ঢাকা, মঙ্গলবার,১২ ডিসেম্বর ২০১৭

চট্টগ্রাম

রোহিঙ্গাদের পালিয়ে বাঁচার পথও বন্ধ

গোলাম আজম খান, কক্সবাজার (দক্ষিণ)

১২ অক্টোবর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ২০:১৩


প্রিন্ট
প্রতিদিন হাজার হাজার রোহিঙ্গা নাফ নদীর ওপারে সীমান্তে জড়ো হচ্ছেন। কিন্ত নাফ নদী পাড়ি দেয়ার জন্য সেখানে কোনো নৌকা নেই। তাই যারা ঘর ছেড়েছেন তারা পড়েছেন মহাবিপাকে। ছিবিটি গত ১০ অক্টোবর সীমান্তের ডু থার ইয়া গ্রাম থেকে নেয়া। ছবি: এএফপি।

প্রতিদিন হাজার হাজার রোহিঙ্গা নাফ নদীর ওপারে সীমান্তে জড়ো হচ্ছেন। কিন্ত নাফ নদী পাড়ি দেয়ার জন্য সেখানে কোনো নৌকা নেই। তাই যারা ঘর ছেড়েছেন তারা পড়েছেন মহাবিপাকে। ছিবিটি গত ১০ অক্টোবর সীমান্তের ডু থার ইয়া গ্রাম থেকে নেয়া। ছবি: এএফপি।

আরাকানে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চলমান উচ্ছেদ অভিযানের পরও অনেক রোহিঙ্গা বাপ-দাদার ভিটেমাটি ছেড়ে আসতে চাননি। সেনাবাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে অনেকেই আরাকান রাজ্যের বন জঙ্গলে লুকিয়ে থাকার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু খাদ্য ও পানির সংকটের কারণে এখন আর তারা থাকতে পারছেন না। প্রতিদিন হাজার হাজার রোহিঙ্গা নাফ নদীর ওপারে সীমান্তে জড়ো হচ্ছেন। বাংলাদেশে আসার জন্য অনেকেই সেখানে প্রায় ১৫ দিন ধরে অপেক্ষা করছেন। কিন্ত নাফ নদী পাড়ি দেয়ার জন্য সেখানে কোনো নৌকা নেই। অপরদিকে সীমান্তে মিয়ানমারের সেনারা রোহিঙ্গাদের এখন বাঁধা দিচ্ছে এপারে পালিয়ে আসতে। তাই পালিয়ে আসতে যারা ঘর ছেড়েছেন তারা পড়েছেন মহাবিপাকে।

নিরুপায় হয়ে গত বুধবার ১১ রোহিঙ্গা যুবক জীবন বাজি রেখে সাতার কেটে নাফ নদী পাড়ি দিয়েছেন। তাদের বাড়ি বুচিডং শহরের আশে পাশে। কারো স্বজনরা আগেই এপারে চলে এসেছেন, আবার কারো স্বজনরা ওপারে রয়ে গেছেন। তারা সীমান্তের নাইক্ষ্যংদিয়ায় জড়ো হয়েছিলেন নৌকায় নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশ আসতে। কিন্তু সীমান্তে এখন রোহিঙ্গা পারাপারে ব্যাপক কড়াকড়ি। নৌকা বা অন্য কোনো বাহন মিলছে না। সে কারণে ১১ জনের সবাই ছোট তেলের শূণ্য জারিকেন চেপে ধরে প্রায় আড়াই ঘণ্টা নাফ নদে সাঁতার কেটে শাহপরীর দ্বীপ জেটির কাছাকাছি চলে আসতে সক্ষম হন। দৃশ্যটি নাফ নদে টহলরত কোস্ট গার্ডের নজরে এলে তারা তাদের উদ্ধার করে নিজেদের ট্রলারে তুলে তীরে আনেন।

নাফ নদীর সাঁতরিয়ে এপারে আসা রোহিঙ্গা যুবকরা হলেন- বুসিডংয়ের সিন্ডং গ্রামের ফয়েজুল ইসলাম (১৭), ইসমাইল পাড়ার হামিদ হোসেন (১৯), কামাল হোসেন (৩০), আনসার উল্লাহ (১৬), হরমুড়া পাড়ার মোহাম্মদ উল্লাহ (২৩), পোহমের ইমাম হোসেন (২২), মোঃ রিয়াজ (১৯), রমজান আলী (২২), কাইন্দা পাড়ার সৈয়দ হোসেন (৩০), আজলী পাড়ার মোঃ আরফ (১৮) ও টারম পাড়ার আব্দুল মতলব (২৮)।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন কোস্ট গার্ড টেকনাফ স্টেশন কমান্ডার লেফট্যানেন্ট কমান্ডার মোঃ জাফর ইমাম সজীব।

সাঁতরিয়ে নদী পার হওয়া আরকানের বুচিডং ইসমাইল পাড়ার রোহিঙ্গা যুবক কামাল হোসেন বলেন, আমরা সাত দিন আগে ঘর থেকে বের হয়েছি বাংলাদেশ আসতে। কিন্তু হঠাৎ করে মিয়ানমার সেনারা আমাদের পালাতে বাঁধা দিচ্ছে। সেনারা নদীতে কোনো নৌকা নামাতে দিচ্ছে না, এপারেও নাকি এখন অনেক কড়াকড়ি। তাই আমরা সাঁতার কেটে চলে আসলাম।

সাঁতার কেটে এপারে আসা কাইন্দা পাড়ার সৈয়দ হোসেন (৩০) বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা সাঁতার দিয়ে বাংলাদেশে এসেছি। আমাদের মা, বোন, স্ত্রী-সন্তানরা ওপারেই রয়ে গেছে। আমাদের রাখাইনে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে চলে এসেছি।

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মতে, আরো অন্তত তিন লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে আসার জন্য নাফ নদীর ওপারে জড়ো হচ্ছেন। নৌকা না পেয়ে সেখানে সবাই কান্না করছে। শিশুদের অবস্থা গুরুতর। তারা বৃষ্টিতে ভিজছে, রোদে পুড়ছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫