ঢাকা, বুধবার,১৩ ডিসেম্বর ২০১৭

গবেষণা

ডুরিয়ান ফলের দুর্গন্ধের রহস্য উদঘাটন

বিবিসি বাংলা

১১ অক্টোবর ২০১৭,বুধবার, ০৯:৫০ | আপডেট: ১১ অক্টোবর ২০১৭,বুধবার, ১০:০৮


প্রিন্ট
ডুরিয়ানের তীব্র গন্ধের রহস্য ভেদ করেছেন কজন বিজ্ঞানী

ডুরিয়ানের তীব্র গন্ধের রহস্য ভেদ করেছেন কজন বিজ্ঞানী

 

তীব্র গন্ধের কারণে কাঁঠালের মত দেখতে ডুরিয়ান নামের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই ফলটির বহু দুর্নাম।
অনেক মানুষ ডুরিয়ানের গন্ধ একবারেই সহ্য করতে পারেন না। যারা অভ্যস্ত নন তারা সহ্যই করতে পারেননা।
ডুরিয়ানের কেন এই গন্ধ বা দুর্গন্ধ - সেই রহস্য উদঘাটন করেছেন সিঙ্গাপুরের কজন বিজ্ঞানী। যে জিনের কারণে এই গন্ধ - সেটি খুঁজে পেয়েছেন তারা।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, জিনগত পরিবর্তন ঘটিয়ে এখন হয়তো গন্ধ-বিহীন ডুরিয়ান ফলানো সম্ভব হবে। তবে এ সম্ভাবনায় অনেক ডুরিয়ান ভক্ত নাখোশ।
রিচি লিয়াং নামে সিঙ্গাপুরের এক বাসিন্দা তার ফেসবুক পাতায় লিখেছেন, "গন্ধ ছাড়া ডুরিয়ান হবে নেহাতই একটি খোলস, একজন মানুষ তার আত্মা খুইয়ে ফেললে তার যে অবস্থা দাঁড়াবে, ডুরিয়ান থেকে গন্ধ চলে গেলে ফলটির অবস্থা তেমন হবে।"
তিন বছর ধরে গবেষণা চালিয়ে একদল ক্যান্সার গবেষক এই ফলটির জিন ম্যাপ বের করে ফেলেছেন। স্বনামধন্য সাময়িকী নেচার জেনেটিক্সে তাদের গবেষণার ফলাফলটি প্রকাশিত হয়েছে।

কেন এত দুর্গন্ধ ডুরিয়ানে
বিজ্ঞানী প্যাট্রিক ট্যান বলছেন, ফলটির জিনগত গঠনই এমন যে এর মধ্যে অতিরিক্ত সালফার তৈরি হতে থাকে। আর তীব্র গন্ধ সে কারণেই।
তিনি বলেন, গন্ধের কারণে প্রকৃতিতে বংশ বিস্তারে সুবিধে হয় ডুরিয়ানের। বহু দুর থেকে গন্ধ পেয়ে বানর সহ জঙ্গলের অনেক জীবজন্তু এই ফলের প্রতি আকৃষ্ট হয়। ফলে তাদের মাধ্যমে সহজে বীজ ছড়ায়।
গন্ধের কারণের পাশাপাশি, ডুরিয়ান ফলের জন্মের ইতিহাস আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। ধারণা করা হয়, কোকো প্রজাতির এই গাছের জন্ম এখন থেকে ৬৫ মিলিয়ন বছর আগে।
বিজ্ঞানী জাকারি টে মজা করে লিখেছেন, "সুতরাং আমরা যখন ডুরিয়ান খাই, তখন আসলে আমরা চকলেট খাই।"

রাজকীয় ফল ডুরিয়ান
আগেকার দিন হলে বলা হতো রাজার খায়েস। কিন্তু এখন রাজা দুর্লভ হলেও ধনকুবেরের তো আর অভাব নেই। আর সেরকম একজনের যদি কোনো খায়েস জাগে তাহলে?

ম্যাকাওয়ের ধনাঢ্য জুয়ারি স্টেনলি হোর খায়েস হয়েছিল ডুরিয়ান ফল খাওয়ার। আর তাই সঙ্গে সঙ্গে ম্যাকাও থেকে সিঙ্গাপুরে উড়ে গেল ব্যক্তিগত জেট বিমান। তবে এ বছর ফলটি দুষ্প্রাপ্য বলে মাত্র ৮৮টি ফল নিয়ে বিমানটি ফিরে যায় ম্যাকাও।
আগেকার দিন হলে বলা হতো রাজার খায়েস। কিন্তু এখন রাজা দুর্লভ হলেও ধনকুবেরের তো আর অভাব নেই। আর সেরকম একজনের যদি কোনো খায়েস জাগে তাহলে?

ম্যাকাওয়ের ধনাঢ্য জুয়ারি স্টেনলি হোর খায়েস হয়েছিল ডুরিয়ান ফল খাওয়ার। আর তাই সঙ্গে সঙ্গে ম্যাকাও থেকে সিঙ্গাপুরে উড়ে গেল ব্যক্তিগত জেট বিমান। তবে এ বছর ফলটি দুষ্প্রাপ্য বলে মাত্র ৮৮টি ফল নিয়ে বিমানটি ফিরে যায় ম্যাকাও।
ডুরিয়ান ফলটি সিঙ্গাপুরে আসে মালয়েশিয়া থেকে। কিন্তু ডুরিয়ান কী এমন ফল যার জন্য একজনকে ব্যক্তিগত বিমান পাঠাতে হয়েছে? দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে ডুরিয়ানকে বলা হয় ফলের রাজা।

বাণিজ্যিক বিমানে এ ফল বহন করা নিষিদ্ধ। তাতে কী, স্টেনলি হোর ব্যক্তিগত বিমান আছে না!
তো জেট বিমান নিয়ে হোর প্রতিনিধিরা ছুটলেন সিঙ্গাপুরের তেলক কুড়াও রোডে। ৮১৮ ডুরিয়ান স্টল নামের দোকান থেকে কিনে নিলেন ৮৮টি ডুরিয়ান। তাদের অবশ্য ৯৮টি ডুরিয়ান কেনার কথা ছিল।

এ বছর আবহাওয়া খারাপ থাকায় ডুরিয়ানের ফলন খুব একটা ভালো হয়নি। কী আর করা ! ৮৮টি ডুরিয়ান কিনেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে স্টেনলি হোর লোকদের।
সবগুলো কিনতে ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৬৫ ডলার বা প্রায় দেড় লাখ টাকা। আর স্টেনলি হো সব ডুরিয়ান একা সাবাড় করেননি। তার ধনেকুবের বন্ধু লি কা-সিঙ্গকে ১০টি উপহার দিয়েছেন।
যে ডুরিয়ানকে নিয়ে এতো মাতামাতি এর আকার ৬ থেকে ৭ ইঞ্চি। আর ওজন হয় এক থেকে তিন কিলোগ্রাম পর্যন্ত। গায়ের রঙ সবুজথেকে বাদামি।

ডুরিয়ানের বাইরের আবরণ কিছুটা আমাদের কাঁঠালের মতো। এর আছে মনমাতানো গন্ধ। বর্তমানে ৩০ প্রজাতির ডুরিয়ান পাওয়া যায়। তবে খাওয়া যায় ৯ প্রজাতির ডুরিয়ান। দক্ষিণ পূর্ব-এশিয়ায় মিষ্টিজাতীয় খাবারের সঙ্গে ডুরিয়ান ফল পরিবেশন করা হয়। এর বিচিও রান্না করে খাওয়া যায়।

ব্রুনাই, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ায় এবং ফিলিপাইনে এ ফল বেশি জন্মে। এছাড়া শ্রীলংকা, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, ভারত, চিন, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রালিয়া ও মালয়েশিয়ায় ডুরিয়ান পাওয়া যায়।

তবে যেসব দেশ আন্তর্জাতিক বাজারে ডুরিয়ান বাজারজাত করে তার মধ্যে অন্যতম থাইল্যান্ড। বিংশ শতাব্দী থেকে বাণিজ্যিকভাবে ডুরিয়ানের উৎপাদন শুরু হয় এবং ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
ভিয়েতনামের ব্যবসায়ী নিকোলো ডা কোন্টি ১৫০০ শতাব্দীতে চীন ও পশ্চিম এশিয়া সফর করেন। ওই সময় তিনি যেসব ফলের নাম লিখে গেছেন তার মধ্যে ডুরিয়ান ছিল।

১৫৬৩ সালে প্রকাশিত পর্তুগিজ ডাক্তার গার্সিয়া ড্যা ওরটির লেখা ‘সিম্পল ই ডগাস ডি ইন্ডিয়া’ বইয়ে ডুরিয়ান ফলের কথা লেখা আছে। আর ফলের রাজা ডুরিয়ানের সঙ্গে পশ্চিমাদের পরিচয়ও বেশ পুরনো, আনুমানিক ছয়শ বছরের। ঊনবিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ প্রকৃতিবিদ আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস তার বইয়ে উল্লেখ করেছেন, ডুরিয়ান কাসটার্ড বানোর জন্য খুবই উপযোগী।
ডুরিয়ানে প্রচুর চিনিজাতীয় উপাদান আছে। এছাড়া ভিটামিন সি, পটাসিয়াম, কার্বোহাইড্রোজ, চর্বি এবং প্রচুর প্রোটিনও রয়েছে। শরীর মোটা করতে ডুরিয়ান খুব ভালো কাজ করে। ডুরিয়ান গাছের পাতা ও মূল জ্বর নিরাময়ে ওষুধের কাজ করে।

পরিচিতি
অনেকেই ফলটির সাথে পরিচিত না। কারন এই ফলটি কোন দেশে রপ্তানি করা আইনত অপরাধ তাই ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, সিংগাপুর মালয়েশিয়া ছাড়া অন্য দেশ গুলোতে এটা খুব একটা দেখা যায়না। এটি মালয়েশিয়ার জাতীয় ফল।
গঠন অনেকটা বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঠালের মত। কাঠালের থেকে ডরিয়নের কাটা গুলো একটু বড় হয় এবং ধারালো হয়। ভিতরে কাঠালের মত কোষ হয় তবে সাইজে একটু বড়।

একটা ডরিয়নের ৪টা থেকে ৫ টা ফালি বা অংশ থাকে প্রথেকটা অংশে ১/২টা কোষ বা রোয়া থাকে। গাছ দেখতে অনেকটা কাঠাল গাছের মতো বড় এবং মজবুত।
এটা লিখে বা বলে বোঝানো জাবেনা এতো মাদকাময় একটি স্বাধ যে খেয়ে অভ্যস্ত তাকে খেতেই হবে। তবে প্রথম প্রথম এটা কোন বাংলাদেশি খেতে পারবেনা কারন এটার গন্ধটা প্রথমত বুনো মনে হয় এবং ঝাজালো মনে হয়। কিন্তু কয়েকবার খেলে শুধু খেতে মন চায়।
এই ডরিয়ন শুধু কাঠালের মত খাওয়া যায় তা নয় বরং ডরিয়ন দিয়ে অনেক ধরনে কয়ে (পিঠা) তৈরি করা হয় যা মালয়েশিয়ানদের খুব প্রিয়।
ডরিয়ন বিদেশ রপ্তানি করা না গেলেও এই কয়ে বা পিঠা বিদেশে প্রচুর পরিমানে রপ্তানি হয়।
প্রতিবছর এদেশে রাষ্ট্রপ্রধানের আয়োজনে ডরিয়নের উৎসব হয় সে খানে যে যতো ডরিয়ন খেতে পারে ধরনের প্রতিযোগিতা হয়।
সৃষ্টি কর্তার অশেষ রহমত এই ফলটি গাছ থেকে পাড়তে হয়না পাকলে এমনিতেই পড়ে গাছতলায়।

একবার চিন্তা করে দেখুন আমার মতো টাক্কু লোক যদি গাছের তলাদিয়ে যায় আর বেল না পড়ে যদি ওই কাটা ওয়ালা একটা ডরিয়ন মাথায় পড়ে তাহলে আমার কি অবস্থা হবে! এখানে ই আল্লাহর রহমত দিনের বেলায় কখনও ডরিয়ন গাছ থেকে পড়েনা শুধুমাত্র রাত্রিবেলায় এই ফলটি গাছতলায় পড়ে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫