যৌতুকের জন্য জীবন দিতে হলো মিমিকে

মো. জাহাঙ্গীর আলম কিশোরগঞ্জ

অন্য আর পাঁচটি মেয়ের মতো মিমিও অনেক স্বপ্ন নিয়ে সংসার শুরু করেছিলেন। কিন্তু সে সংসারে শান্তি ছিল না। যৌতুকের জন্য নির্যাতন সহ্য করতে হতো মিমিকে। তারপর শত অত্যাচার সহ্য করে সংসারে টিকে ছিল মিমি। মিমি অন্তঃসত্ত্বা ছিল। তারপর তার পাষাণ্ড স্বামী যৌতুকের জন্য অত্যাচার বন্ধ করেনি। আর শুধু যৌতুকের জন্য পিটিয়ে মেরে ফেলেছে মিমিকে। এমন নির্মম ঘটনার আগে তারা মিমির সন্তানটির কথাও ভাবেনি। বরং মুখে বিষ ঢেলে মৃত্যুকে নিশ্চিত করেছে।
ঘটনাটা কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে। যৌতুক নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা করে হাসপাতালের বারান্দায় লাশ ফেলে ঘাতক স্বামীসহ স্বজনেরা পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছে হতভাগা গৃহবধূর পরিবার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের ভরুয়া গ্রামের মো: রাসেল মিয়ার স্ত্রী ফারজানা আক্তার মিমিকে (২০) স্বামী ও পরিবারের লোকজন মিলে যৌতুকের জন্য পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এ সময় গৃহবধূ জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তার মুখে বিষ ঢেলে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে তাকে হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত কিশোরগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে গৃহবধূ মিমির মৃত্যুর বিষয়টি টের পেয়ে জনরোষের ভয়ে ঘাতক স্বামী রাসেল মিয়াসহ স্বজনরা কিশোরগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালের বারান্দায় মিমির লাশ ফেলে পালিয়ে যায়। ঘটনাটি জানাজানি হলে মিমির পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এলেও স্বামীর পরিবারের লোকজন ভয়ে বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপন করে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত গৃহবধূর বাবা মো: নুরুল ইসলাম জানান, যৌতুকের জন্য প্রায়ই তার মেয়েকে মারধর করত। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকত। তিনি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। তবে গৃহবধূর স্বামী রাসেল মিয়া ও স্বজনরা পলাতক থাকায় তাদের কোনো বক্তব্য নেয়া সম্ভব না হলেও তাদের বিয়ের স্বাক্ষী মো: শহীদ মিয়া জানান, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হতো। তিনি নিজ উদ্যোগে বহুবার মীমাংসা করে দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
এ ব্যাপারে হোসেনপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মো: আবুল হোসেন জানান, কিশোরগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ লাশের সুরতহাল রিপোর্টের পর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন। হোসেনপুর থানায় এখনো মামলা হয়নি। মামলা হলে এ বিষয়ে তিনি কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.