ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৯ অক্টোবর ২০১৭

তুরস্ক

মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত তুরস্কের

আনাদোলু

১২ অক্টোবর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০৬:২১


প্রিন্ট
এরদোগান

এরদোগান

তুর্কি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ধের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন-আঙ্কারার মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ব্যাপক টানাপড়েন শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তুরস্ক। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়েব এরদোগান সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত যদি নিজেই তুর্কি নাগরিকদের ভিসা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন তাহলে তার দেশ (তুরস্ক) থেকে তাকে চলে যেতে হবে। আঙ্কারায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে কিছুতেই স্বীকৃতি দেয়া হবে না। 


অন্য দিকে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম এ প্রসঙ্গে বলেন, ওয়াশিংটনের ভিসা বন্ধের কারণে তুর্কি নাগরিক এবং মার্কিন নাগরিক একই সাথে ভোগান্তির শিকার হয়েছে। সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে এক সংবাদ সম্মেলনে এরদোগান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশের ভিসা কার্যক্রম জটিল করে তুলেছে। তিনি আরো বলেন, তুর্কি নাগরিকদের ভিসা কার্যক্রমের সিদ্ধান্ত যদি আঙ্কারায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিজেই করে থাকেন তাহলে তাকে অবশ্যই দেশত্যাগ করতে হবে।


তিনি আরো বলেন, তুরস্কের জনগণ কিছুতেই আঙ্কারায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে স্বীকৃতি দেবে না। বিদেশ সফরের আগে মার্কিন রাষ্ট্রদূত আমার সাথে সাাৎ করতে চেয়েছিলেন; কিন্তু আমি তা প্রত্যাখ্যান করেছি। এরদোগান জোর দিয়ে বলেন, এ ধরনের গোয়েন্দাদের (মার্কিন রাষ্ট্রদূত) কাজ করার সুযোগ দেয়া কোনো দেশের পে সম্ভব নয়।

প্রয়োজন আরব-তুরস্ক ইরান নিরাপত্তা চুক্তি সাবেক সুদানি প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎকার

মিডলইস্ট মনিটর ও আনাদোলু

সুদানের ন্যাশনাল উম্মাহ পার্টির সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী সাদিক আল-মেহদি সৌদি আরব ও মিসরের উদ্যোগে একটি আরব-তুরস্ক-ইরান নিরাপত্তা চুক্তি করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও পরস্পরের জাতীয় সার্বভৌমত্ব মেনে চলার জন্যই এ চুক্তি করা প্রয়োজন। তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এ খবর জানিয়েছে।


‘যে ধারণার ওপর ভিত্তি করে ত্রিপক্ষীয় সহাবস্থান’ তার ব্যাখ্যায় আল মেহদি বলেন, ‘প্রত্যেককেই ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ অধিকারের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে হবে এবং ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের বিভ্রান্তিকর আলোচনার অবসান ঘটাতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘এ ধরনের বিভ্রান্তি ইসরাইলের উগ্র ডানপন্থীদের এ ধারণা পোষণকে উৎসাহিত করবে যে, তারা তাদের আগ্রাসী নীতি চালিয়ে যেতে পারবে ও আরবরা তা মেনে নেবে। আল মেহদি আরো বলেন, ‘প্রত্যেককে অবশ্যই এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করতে হবে যে, আগে আরব ও ফিলিস্তিনিরা যেসব অধিকার ভোগ করত তাদেরকে তা ফিরিয়ে দেয়ার বিনিময়ের সাথেই কেবল ইসরাইলের সাথে তাদের সম্পর্কের বিষয় সংশ্লিষ্ট।’ সুদানের বিরোধীদলীয় এই নেতা ফিলিস্তিনের ফাতাহ ও হামাসের সমঝোতা চুক্তিকে স্বাগত জানান। তা ছাড়া এ চুক্তিতে মিসরের মধ্যস্থতা পালনের ভূমিকারও তিনি প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, আমি আশা করি ঐক্যবদ্ধ ফিলিস্তিন নীতি অনুযায়ী চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা এবং সব পক্ষের জন্য স্থায়ী ক্ষতি সাধনকারী যুদ্ধের অবসানে আরব-তুরস্ক-ইরান সমঝোতা অর্জিত হবে। উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্কট সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, উপসাগরীয় ভাইদের মধ্যে তীব্র মেরুকরণ দুর্ভাগ্যবশত ক্ষতিকর পরিণতির কারণ হয়েছে। ইতিহাসে গোষ্ঠীগত বিভেদ শেষ পর্যন্ত নিরসন করা হয়েছে সহাবস্থান ও পরস্পরের প্রতি সম্মানের মাধ্যমে। উদাহরণ হিসেবে খ্রিষ্টান ক্যাথলিক ও প্রটেস্ট্যান্টদের কথা উল্লেখ করা যায়। তিনি বলেন, আমাদের উচিত পাঁচটি নীতি ঘোষণায় সব পক্ষের চুক্তির নতুন উদ্যোগ নেয়া এবং বিস্তারিত আলোচনা ও চুক্তিতে উপনীত হওয়ার জন্য বৈঠকে বসা।

 
আল মেহদির প্রস্তাবিত পাঁচ মূলনীতি হলোÑ জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি পরস্পরের সম্মান, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি, প্রত্যেক দেশের বাসিন্দাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা, চরমপন্থা-সন্ত্রাসবাদের নিন্দা ও তা মোকাবেলায় সহযোগিতা এবং ফিলিস্তিনি স্বার্থের প্রতি সমর্থন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫