ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৯ অক্টোবর ২০১৭

সংসদ

তামাক পণ্যের সারচার্জ হাসপাতালে দেয়ার সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

সংসদ প্রতিবেদক

০৮ অক্টোবর ২০১৭,রবিবার, ২০:০১


প্রিন্ট

তামাকজাত পণ্য থেকে পাওয়া সারচার্জের অর্থ সরকারি হাসপাতালগুলোর সেবার মানোন্নয়নে ব্যবহার করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

আজ রোববার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সরকারী প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত কমিটির ৩৪তম বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়েছে।
কমিটির সভাপতি কাজী কেরামত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য মো. শহীদুজ্জামান সরকার, মো. রহমত আলী, আব্দুল কুদ্দুস, আব্দুল মজিদ খান ও মীর মোস্তাক আহম্মেদ রবি অংশ নেন।

বৈঠকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিবসহ মন্ত্রনালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে নবম জাতীয় সংসদের প্রথম থেকে শেষ অধিবেশন পর্যন্ত এবং দশম জাতীয় সংসদে সম্প্রতি সমাপ্ত অধিবেশন পর্যন্ত সময়ে সংসদের ফ্লোরে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের অনুকূলে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতির উপর আলোচনা করা হয়। এছাড়াও দক্ষিণ এশীয় স্পীকারদের শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর ২০৪০ সালের মধ্যে দেশে তামাকের ব্যবহার নির্মূল করার বিষয়ে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতির উপরও আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে বলা হয়, তামাকজাত পণ্য থেকে সরকার এক শতাংশ হারে যে সারচার্জ পেয়ে থাকে তা হাসপাতালগুলোর সেবার মানোন্নয়নে এবং তামাক চাষের বদলে সবজি চাষে কৃষককে উদ্বুদ্ধ করতে প্রণোদনা দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। ২০১৪ সালের জুলাই আমদানি করা ও দেশে তৈরি তামাকজাত সব ধরণের পণ্যের উপর এক শতাংশ হারে সারচার্জ আরোপ করা হয়েছে। কিন্তু ওই অর্থ ব্যয়ের বিধিমালা তৈরি না হওয়ায় গত তিন অর্থবছরে তামাকের সারচার্জ থেকে পাওয়া পাওয়া প্রায় ৯০০ কোটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে অলস পড়ে আছে বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসেছে।

বাংলাদেশে সমন্বিত ও পরিকল্পিত উপায়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ২০১৫ সালে ‘স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ ব্যবস্থাপনা নীতি’ ও ‘জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতি’ শিরোনামে দু’টি নীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। সেগুলো খসড়ায় অবস্থায় রয়েছে।

গত মাসে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, সারচার্জ থেকে পাওয়া অর্থ তামাক নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হবে।

বৈঠকে বলা হয়েছে, দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক ডাক্তারের পদ থাকলেও মফস্বলে পদের বিপরীতে যথেষ্ট লোকবল নেই এবং হাসপাতালগুলোর পরিচ্ছন্নতাসহ সার্বিক পরিবেশ মানসম্মত নয় বলে জনগণ তাদের কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছে না। কমিটি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নিয়োগসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন করে সেবার মান নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে। এছাড়া সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক পদায়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় সাধন এবং পদায়নকৃত চিকিৎস যাতে নির্দিষ্ট সময়ের আগে ডেপুটেশনে বদলি হতে না পারে তার ব্যবস্থা নেয়ারও পরামর্শ দেয়া হয়।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫