ঢাকা, শনিবার,২১ অক্টোবর ২০১৭

ক্রীড়া দিগন্ত

ঘুরে দাঁড়াতে চায় বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

১৩ অক্টোবর ২০১৭,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট

বাংলাদেশের কোনো হকিভক্ত জিমি বাহিনীর কাছে জয়ের আশা করেনি। যা চেয়েছে সেটি হলো ভালো খেলা। কথা রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে এশিয়া কাপ হকির দশম আসরে প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভক্তদের হতাশ করেছে মাহবুব হারুনের শিষ্যরা। হতাশ হয়েছেন নিজেরাও। কেউ কারো ওপর দোষ না চাপিয়ে আজ নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় ভারতের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বাংলাদেশ। পুনরুজ্জীবিত হতে ভালো খেলে নতুন করে আত্মবিশ্বাসী হতে চায় জিমি-চয়নরা।
ভারতের বিপে বাংলাদেশের পরিসংখ্যান মোটেই সুখকর নয়। এশিয়া কাপে মোট সাতবার তাদের মোকাবেলা করতে হয়েছে। প্রতিবারই পেতে হয়েছে পরাজয়ের লজ্জা। তাও আবার বেশি গোলের ব্যবধানে। ৬ ম্যাচে গোল হজম করতে হয়েছে ৪৩টি। বিপরীতে এশিয়া কাপের খেলায় তাদের জালে বল পাঠাতে পেরেছে মাত্র একবার। এ ছাড়া ভারতের বিরুদ্ধে খেলা ১৯টি ম্যাচে বাংলাদেশ একটি ম্যাচই ড্র করতে পেরেছে। বাকি ১৮টিতেই পরাজয়। ১১৩ গোল হজমের বিপরীতে শোধ দিতে পেরেছে মাত্র ৮ গোল। ২০০০ সালে প্রাইম মিনিস্টার গোল্ড কাপে ভারতের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। ওয়ার্ল্ড হকি লিগ দ্বিতীয় পর্বে ভারতের কাছে ৫-১ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া সর্বশেষ গৌহাটি এসএ গেমসে ভারতের কাছে ৪-১ গোলে হেরেছে। সেই ভারতের সাথেই আজ হতে যাচ্ছে নবম এশিয়া কাপে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচ।
তবে সবই দুঃখগাথা নয়। কিছু কিছু সুখের বার্তাও রয়েছে। অবশ্য সেটি বয়সভিত্তিক হকিতে। গত বছর ২৪ সেপ্টেম্বর জুনিয়র এশিয়া কাপে বাংলাদেশ ৫-৪ গোলে হারিয়েছিল ভারতকে। আশরাফুল করেছিলেন ৪ গোল। বাকিটি ফজলে হোসেন রাব্বির। ভারতের পক্ষে একটি করে গোল করেছিলেন ধরমিন্দর সিং, কনজেংবাম সিং, হারদিক ও দিলপ্রিত সিং। ভারতের বর্তমান দলটিতে জুনিয়রের কেউ না থাকলেও বাংলাদেশের আশরাফুল ঠিকই প্রতিভা দেখিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন জাতীয় দলে। একটু পেছন ফিরে তাকালে ১৯৯৬ সালে জুনিয়র ওয়ার্ল্ড কাপে (অনূর্ধ্ব ২৩) বাংলাদেশ ২-১ গোলে হারায় ভারতকে। দু’টি গোলই করেছেন রফিকুল ইসলাম কামাল। ওই টুর্নামেন্টে কামাল যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন।
গতকাল সকালে যথারীতি প্রাকটিস করতে আসে বাংলাদেশ দল। এসে দেখে বিদ্যুৎ নেই। যে কারণে মাঠে পানি দেয়া যায়নি। তাই বাধ্য হয়েই আধঘণ্টা দেরিতে মাঠে নেমে হালকা ওয়ার্মআপ ও রানিং করে অনুশীলন শেষ করে বাংলাদেশ দল। তবে মাঠ কমিটির চেয়ারম্যান হাজী মনোয়ার হোসেন জানান, ‘এত বড় একটা আসর চলছে। কারো যেন দায়বদ্ধতা নেই। পুরো দায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের। তাদের সাথে কথা ছিল টুর্নামেন্ট চলাকালে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। আগের দিন তারা জানিয়েছিল ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকবে না। কিন্তু সেটিও তারা রাখতে পারেনি। আধঘণ্টা পর সাড়ে ১০টায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।
দলের কোচ মাহবুব হারুন বলেন, ‘পাকিস্তানের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হারার কারণ, অনুশীলনে ছেলেদের যা শিখিয়েছি, যা বলেছি, মাঠে তারা সেটা করেনি। যতক্ষণ আমার কথা মেনেছে ততক্ষণ ভালো খেলেছে, এ কারণে প্রথম দুই কোয়ার্টার ভালো খেলেছে। কিন্তু পরের দুই কোয়ার্টারে তা হয়নি। অনুশীলনে যে পরিকল্পনা ছিল মাঠে প্রয়োগ করতে পারেনি, নিজেদের মতো খেলেছে। আমি শিখিয়েছি ছোট ছোট পাসে বল নিয়ন্ত্রণে রেখে খেলতে, তারা সেটা পারেনি। লংপাসে খেলতে গিয়ে বল খুইয়েছে। আগামীকাল ভারতের বিপক্ষেও যদি তাই করে তাহলে এই দলের সাথে থেকে কি হবে।’ গতকাল অনুশীলন করতে না পারায় কিছুটা হতাশ মাহবুব হারুন, ‘অনুশীলন করতে পারলেও যে ভারতের বিপক্ষে ভালো করে ফেলব, সেটা কিন্তু নিশ্চিত না। মাঠে আমাদের ভালো খেলতে হবে। ভুলগুলো নিয়ে ভাবতে হবে, ভুলগুলো সংশোধন করতে হবে। মাঠে তা সঠিক প্রয়োগ করতে হবে।’
ভারতের ডাচ কোচ সোয়ার্ড ম্যারিন জানান, ‘ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলতে চাই। বাংলাদেশকে নিয়ে আলাদা কোনো পরিকল্পনা নেই। পাকিস্তানের বিপক্ষে তাদের ম্যাচটা দেখেছি। তাদের কিছু ভুল আমাদের চোখে পড়েছে। সেগুলো বিবেচনা করেই আমরা পরিকল্পনা সাজাব। সরদার সিং বলেন, সাম্প্রতিক সময় বাংলাদেশ ভালো খেলছে। একটা দিন বাজে যেতেই পারে, হয়তো পাকিস্তানের বিপক্ষে ছিল। তবে আমরা নিজেদের খেলাটা খেলতে চাই।’

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫