ঢাকা, মঙ্গলবার,১৭ অক্টোবর ২০১৭

পাঠক গ্যালারি

শান্তির নীড় হোক পরিবার

আনিসুর রহমান এরশাদ

১২ অক্টোবর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৬:৩১ | আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৭:১৩


প্রিন্ট
শান্তির নীড় হোক পরিবার

শান্তির নীড় হোক পরিবার

পরিবার হলো সমাজের মৌলিক কোষ বা সেল, সামাজিক জীবনের প্রথম ক্ষেত্র বা প্রথম স্তর, মানব সমাজের একটি মৌলিক ভিত্তি, শান্তি-সুখের নীড়, পারস্পরিক সহযোগিতামূলক সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। সমাজ গঠনের প্রধান ভিত্তি ও উত্তম সামাজিক প্রতিষ্ঠান পরিবার হচ্ছে- একটি পবিত্র সংস্থা, এক স্থায়ী ও অক্ষয় মানবীয় সংস্থা, সভ্যতার একক, মানুষ গড়ার মূল কেন্দ্র, সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এক অনন্য কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান, মানব বংশের জন্যে এক উপযুক্ত প্রশিক্ষণ-কেন্দ্র।

পারিবারিক জীবন সমাজের প্রাণকেন্দ্র, মানবসমাজের লালনের ক্ষেত্রে দোলনাস্বরূপ, ভালোবাসা-দয়ামায়া-ক্ষমা-করুণার মতো মানবিক গুণাবলির সৃজন ভূমি। কঠিন পৃথিবীর বুকে পরিবার হচ্ছে আপন অস্তিত্ব বিকাশের এক টুকরো মরুদ্যান। এমনকি সভ্যতার ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাচীন প্রতিষ্ঠান পরিবার রাষ্ট্রেরও প্রথম স্তর, সামগ্রিক জীবনের প্রথম ভিত্তিপ্রস্তর। পরিবারেরই বিকশিত রুপ রাষ্ট্র। পরিবার ও সমাজের সুসংবদ্ধ দৃঢ়তার উপর রাষ্ট্রের দৃঢ়তা ও স্থায়িত্ব নির্ভরশীল।

পরিবার এক-একটি দুর্গ, মুখ্যতম প্রতিষ্ঠান। আর পারিবারিক জীবন পবিত্র প্রেম-ভালোবাসা, স্নেহ-মমতা এবং পরম শান্তি ও স্বস্তির কেন্দ্রবিন্দু। পরিবারই মানুষকে প্রদান করেছে সমষ্টিগত ভবিষ্যত নির্মাণের মহান লক্ষ্য আর এ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই মানুষ এক মহান প্রাণী। প্রাচীনকাল থেকেই বিপদ-মুসিবতে পরিবারের সদস্যরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়েছে, পরিবারের সাথে পূর্ণমাত্রায় জড়িত ও একাত্ম হয়ে থেকেছে।

মানুষ পরিবার প্রথা অবলম্বনের মাধ্যমে সভ্যতা সংস্কৃতি নির্মাণ করেছিল আর জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিপুল আয়োজনে পৃথিবীকে সুন্দর করে তুলেছিল। কিন্তু এখন অধিকাংশ পারিবারিক জীবন মন ও প্রাণের গভীর সূক্ষ্ম মিলনসূত্রে গ্রথিত নয়; মন-প্রাণ ও দেহের মিলন ও একাত্মতার নিরাপদ ঠিকানা নয়। পরিবার ও পারিবারিক জীবন অনেকটাই বিপর্যস্ত। অথচ মানুষকে ভালোবাসা, দরদ, প্রীতি, সহানুভূতি প্রভৃতি সুকোমল ভাবধারা থেকে বঞ্চিত করে দিলে তখন আর মানুষ প্রকৃত মানুষ থাকে না। পরিবার প্রথা যেখানে ভগ্নপ্রায়, মানসিক প্রশান্তি সেখানে অনুপস্থিত।

আমাদের দিনের শুরু ও শেষটা হয় ঘর থেকেই। নারী ও পুরুষের সম্মিলিত ও পরস্পরের সম-অধিকারসম্পন্ন যৌথ প্রতিষ্ঠান পরিবার গড়েই ওঠে উচ্চতর এক উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে। উচ্চতর সামাজিক বিধান পরিবারই সমাজকে ইতিবাচক অর্থে সার্থকভাবে কিছু দিতে পারে, যা সুস্থ সামাজিক জীবনের নিশ্চয়তা দেয়। পারিবারিক ভিত্তিকে কেন্দ্র করেই আত্মীয়, সামাজিক সম্পর্ক ও প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে এবং ঐক্যবদ্ধ কাজের মাধ্যমে তা রূপায়িত হয়। শিশুর ব্যক্তিত্ব গঠন ও নারীর সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে এবং মানুষের ব্যক্তিগত মানবিক উন্নয়ন ও বিকাশের ক্ষেত্র হিসেবে পরিবারের কোনো বিকল্প নেই।

পরিবার প্রথা মানুষকে সৃষ্টির সেরা প্রাণী হিসেবে জগতের বুকে স্থান করে দিয়েছে। যুগে যুগে মানুষের কল্যাণ সাধন করে এসেছে। দিনে দিনে এর গুরুত্ব ও কাজের ক্ষেত্র আরও বেড়ে চলেছে। পরিবারই সম্মিলন ঘটায় এমন স্থায়ী সঙ্গী ও একান্ত নির্ভরযোগ্য সাথীদের, যারা জীবনব্যাপী সংগ্রাম অভিযানে সকল ক্ষেত্রে, সকল সময় ও সব রকমের অবস্থায়ই সহচর হয়ে থাকে ছায়ার মতো এবং অকৃত্রিম সঙ্গী-দরদী সাথী-খাঁটি বন্ধু হিসেবে দায়িত্ব পালন করে; হয় প্রকৃত সহযাত্রী ও পরম সান্তনা বিধায়ক আশ্রয়। ব্যক্তির যাবতীয় বিকাশ, মননগত উন্মেষ, ব্যক্তিত্ব গঠিত হয় পারিবারিক অবকাঠামোর ভেতরেই। তাই সমাজ ও সামাজিক জীবনের সাফল্যের জন্যে পরিবার অপরিহার্য।

আমাদের মনে রাখতে হবে- সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা, অগ্রগতি ইত্যাদি পারিবারিক সুস্থতা ও দৃঢ়তার উপরই বহুলাংশে নির্ভরশীল। পরিবার এর লক্ষ্য হচ্ছে এক উন্নত নৈতিক পবিত্র ও নির্দোষ জীবন যাপন। প্রকৃত প্রেম ভালোবাসা ও প্রীতি-প্রণয় পরিবারের মধ্যেই উৎকৃষ্ট ও বিকশিত হয়। তাই সুষ্ঠু রীতি-নীতির ভিত্তিতে পরিবার গঠন, যৌক্তিক আচরণের মাধ্যমে পরিবার সুরক্ষা এবং পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ়করণের মাধ্যমেই সামগ্রিক কল্যাণের পথে অগ্রসর হতে পারে সমাজ। বর্তমান যুগে শিশুদেরকে সামাজিকভাবে বড় করে তোলার জন্য এবং বয়স্কদের মানসিক প্রশান্তির জন্য পরিবারের কোনো বিকল্প নেই।

পরিবার অপরাধ ও হিংস্রতা কমানোর শক্তিশালী মাধ্যম রূপে সামাজিকীকরণে বাস্তব ভূমিকা পালন করে। প্রকৃতপক্ষে শিশুর সঠিক মানসিক বিকাশের জন্য পরিবারের সান্নিধ্য খুবই প্রয়োজন। শান্তি-সুখ-তৃপ্তি-নিশ্চিন্ততা ও নিরবিচ্ছিন্ন আনন্দ লাভ এবং জীবনে সত্যিকারভাবে সাফল্য ও চরম কল্যাণ লাভে দরকারি কর্মপ্রেরণা সুস্থ ও সুন্দর পরিবার থেকেই আসে। পারিবারিক জীবন যদি আদর্শভিত্তিক, পবিত্র ও মাধুর্যপূর্ণ না হয়, তাহলে সমগ্র জীবনের সমগ্র দিক-বিভাগ বিপর্যস্ত, বিষাক্ত ও অশান্তিপূর্ণ হবে- এতে কোনো সন্দেহ নেই।

লেখক : কো-ফাউন্ডার, সেভ দ্য ফ্যামিলি- বাংলাদেশ 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫