ, দেশটি এমনিতেই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি -আইডিএ ‘রিফিউজি ফান্ড’ নামে নতুন একটি তহবিল গঠন করেছে, যার উদ্দেশ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শরণার্থীদের সহায়তা দেয়া।
এই তহবিলের আকার ২০০ কোটি ডলার। যেকোনো দেশ প্রয়োজনে সেখান থেকে তিন বছর মেয়াদে সর্বোচ্চ ৪০ কোটি ডলার ঋণ নিতে পারে। মোট অর্থের একটি অংশ বিশ্বব্যাংক অবশ্য অনুদান হিসেবেও দিতে পারে।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫