ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৯ অক্টোবর ২০১৭

আইন ও বিচার

প্রধান বিচারপতি অন্তরীণ : সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি

বাসভবন অভিমুখে আইনজীবীদের পদযাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ অক্টোবর ২০১৭,বুধবার, ১৬:০১ | আপডেট: ১১ অক্টোবর ২০১৭,বুধবার, ১৮:২৫


প্রিন্ট
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা

সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে অন্তরীণ। তাকে জোর করে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে এবং এখন বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা জানতে পেরেছি প্রধান বিচারপতির সব ধরনের যোগাযোগের মাধ্যম বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে।

জয়নুল আবেদীন বলেন, প্রধান বিচারপতিকে জনসম্মুখে না আনা পর্যন্ত আইনজীবীদের আন্দোলন চলবে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট বারের আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। আরো কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়া হবে।

বুধবার সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনের সভাপতির কক্ষের সামনে সুপ্রিম কোর্ট বার আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সুপ্রিম কোর্ট বারের কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র আইনজীবী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন, নিতাই রায় চৌধুরী, সমিতির সাবেক সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, সমিতির বর্তমান সম্পাদক মাহবুবউদ্দিন খোকন, সাবেক সম্পাদক বদরুদ্দোজা বাদল, কায়সার কামাল, তৈমুর আলম খন্দকার, খালেদা পান্না, গোলাম মো: চৌধুরী আলাল, সুপ্রিম কোর্ট বারের সহ-সভাপতি উম্মে কুলসুম রেখা, বারের সদস্য আয়শা আক্তার, শামীমা সুলতানা দীপ্তি, আবেদ রাজা, মোহাম্মদ আলী, গাজী কামরুল ইসলাম সজল, মির্জা আল মাহমুদ, খালেদা পান্না, রফিকুল ইসলাম তালুকদার রাজা, আরিফা জেছমিন, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, শরীফ ইউ আহমেদ প্রমুখ।

জয়নুল আবেদীন বলেন, আইনজীবীরা জানতে চায় প্রধান বিচারপতিকে কারা ছুটিতে পাঠিয়েছে। তিনি নজরবন্দী আছেন কি-না তা আইনজীবীরা জানতে চায়। তিনি বলেন, অনেকে চাকরি রক্ষার জন্য আওয়ামী লীগ সমর্থিত বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সভায় অংশ নিয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল, ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলরা সরকার সমর্থক আইনজীবীদের সভায় অংশ নিয়েছে। এদের অনেকে চাকরি বাঁচানোর জন্য তাদের আন্দোলনে যোগ দিতে বাধ্য হয়েছে।

মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন বলেন, আমাদের আন্দোলন বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আন্দোলন। সরকার বিচার বিভাগের উপর যে নগ্ন হস্তক্ষেপ করেছে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন। আইনজীবীদের আন্দোলনে জালিম সরকারের পতন হবে।

মাহবুবউদ্দিন খোকন বলেন, ভারতীয় টিভি চ্যানেল জি টিভিতে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে প্রধান বিচারপতিকে জোর করে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। এতে আরো বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে তিনি প্রথম হিন্দু প্রধান বিচারপতি। এজন্য তিনি বৈষম্যের শিকার।

প্রধান বিচারপতির বাসভবন অভিমুখে আইনজীবীদের পদযাত্রা
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বাসভবনের দিকে বুধবার পদযাত্রা করেন সুপ্রিম কোর্টের ২৫-৩০ জন তরুণ আইনজীবী। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাধার কারণে সুপ্রিম কোর্টের মাজার গেট থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হন।


সারাদেশে আইন আদালত ও মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা ন্যাশনাল ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের (এনএলসি) ব্যানারে দুপুরে আইনজীবীরা প্রধান বিচারপতির বাসার দিকে পদযাত্রা করে। তারা সুপ্রিম কোর্ট বার ভবন থেকে পদযাত্রা শুরু করে সুপ্রিম কোর্টের মাজার গেট দিয়ে বের হতে চাইলে পুলিশ তাদেরকে বাধা দেয়। মাজার গেটে উপস্থিত শাহবাগ থানার পুলিশ কর্মকর্তা বাশার আইনজীবীদের সুপ্রিম কোর্টে ফিরে যেতে বলেন। এসময় এনএলসির প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডভোকেট এসএম জুলফিকার আলী জুনু এবং সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সহ-সম্পাদক আ্যাডভোকেট এবিএম রফিকুল হক তালুকদার রাজা বলেন, আইনমন্ত্রী বলেছেন যে কেউ প্রধান বিচারপতির সাথে দেখা করতে যেতে পারেন। আমরা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, তিনি কি অবস্থায় আছেন সে সম্পর্কে জানার জন্য আমরা দেখা করতে চাই। আমাদের বাধা দেবেন না, যেতে দেন। কিন্তু পুলিশ তাদের যেতে বাধা দেয়। এতে আইনজীবীরা সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে প্রধান বিচারপতি কোথায় আছে এনএলসি জানতে চায়সহ বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে সুপ্রিম কোর্টে ফিরে যান।

বাধা দেয়ার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন আইনজবী এসএম জুলফিকার আলী জুনু বলেন, প্রধান বিচারপতি এখন কোথায় আছেন? কেমন আছেন? তা জানতে আমরা তার বাসার দিকে রওয়া নিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমাদের পদযাত্রায় বাধা দিয়ে অন্যায় করেছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনএলসির উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সহ-সম্পাদক এবিএম রফিকুল হক তালুকদার রাজা, আইয়ুব আলী আশরাফি, নাছির উদ্দীন খান সম্রাট, আহসান উল্লাহ, আকবর হোসেন, এনএলসির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হেমায়েত উদ্দিন বাদশা, আমিনুল ইসলাম মুকুল, নিজাম উদ্দিন, শামীম প্রমুখ।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫