ঢাকা, মঙ্গলবার,১৭ অক্টোবর ২০১৭

রাজনীতি

'প্রধান বিচারপতি গৃহবন্দী, জোর করে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে'

নিজস্ব প্রতিবেদক

১২ অক্টোবর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৮:০০ | আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৮:০৯


প্রিন্ট
অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন

অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন

সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেছেন, প্রধান বিচারপতিকে সুকৌশলে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। তাকে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া হলেও আইনজীবীদের আন্দোলন চলমান থাকবে। আইনের শাসন ফিরে না আসা পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। বিচার বিভাগ যারা ধ্বংস করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলবে। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তিকে রক্ষা করার জন্য আমরা আন্দোলন করছি না, এটা বিচার বিভাগ রক্ষার আন্দোলন। অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক মাহবুবউদ্দিন খোকন অভিযোগ করেন, প্রধান বিচারপতিকে আজ গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে। তাকে জোর করে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনের সামনে সুপ্রিম কোর্ট বার আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বক্তব্য রাখেন সমিতির বর্তমান সম্পাদক মাহবুবউদ্দিন খোকন, সাবেক সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, তৈমুর আলম খন্দকার, গোলাম মো: চৌধুরী আলাল, সুপ্রিম কোর্ট বারের সহ-সভাপতি উম্মে কুলসুম রেখা, আবেদ রাজা, মনির হোসেন, মোহাম্মদ আলী, গাজী কামরুল ইসলাম সজল, মির্জা আল মাহমুদ, মো: আহসানউল্লাহ, শরীফ ইউ আহমেদ প্রমুখ।

জয়নুল আবেদীন অভিযোগ করেন, আইন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

বক্তব্য শেষে জয়নুল আবেদীন আগামী রোববার ও সোমবার দেশের সকল জেলা বারের পক্ষ থেকে জেলা জজ ও ডিসি বরাবর স্মারকলিপি প্রদান এবং সুপ্রিম কোর্ট বারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

মাহবুবউদ্দিন খোকন বলেন, আইনমন্ত্রী স্বীকার করেছেন প্রধান বিচারপতি জিওতে স্বাক্ষর করেননি। ব্যক্তিগত সহকারী কর্মকর্তা চিঠি লিখেছেন। প্রধান বিচারপতিকে আজ গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে। তাকে জোর করে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টে অবৈধ কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে। পাকিস্তান থেকে এ পর্যন্ত গত ৭০ বছরেও বিচার বিভাগের ওপর এমন হামলা হয়নি। তিনি বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল, ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেলরা সরকারি চাকরি করেন। আপনারা পদত্যাগ করে রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে অংশ নেন। অন্যায়ের প্রতিবাদ করার কারণে সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতিকে গ্রেফতার করতে পারেন। আমাকেও গ্রেফতার করতে পারেন। কিন্তু প্রধান বিচারপতির পদ সমুন্নত না থাকলে আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার থাকবে না। তিনি আওয়ামী আইনজীবীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা পুলিশের প্রহরায় আসেন। পুলিশ প্রহরায় এসে ধমক দিবেন এটা মেনে নেয়া যায় না। ভবিষ্যতে ধমক দিলে আইনজীবীরা এর কড়া জবাব দেবে।

প্রধান বিচারপতির বাসভবনের উদ্দেশ্যে আইনজীবীদের বিক্ষোভে পুলিশের বাধা : মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা শেষে সুপ্রিম কোর্টে বারের সভাপতি জয়নুল আবেদীন ও সম্পাদক মাহবুবউদ্দিন খোকনের নেতৃত্বে শতাধিক আইনজীবী প্রধান বিচারপতির বাসভবনের উদ্দেশে বিক্ষোভ করে যাত্রা শুরু করেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষারী বাহিনী বাধার কারণে সুপ্রিম কোর্টের মাজার গেট থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হন। সারাদেশে আইন আদালত ও মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা ন্যাশনাল ল’ ইয়ার্স কাউন্সিলের (এনএলসি) ব্যানারে বৃহস্পতিবার দুপুরে আইনজীবীরা প্রধান বিচারপতির বাসার দিকে পদযাত্রা করে। সুপ্রিম কোর্ট বার ভবন থেকে বিক্ষোভ করে আইনজীবীরা মাজার গেটে আসার পর পুলিশ গেট আটকে আইনজীবীদের প্রধান বিচারপতির বাসভবনে যেতে বাধা দেয়।

মাজার গেটে উপস্থিত শাহবাগ থানার পুলিশ কর্মকর্তা বাশার এবং অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা আইজীবীদের সুপ্রিম কোর্টে ফিরে যেতে বলেন। এসময় সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ও সম্পাদক উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের বলেন, আমরা সুপ্রিম কোর্ট বারের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা প্রধান বিচারপতির সাথে দেখা করতে যাব। আইনমন্ত্রী বলেছেন যে কোউ প্রধান বিচারপতির সাথে দেখা করতে যেতে পারেন। আপনারা আমাদের বাধা দেবেন না।

কিন্তু পুলিশ সদস্যরা মাজার গেট বন্দ করে দেন এবং আইনজীবীদের ফিরে যেতে বলেন। পরে আইনজীবীরা শ্লোগান দিয়ে সুপ্রিম কোর্টে ফিরে আসেন। সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনে এসে আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে মাহবুবউদ্দিন খোকন বলেন, পুলিশ আমাদের বাধা দিয়েছে। প্রধান বিচারপতির বাসভবনে যেতে দেয়নি। ভবিষ্যতে আমরা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে প্রধান বিচারপতির বাসভবনে যাব।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫