এ কেমন আপস

তোফাজ্জল হোসেন বোদা, পঞ্চগড়

সব কিছুতেই কি আপস করা চলে? নাকি সব কিছুতে আপস করা যায়। কিন্তু তার পরও আমাদের সমাজে ভয়ানক সব ঘটনারও আপস হয়। আর সে আপস সমাজ ও সমাজের মানুষদের আরো অসহায় করে দেয়। আর বিচারহীনতার কালো থাবা প্রভাব বিস্তার করে সমাজে। এমনই এক আপসের ঘটনা ঘটেছে বোদায়। বোদায় শিক্ষা অফিসারের স্কুল পরিদর্শনের পরেই দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে শিক্ষকের যৌন নিপীড়নের ঘটনাটি আপস হয়ে গেল। ঘটনাটি ঘটেছে বোদা উপজেলার খারিজা ঝলই ভক্তরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। জানা গেছে, ওই স্কুলের সহকারী শিক্ষক নিজামউদ্দীনের বিরুদ্ধে ছয়ফুল ইসলাম নামে এক ছাত্রীর বাবা ‘শিশু নির্যাতনকারী সহকারী শিক্ষক নিজামউদ্দীনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য’ লিখিতভাবে (৬ সেপ্টেম্বর) স্কুলের প্রধানশিক্ষক বরাবরে অভিযোগ করেছেন। নির্যাতিত ছাত্রীটি এ ব্যাপারে (১৩ সেপ্টেম্বর) বলে, নিজাম স্যার পরনের প্যান্ট খুলে খারাপ আচরণ করেছে। লিখিত অভিযোগটি মিডিয়াকর্মীদের সরবরাহের সময়ে নির্যাতিত ছাত্রীর বাবা অভিযোগকারী মো: ছয়ফুল ইসলাম ও মাতা মহসিনা বেগম স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে বলেন, নরপশু শিক্ষক নিজামউদ্দীনের বিচারের জন্য লিখিতভাবে প্রধান শিক্ষক এবং সভাপতি বরাবরে অভিযোগ করেছি। অভিযুক্ত শিক্ষক নিজামউদ্দীন ১৪ সেপ্টেম্বর মোবাইলে বলেন, স্কুলের সভাপতি ও প্রধানশিক্ষকের নেতৃত্বে আপস করেছি। এ ব্যাপারে স্কুলের প্রধানশিক্ষক গিরেন চন্দ্র বর্মণ বলেন, দেড় লাখ টাকায় আপস করা হয়েছে। ছাত্রীর বাবাকে এক লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। যৌননিপীড়নের ঘটনাটি আপস করার অধিকার আছে কি না। জিজ্ঞেস করলে তিনি পত্রিকার না লেখার জন্য বারবার অনুরোধ করেন। বোদা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু ইউসুফ ভূঁইয়া বলেন, আমি ১৪ সেপ্টেম্বর স্কুল পরিদর্শন করেছি। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ইতঃপূর্বেও কয়েকটি নারী নির্যাতনের ঘটনা এলাকার সবার কাছ থেকে জানা গেছে। শিক্ষা অফিসার স্কুল পরিদর্শনের এক ঘণ্টা পরেই ছাত্রীকে যৌননির্যাতনের ঘটনাটি দেড় লাখ টাকায় আপস হয়ে যায়। আপস করার সাথে জড়িত সবার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.