মাঠে অসহিষ্ণু কোচ খেলোয়াড়েরা

৯ লাল কার্ড, তিন কোচ বহিষ্কার
রফিকুল হায়দার ফরহাদ

 নিকট অতীতে দুই আন্তর্জাতিক ম্যাচে লাল কার্ড কী সর্বনাশ না করেছিল বাংলাদেশের। অধিনায়ক কৃষ্ণা রানী সরকারের লাল কার্ড অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের বদলে হারের তিক্ত স্বাদ দেয় অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা দলকে। এএফসির আসরে লাল-সবুজদের হার হয়েছিল ৩-২ এ। সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবলে বিশ্বনাথ ঘোষের লাল কার্ড ও শেষ পর্যন্ত নেপালের কাছে হারের পরিণতি সবার জানা। এই পরাজয়ই শিরোপা থেকে দূরে ঠেলে দেয় রক্সি বাহিনীকে। এরপরও কি হুশ হচ্ছে ফুটবলাদের। বরং তাদের অসহিষ্ণু আচরণ অব্যাহত আছেই। চলমান বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে এখন পর্যন্ত শেষ হয়েছে ৬০ ম্যাচ। এতে লাল কার্ডের ঘটনা ঘটেছে ৯টি। এই খেলোয়াড়দের মাঠে মাথা ঠাণ্ডা রাখতে সর্বদা সক্রিয় থাকতে হয় দলের কোচদের। তারাই আগলে রাখবেন ফুটবলারদের। অথচ খেলা চলাকালীন তাদের উগ্র আচরণও ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিচ্ছে রেফারিদের। লিগে এখন পর্যন্ত তিন কোচ বহিষ্কার হয়েছেন মাঠ থেকে।

এবারের লিগে সর্বাধিক দু’টি করে লাল কার্ড পেয়েছেন শেখ জামাল, সাইফ স্পোর্টিং ও ব্রাদার্সের খেলোয়াড়েরা। এরমধ্যে ব্রাদার্সের আরিফ খান জয় একাই দুই বার লাল কার্ড পেয়েছেন। অর্থাৎ ৮ ম্যাচে দুই বার তার মাঠ থেকে বহিষ্কার হওয়ার ঘটনা। সাইফ স্পোর্টিংযের ডিফেন্ডার তপু বর্মন ফেডারেশন কাপে একবার লাল কার্ড পান। এরপর আবার লিগ ম্যাচে। দলের রক্ষণকর্মী রিয়াদুল হাসান রাফি পেয়েছেন একটি লাল কার্ড। শেখ জামালের ফরোয়ার্ড এনামুল হক ও ডিফেন্ডার খান মোহাম্মদ তারাকে একবার করে রেফারি মাঠ থেকে বের করে দিয়েছেন। এ ছাড়া মোহামেডানের অনিক হোসেন, ফরাশগঞ্জের ফারুক ও বিজেএমসির বাইবেক একটি লাল কার্ড পেয়েছেন। বাইবেকের লাল কার্ড অবশ্য তাৎক্ষণিক উপকারই করেছে দলের। অবধারিত গোলের বল হাত দিয়ে ঠেকান ক্যামেরুনের এই ডিফেন্ডার। রেফারি এই অপরাধে তাকে লাল কার্ড দেখান। দেন পেনাল্টিও। অবশ্য রহমতগঞ্জের সে পেনাল্টি শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক হিমেল। দলও যায় জিতে। ঠিক ২০১০ বিশ্বকাপে ঘানার বিপক্ষে এই কাজ করে দলকে রক্ষা করে ছিলেন উরুগুয়ের লুইস সুয়ারেজ। এরপর ঘানার পেনাল্টি মিস। পরে জয়ের হাসি ল্যাতিন দেশটির।

এবারের লিগে এক ম্যাচে একই দলের দুই কোচকে লাল কার্ড দেখানোর ঘটনা ঘটেছে। চট্টগ্রাম আবাহনীর বিপক্ষে সাইফ স্পোর্টিংয়ের সাবেক হেড কোচ কিম গ্র্যান্ড ও বর্তমান হেড কোচ রায়ান নর্থমোরকে রেফারি মাঠ থেকে বের করে দেন বাজে আচরণের জন্য। উল্লেখ্য, এই মওসুমে এখন পর্যন্ত সাইফের তিন ফুটবলার লাল কার্ড পান। শেখ জামালের কোচ যোসেফ আফুসিকেও রেফারি একবার মাঠ থেকে বহিষ্কার করেন।

বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ডাচ কোচ লর্ড উইগ ডি ক্রুয়েফকে তো দুইবার রেফারি মাঠ থেকে গ্যালারিতে পাঠিয়ে দিয়েছিল। একটি ২০১৩-এর সাফ ফুটবলে। অন্যটি ২০১৫-এর বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে। সুতরাং কোচদের আচরণের প্রভাবতো মাঠে খেলোয়াড়দের ওপর পড়বেই।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.