ঢাকা, শনিবার,২১ অক্টোবর ২০১৭

নগর মহানগর

জাতীয়করণকৃতদের ঠেকাতে সরকারি কলেজ শিক্ষক নেতাদের বৈঠক আজ

সিনিয়রিটি ও ক্যাডারভুক্তির ব্যাপারে কঠোর অবস্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ অক্টোবর ২০১৭,শুক্রবার, ০০:২০


প্রিন্ট

দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে সরকারি কলেজ ও মাধ্যমিক স্কুল সরকারীকরণের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এ প্রক্রিয়া বর্তমানে দ্রুততর করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বেসরকারি ২৮৫ কলেজ ও ৩৭১টি স্কুল সরকারি বা জাতীয়করণের প্রক্রিয়া চলছে। একসাথে এত বেসরকারি কলেজ জাতীয়করণের উদ্যোগ এ প্রথম। ফলে কলেজগুলোয় কর্মরত শিক্ষকেরা আত্তীকরণ হতে যাচ্ছেন। এর আগে (১৯৮১ ও ২০০০ সালে) দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু কলেজ জাতীয়করণ করা হয়েছিল। সেখানকার শিক্ষকেরা এখন পর্যন্ত আত্তীকৃত শিক্ষক হিসেবেই পরিচিতি। তাদের সাথে তীব্র প্রতিযোগিতামূলক বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ক্যাডারভুক্ত কলেজ শিক্ষকদের মধ্যে এ ধরনের পার্থক্য ও দূরত্ব বিরাজ করছে। আত্তীকৃত কলেজ শিক্ষকদের আলাদা সংগঠনও রয়েছে। তাদের সংগঠনের নাম হচ্ছে বিসিএস (শিক্ষা ক্যাডার) সমিতি।
সরকারি কলেজ শিক্ষকদের সংগঠন বিসিএস সাধারণ শিা সমিতির ১৫ হাজার ক্যাডারভুক্ত শিক রয়েছেন। আর জাতীয়করণের জন্য চূড়ান্ত করা বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের সংখ্যা হচ্ছে প্রায় ২০ হাজার। জাতীয়করণের আওতায় আসার পরই এসব শিক্ষক সিনিয়রিটিসহ নানা দাবিতে সোচ্চার হতে পারেন বলে আশঙ্কা ক্যাডার শিক্ষকদের। এর ফলে সরকারি কলেজের ক্যাডারভুক্ত শিক্ষকেরা সংখ্যাগরিষ্ঠতার সঙ্কটে পড়বেন। বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে একসাথে ২৮৫ কলেজ জাতীয়করণের আওতায় আসার উদ্যোগের ফলে ক্যাডারভুক্ত কলেজ শিক্ষকদের মধ্যে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে যে, আত্তীকৃতরা ক্যাডারভুক্ত হলে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাবেন।
বেসরকারি ২৮৫ কলেজ জাতীয়করণের ঘোষণার পর থেকেই ক্যাডারভুক্ত কলেজ শিক্ষকদের সমিতি এর বিরুদ্ধে সোচ্চার। তবে কলেজ জাতীয়করণের বিরুদ্ধে নয় তারা। সরকারি কলেজ শিক্ষকদের সংগঠন বিসিএস সাধারণ শিা সমিতি বক্তব্য হচ্ছে, ‘বিসিএস ছাড়া ক্যাডার সার্ভিস নয়’, বেসরকারি কলেজ জাতীয়করণের েেত্র প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন, ‘জাতীয়করণের আওতাভুক্ত কলেজসমূহের শিকদের চাকরি বদলিযোগ্য হবে না’ মানতে হবে। তাদের চাকরি স্ব স্ব কলেজেই সুনির্দিষ্ট হবে।
ক্যাডারভুক্ত কলেজ শিক্ষক সংগঠনটি গত মার্চ মাস থেকেই এর বিরুদ্ধে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় সরকারি কলেজ শিক্ষকদের সংগঠন বিসিএস সাধারণ শিা সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে আজ শুক্রবার। বৈঠকে সারা দেশের সরকারি কলেজ শিক্ষক নেতারা অংশ নেবেন। জানা গেছে, ১২৩ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা ছাড়াও ৬৪টি জেলার সম্পাদকরাও পদাধিকার বলে এ বৈঠকে অংশ নেবেন বলে সমিতির নেতাদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে।
বৈঠকের অবধারিত ও জরুরি এজেন্ডা হচ্ছে, জাতীয়করণের জন্য চূড়ান্ত করা বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের সিনিয়রিটি এবং ক্যাডারভুক্তির ব্যাপারে সমিতির নেতাদের মতামত নিয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ। আজকের বৈঠক সম্পর্কে বিসিএস সাধারণ শিা সমিতির সভাপতি আই কে খন্দকার গতকাল নয়া দিগন্তকে বলেন, সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে মূলত সমিতির বিভিন্ন দাবিদাওয়া বিশেষ করে সম্প্রতি ২৮৫ কলেজ সরকারীকরণের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার প্রেক্ষিতে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা। তিনি জানান, বেসরকারি কলেজের শিকদের চাকরি সরকারি হোক এবং সে অনুযায়ী সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা তারা পেতে পারেন। কিন্তু কোনোভাবেই তাদের ক্যাডারভুক্ত করা যাবে না। জাতীয়করণের মহৎ উদ্যোগ যেন বিনষ্ট না হয়, তার জন্য আমরা সরকারি কলেজ শিক্ষকেরা অনেক ছাড় দিতেও প্রস্তুত। কিন্তু কোনো অবস্থায় তাদের সাথে ক্যাডারভুক্ত শিক্ষকদের সিনিয়রিটি এক করা যাবে না। কোনোভাবেই তাদের ক্যাডারভুক্ত করা যাবে না।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫