ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ দাবানলে নিহত ১০, জরুরি অবস্থা জারি

নয়া দিগন্ত অনলাইন

ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় কমপক্ষে ১০ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এতে বাধ্য হয়ে হাজার হাজার মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছে। দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।

সোমবার কর্তৃপক্ষ একথা জানিয়েছে।

খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় রোববার রাতে দাবানল ছড়িয়ে পড়ার পর ক্যালিফোর্নিয়ার সানোমা কাউন্টিতেই সাতজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে নাপা, সানোমা ও ইয়ুবা কাউন্টি থেকে ২০ হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ঘর ছেড়েছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর জরুরি অবস্থার ঘোষণায় বলেছেন, দাবানলের কারণে ঘরবাড়ি পুড়ে যাচ্ছে। আরো অসংখ্য ঘরবাড়ি হুমকির মুখে। এই মুহূর্তে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যেতে হবে। ওইসব অঞ্চলের হাজারো মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে আনতে হবে।

খবরে বলা হয়, এখন পর্যন্ত সানোমা কাউন্টিতে সাতজন, নাপায় দু’জন ও মেনডোসিনোতে একজন মারা গেছেন।

ক্যালিফোর্নিয়ার ফায়ার সার্ভিস জানায়, এলাকায় হাজার হাজার একর ভূমিতে আগুন জ্বলছে। এতে অনেকের দগ্ধ ও নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার বন ও অগ্নি প্রতিরোধ বিভাগের প্রধান কিম পিমলট বলেন, প্রায় ১ হাজার ৫শ’ ঘরবাড়ি ইতিমধ্যে আগুনে পুড়ে গেছে।

খবরে বলা হয়, প্রচণ্ড বাতাস, কম আর্দ্রতা ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার ফায়ার সার্ভিস জানায়, ইতোমধ্যে দাবানলে প্রায় ৭৩ হাজার একর এলাকা পুড়ে গেছে।

একজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, দাবানল থেকে বাঁচতে তিনি এবং তার প্রতিবেশীরা দাবানল থেকে বাঁচতে গাড়িতে করে এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন।

মারিয়ান উইলিয়ামস নামের সে বাসিন্দা বলেন, "এতো বড় আগুনের শিখা আর কখনো দেখা যায়নি।"

তবে কিভাবে দাবানলের সূচনা হয়েছিল সেটি এখনো জানা যায়নি।

দাবানলের তীব্রতা এবং বিস্তৃতির কারণে দমকল কর্মীরা তাদের কাজ পুরোপুরি করতে পারছেন না।

রাজ্যের অন্যান্য জায়গা থেকে আরো অগ্নি নির্বাপণ কর্মী এবং যন্ত্রপাতি আনা হচ্ছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, শুষ্ক আবহাওয়া এবং বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে যাচ্ছে।

ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে এর আগে বিভিন্ন সময় দাবানলে ৭০ হাজার একর জায়গা নষ্ট হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরে ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে ইতিহাসের ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছিল।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.