ঢাকা, বুধবার,১৩ ডিসেম্বর ২০১৭

নগর মহানগর

বিআইবিএমএ গবেষণা কর্মশালায় বক্তারা

রাজনৈতিক হস্তেক্ষেপ ব্যাংকে দুরবস্থা বাড়ছে : আইন সংশোধন হলে তা হবে ভয়াবহ

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

১৩ অক্টোবর ২০১৭,শুক্রবার, ০০:২০


প্রিন্ট

প্রস্তাবিত ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন হলে দেশের ব্যাংকিং খাতের অবস্থা আরো খারাপ অবস্থায় চলে যাবে। মালিকদের অযাচিত হস্তপে বাড়বে এবং ব্যাংকাররা পেশাগত দায়িত্ব পালনে আরো বেশি সমস্যার সম্মুখীন হবেন। ইতোমধ্যে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে এ খাতে এখন চরম দুরবস্থা বিরাজ করছে। আর এর ফলেই ব্যাংকগুলো এখন মুদিদোকানে পরিণত হয়েছে। যার ফলে গত ৫ বছরে অনেক পেছনে চলে গেছি।
গতকাল রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) অডিটোরিয়ামে এক গবেষণা কর্মশালায় বক্তারা এ সব কথা বলেন। কর্মশালার বিষয় ছিল দেশের ব্যাংকগুলোকে একীভূতকরণ (এক্সপ্লোরিং মার্জার অ্যান্ড অ্যাকুইজিশন ইন দ্য কনটেক্স অব দ্য ব্যাংকিং সেক্টর অব বাংলাদেশ)। বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক হস্তেেপর কারণে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে হেছে। শুধু কাগজে কলমে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে সরকারি ব্যাংকে অবলোপনসহ প্রকৃত খেলাপি ৫০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে রাজনীতির বাইরে রাখতে পারলে ৮০ শতাংশ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
চূড়ান্ত পর্যায়ে পাস হতে যাওয়া ব্যাংক কোম্পানি আইনে এক পরিবার থেকে ৪ জন পরিচালক থাকার বিষয়ে তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইনে বর্তমানে একই পরিবার থেকে ২ জন পরিচালক থাকার আইন রয়েছে। তবে ব্যাংক কোম্পানি আইনে নতুনভাবে একই পরিবার থেকে ৪ জন পরিচালক রেখে আইন পাস হতে যাচ্ছে। আইনটি পাস হলে ভালো ব্যাংকও খারাপ হয়ে যাবে। বিশেষ করে বেসরকারি ব্যাংকে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বেশি। কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন না।
প্রস্তাবিত এ ব্যাংক কোম্পানি আইনের বিরুদ্ধে সবাইকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে কর্মশালায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, প্রস্তাবিত এ আইন পাস হতে দেয়া যাবে না। বাধা দিতে হবে। সবাইকে আরো হইচই করতে হবে। কয়েকটি দুর্বল ব্যাংককে একীভূত (মার্জার) করা সম্পর্কে খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, বিদেশে ব্যাপক হারে মার্জার হচ্ছে। সেখানকার প্রতিষ্ঠানগুলো আরো বড় হওয়ার জন্য মার্জার করে থাকে। তবে আমাদের দেশে ছোট ব্যাংকগুলোর ধারণা বড়দের সাথে মার্জার হলে বড়রা তাদের খেয়ে ফেলবে। মার্জারের ফলে ভালো কিছু নাও হতে পারে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডের (বিডিবিএল) েেত্র যা হয়েছে সেটা হলো দুটো খারাপ প্রতিষ্ঠান মিলে নতুন একটি বড় খারাপ প্রতিষ্ঠানের জন্ম দিয়েছে।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫