ঢাকা, সোমবার,১১ ডিসেম্বর ২০১৭

উপমহাদেশ

ভারতীয় সেনাবাহিনীতে আত্মহত্যার হিড়িক, ৩ জনে ১টি

ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমস

১২ অক্টোবর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০৬:০২ | আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০৭:২২


প্রিন্ট
ভারতীয় সেনাবাহিনীতে আত্মহত্যার হিড়িক

ভারতীয় সেনাবাহিনীতে আত্মহত্যার হিড়িক

ভারতীয় প্রতিরা মন্ত্রণালয়ের রেকর্ড অনুযায়ী ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিরা বাহিনীর তিন শাখা আর্মি, নেভি ও এয়ার মিলিয়ে প্রতি তিন দিনে গড়ে একজন সেনা আত্মহত্যা করেছেন। তবে এদের বেশির ভাগ সেনাবাহিনীর সদস্য। উল্লিখিত এক হাজার ১৮৫ দিনে দায়িত্বরত ৩৪৮ জন ভারতীয় সেনা আত্মহত্যা করে। 


বিশেষ করে জম্মু-কাশ্মির ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে যারা দীর্ঘ সময় মোতায়েন থাকে তাদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি। তবে এসব আত্মহত্যার পেছনে বেশির ভাগ েেত্র ব্যক্তিগত কারণ জড়িত থাকে বলে প্রতিরা মন্ত্রণালয় মনে করে। বিশেষ করে বাড়িতে জমি নিয়ে বিরোধের কারণে কর্মস্থলে গিয়ে সেনারা আত্মহত্যা করে। উর্দিধারী ব্যক্তি বা তার পরিবারের ােভগুলো নিরসনের ব্যাপারে বেসামরিক কর্তৃপ তেমন গুরুত্ব দেয় না বা উদাসীন থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ওয়েস্টার্ন ফ্রন্টের অগ্রবর্তী ঘাঁটিতে বহু মেয়াদ দায়িত্বপালনকারী এক কর্নেল এসব অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, ‘এসব ঘাঁটিতে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের কারণে একজন সৈনিকের মন ও শরীরের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি হয়। প্রশিণ ও জাতি সেবার চেতনা আমাদের দায়িত্ব পালন করে যেতে বাধ্য করে ঠিকই; কিন্তু কখনো কখনো তা কঠিন হয়ে পড়ে।’

কাশ্মিরে বিমানবাহিনীর ২ কমান্ডোসহ নিহত ৪

এএফপি ও আলজাজিরা

ভারত অধিকৃত জম্মু-কাশ্মিরে ভারতীয় সেনাবাহিনী ও গেরিলাদের মধ্যে সংঘর্ষে বিমানবাহিনীর দুই কমান্ডো ও স্বাধীনতাকামী দুই গেরিলা নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার সকালে কাশ্মিরের বান্দিপোরার হাজিন এলাকায় উভয়পরে মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের সময় তারা প্রাণ হারান। গোরিলাদের বিরুদ্ধে অভিযানের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য সেনাবাহিনীর সদস্যদের সাথে বিমানবাহিনীর কমান্ডোদের শামিল করা হয়েছিল। 


হাজিন এলাকার একটি গ্রামে স্বাধীনতাকামী লস্কর-ই তাইয়েবার সদস্যরা জড়ো হয়েছে বলে খবর পাওয়ার পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ যৌথভাবে সেখানে অভিযান চালায়। কিন্তু উভয়পরে মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার আগেই গেরিলাদের এলোপাতাড়ি গুলির মুখে পড়ে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় কয়েকজন সেনাসদস্য গুলিবিদ্ধ হয়। এদের মধ্যে দুইজন মারা যায়। আহতদের শ্রীনগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। 


এ দিকে গতকাল হাজিন এলাকায় সেনা-গেরিলা সংঘর্ষের পরে সেখানে সতর্কতামূলক পদপে হিসেবে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনী সিআরপিএফের কর্মকর্তা শম্ভু কুমার বলেন, নিহত গেরিলারা লস্কর-ই তাইয়েবার সদস্য। ভোরে ‘সন্ত্রাস দমন’ অভিযানের সময় বন্দুক লড়াই শুরু হয়। সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেন, এ সংঘর্ষে বিমানবাহিনীর কমান্ডো সার্জেন্ট নিলিন্দ কিশোর ও নিলেশ নারায়ণ নিহত হয়। কিশোর মহারাষ্ট্রের নাসিকের বাসিন্দা আর নারায়ণের বাড়ি বিহারের ভাগলপুরে। 


কয়েক দিন আগে কাশ্মিরে ভারতীয় সেনাদের হাতে নিষিদ্ধঘোষিত জইশ-ই-মোহাম্মদের একজন নেতা নিহত হন। জইশ-ই-মোহাম্মদের শীর্ষ সংগঠক উমর খালিদকে হত্যার দাবি করে গেরিলা সংগঠনটি চোখ-কান হারিয়েছে বলে মন্তব্য করে ভারতীয় পুলিশ। সোমবার উত্তর কাশ্মিরের বারামুল্লা জেলার লাধুরায় ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপ খালিদকে হত্যা করে বলে ভারতীয় পুলিশ জানায়। এই ঘটনাকে স্বাধীনতাকামীদের দমনের তথাকথিত ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে বড় সাফল্য’ হিসেবে দাবি করে পুলিশ।


ভারতীয় সেনাবাহিনী চলতি বছরে সন্ত্রাস দমনের নামে ‘অপারেশন অলআউট’ কর্মসূচি চালাচ্ছে। এতে এ পর্যন্ত ১৫০ জনের বেশি নিহত হয়েছে। অন্য দিকে গেরিলাদের সাথে সংঘর্ষে চলতি বছরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৬৯ সেনা নিহত হয়েছে। অপারেশন অল আউটে বিশেষভাবে সক্রিয় গেরিলাদের নির্মূল কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ভারতীয় বাহিনী। তাদের দাবি সীমান্তের ওপার থেকে অনুপ্রবেশের চেষ্টাও ব্যর্থ করে দিচ্ছে তারা। 


তবে দুই দিন আগে জম্মু-কাশ্মিরের বাডগাম জেলায় গেরিলা হামলায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়। সুবেদার রাজকুমার নামে নিহত ওই সেনা সদস্য ৫৩ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসে কর্মরত ছিল। গেরিলাদের সাথে বন্দুকযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় রাজকুমার। সোমবার ভারতীয় প্রতিরা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কর্নেল রাজেশ কালিয়া বলেন, ক্রসফায়ারে ওই সেনা সদস্য নিহত হয়।

একটি সূত্রে প্রকাশ, বাডগামের ড্রাঙ্গে গেরিলাদের সন্ধানে রোববার মধ্য রাতে তল্লাশি অভিযান চালানোর সময় লুকিয়ে থাকা গেরিলারা আচমকা গুলিবর্ষণ করলে ওই সেনা সদস্য উরুতে গুলিবিদ্ধ হন। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ড্রাঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনী ও গেরিলাদের মধ্যে কমপে ২০ মিনিট ধরে বন্দুকযুদ্ধ চলে। কিন্তু অন্ধকারের সুযোগে ঘটনাস্থল থেকে হামলাকারীরা পালিয়ে যেতে সম হয়।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫