ঢাকা, মঙ্গলবার,১২ ডিসেম্বর ২০১৭

বিবিধ

ঢাকায় যত পাঠাগার

সুমনা শারমিন

০৯ অক্টোবর ২০১৭,সোমবার, ১৮:১১


প্রিন্ট
ঢাকায় যত পাঠাগার

ঢাকায় যত পাঠাগার

বই মানুষের পরম বন্ধু। বইই পারে মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে ঠেলে দিতে। বই পড়া থেকে আনন্দ, বুদ্ধি ও সক্ষমতা অর্জিত হয়। বই শাশ্বত, বই চিরতরুণ। বইয়ের গ্রহণযোগ্যতা ফুরালেও প্রয়োজনীয়তা ফুরানোর নয়। বই পড়া শুধু যে আপনাকে মানসিক শক্তি দেয় তাই নয়, বরং মানসিকভাবে সুস্থও করবে। যুগে যুগে, কালে কালে সভ্যতার ক্রমবিকাশে বই আলোর পথ দেখিয়ে যাচ্ছে। ঢাকার বুকে বেশ কিছু লাইব্রেরি আছে, যেখানে ইচ্ছেমতো বই পড়তে পারবেন। ঢাকার পাঠাগার নিয়ে লিখেছেন সুমনা শারমিন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র
আমাদের দেশে বই পড়া নিয়ে সবচেয়ে বেশি কাজ করেছেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। ‘আলোকিত মানুষ চাই’ স্লোগানকে লালন করে ১৯৭৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর যাত্রা শুরু করে ‘বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র’। ঢাকার বাংলামোটরের বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের লাইব্রেরিতে গিয়ে বই পড়তে পারবেন। লাইব্রেরি বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে। মঙ্গলবার সাপ্তাহিক ছুটি। লাইব্রেরিতে গিয়ে আপনি বই পড়তে চাইলে তার জন্য সদস্য হতে হবে না। তবে বাড়িতে বই নিতে চাইলে সদস্য হতে হয়। ৩০০, ৬০০ ও ১২০০ টাকা জামানত দিয়ে সদস্য হওয়া যায়। যত টাকা দিয়ে সদস্য হবেন, ওই দামের মধ্যে সর্বোচ্চ দু’টি বই নিতে পারবেন দুই সপ্তাহের জন্য। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ‘বই বিক্রয় কেন্দ্র’ থেকে বই কিনতেও পারবেন, লাইব্রেরির সদস্য হলে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ কমিশন পাবেন। ঢাকাসহ দেশের বেশির ভাগ স্থানে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি যায়, চাইলেই সেখানে সদস্য হয়ে বই বাড়িতে নিয়ে পড়তে পারবেন।

পাবলিক লাইব্রেরি, শাহবাগ
‘পড়িলে বই, আলোকিত হই। না পড়িলে বই, অন্ধকারে রই’ এমন স্লোগান শাহবাগের পাবলিক লাইব্রেরির। প্রায় দুই লাখ বইয়ের এক বিশাল রাজ্য সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগার বা কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগার বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পাঠাগার। এ গ্রন্থাগারটি ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ঢাকার শাহবাগের এই গ্রন্থাগারটির প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি ও বেসরকারি গ্রন্থাগার পরিচালিত হচ্ছে। শাহবাগের পাবলিক লাইব্রেরিতে বই পড়তে যেতে পারেন। পাবলিক লাইব্রেরিতে প্রতিদিনই দুই-আড়াই হাজার পাঠক বই পড়েন। এখানে পাঠকদের জন্য ফ্রি ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ের ব্যবস্থাও আছে।
বইয়ের কোনো অংশ প্রয়োজন হলে সেটা ফটোকপি করারও ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া কেউ ৫০০ টাকা দিয়ে সদস্য হয়ে দু’টি বই বাড়িতে নিয়ে যেতে পারবেন।
এই গ্রন্থাগারে দুর্লভ ও ঐতিহাসিক মূল্যমানের প্রায় দুই লাখ চার হাজার ৯৭৪টি বই আছে। এসব বইয়ের মধ্যে আছে বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, আরবি ও ফারসি ভাষার বই। দেশের বেশির ভাগ দৈনিক পত্রিকা ও সাময়িকীর কপি এই গ্রন্থাগারের সংগ্রহে আছে।

ব্রিটিশ কাউন্সিল
ফুলার রোডে ব্রিটিশ কাউন্সিলের লাইব্রেরিতে ইংরেজি বইয়ের কালেকশন ভালো। ওখানে গিয়ে পড়তে পারবেন, এর জন্য মেম্বার হতে হয় না। এখানেও মেম্বার হয়ে বই বাসায় নিয়ে পড়ার সুযোগ আছে। স্বাভাবিকভাবেই এখানে মেম্বারশিপ ফি একটু বেশি। লাইব্রেরির তিন মাসের সদস্য চাঁদা ৭০০ টাকা, ছয় মাসের জন্য ১২০০ টাকা এবং এক বছরের সদস্য চাঁদা ২০০০ টাকা। ব্রিটিশ কাউন্সিলের সমৃদ্ধ লাইব্রেরিতে রাজনীতি, সমাজনীতি, বিজ্ঞান, আইন, চিকিৎসা, শিক্ষা, জেন্ডারসহ অনেক বিষয়ভিত্তিক পাঠ্যবইয়ের এক বিশাল সম্ভার এটি। ব্রিটিশ কাউন্সিল লাইব্রেরির সদস্য হয়ে বই পড়ার মাধ্যমে নিজের জানার পরিধিকে বিস্তৃত করতে পারেন। ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের অনেক সুযোগ রয়েছে এখানে। গ্রন্থাগারের ইংলিশ জোনে আছে ইংরেজি ভাষা সাহিত্য, ব্যাকরণ, পাঠ, লেখা, শোনা ও ভোকাবুলারিসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর পাঁচ হাজারেরও বেশি বই, অডিও-ভিডিও ক্যাসেট এবং সিডি, যা ইংরেজি জানতে ও শিখতে বেশ সহায়ক।

আবদুর রাজ্জাক বিদ্যাপীঠ
ঢাকার ধানমন্ডি ৮ নম্বর ব্রিজের পাশে রবীন্দ্র সরোবরের ঠিক সামনে আছে জ্ঞানতাপস আবদুর রাজ্জাক বিদ্যাপীঠের লাইব্রেরি। এটির সুবিধা হলো, এটি সপ্তাহের সাত দিনই খোলা থাকে সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। তবে এখান থেকে বই বাড়িতে নেয়া যায় না, এখানে বসেই পড়তে হয় এবং এ জন্য সদস্য হতে হয়। তবে সদস্য হতে কোনো ফি লাগে না। এক কপি পাসপোর্ট সাইজ এবং এক কপি স্ট্যাম্প সাইজের ছবি আর যেকোনো একটি আইডির ফটোকপি নিয়ে ওখানে গেলেই আপনার মেম্বারশিপ হয়ে যাবে এবং লাইব্রেরি ব্যবহার করতে পারবেন। সব থেকে বড় কথা এদের সংগ্রহটা বেশ ভালো, বেশ দুর্লভ কিছু বই এখানে পাওয়া যায়।

এশিয়াটিক সোসাইটি
গবেষণামূলক বই পড়তে হলে আসতে হবে এখানে। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে খোলা থাকে এশিয়াটিক সোসাইটি লাইব্রেরি। চাঁনখারপুলে অমর একুশে হলের পাশে ‘এশিয়াটিক সোসাইটি’র লাইব্রেরিটা থেকে বই কেনাও যায়। এটি মূলত গবেষকদের জন্য। কেবল সদস্যরা লাইব্রেরিটি ব্যবহার করতে পারেন। গবেষকরা খুব সহজেই এ অনুমতি পেতে পারেন।

দীপনপুর
রাজধানী ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডে নতুন করে যেন গড়ে উঠেছে বইপ্রেমীদের এক স্বপ্নের ভুবন ‘দীপনপুর’। এখানে থরে থরে সাজানো আছে নতুন ও পুরনো লোভনীয় সব বইয়ের সমাহার, তেমনই সেখানে বসে বই পড়ার ব্যবস্থাটাও বেশ চমৎকার। এর এক কোণে নিভৃতে বসে বই পড়ার সুযোগ যেমন আছে, আবার আরেক কোণে গড়ে উঠেছে ‘ক্যাফে দীপাঞ্জলি’, যেখানে পড়ুয়ারা কফির মগে চুমুক দিতে দিতে বা হালকা কিছু খেতে খেতেই বই পড়তে পারবেন, আবার চাইলে সমমনাদের সাথে নিয়ে বইয়ের গল্প আর আড্ডায়ও মেতে উঠতে পারবেন। শিশুদের জন্য এখানে রয়েছে ‘দ্বীপান্তর’। দেয়ালে আঁকা ছবিগুলো শিশুদের কল্পনারাজ্যকে যেমন আরো বিকশিত করে দিতে পারে, তেমন এখানকার বইয়ের তাকগুলোও চমৎকার সব শিশুতোষ বইয়ে পরিপূর্ণ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি
ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর গবেষণাসহ সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে ইসলামি জ্ঞান বিকাশের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির লক্ষ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশন লাইব্রেরির কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিটি বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে সাহানের ওপর অবস্থিত। এখানে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর প্রায় এক লাখ তেইশ হাজার বই আছে। দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক ও সাময়িকী মিলিয়ে নিয়মিত প্রায় ৫০টি পত্রিকা রাখা হয়। চারতলাবিশিষ্ট লাইব্রেরির প্রতিটি ফ্লোরে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসংবলিত আলাদা আলাদা পাঠকক্ষের ব্যবস্থা আছে।

শিল্পকলা একাডেমি লাইব্রেরি
ঢাকার রমনায় সেগুনবাগিচা এলাকার দুর্নীতি দমন কমিশনের বিপরীতে অবস্থিত শিল্পকলা একাডেমি ভবনের তৃতীয়তলায় লাইব্রেরিটির অবস্থান। ১৯৭৪ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। লাইব্রেরিটি সবার জন্য উন্মুক্ত। এখানে সদস্য হওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই, বই বাসায় নেয়ারও সুযোগ নেই।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫