ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৯ অক্টোবর ২০১৭

প্রশাসন

পরিচয় যাচাইয়ে এসবি’র সেল

ইউরোপ থেকে অবৈধ বাংলাদেশী ফেরাতে টাস্কফোর্স গঠন

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

০৮ অক্টোবর ২০১৭,রবিবার, ১৯:২৪


প্রিন্ট

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে অবৈধ বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে আনতে টাস্কফোর্স গঠন করা হচ্ছে। এছাড়া ইইউতে অবৈধ হিসাবে চিহ্নিতদের দ্রুততম সময়ে মধ্যে নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) একটি সেল গঠন করা হবে। এক সপ্তাহের মধ্যে যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অবৈধ হিসাবে চিহ্নিতদের ইইউ’র নিজস্ব খরচে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে গঠিত টাস্কফোর্সে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, নির্বাচন কমিশন, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতর, সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই), এসবিসহ ১৫টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদফতরের প্রতিনিধিরা থাকবেন। পরিচয় যাচাইয়ের জন্য নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্রের ডাটাবেস এবং ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরে সংরক্ষিত তথ্য কাজে লাগানো হবে। এছাড়া বাংলাদেশের তিনজন এবং ইইউ’র দু'জন নিয়ে পাঁচ সদস্যের একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটিকে ইউরোপে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলো প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।

আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক আন্ত:মন্ত্রণালয় বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদফতরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ইউরোপে বৈধপথে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন উৎসাহিত করার লক্ষ্যে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘ সাধারন অধিবেশনের সাইডলাইনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও ইইউ বৈদেশিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা নীতি সংক্রান্ত হাই রিপ্রেসেন্টেটিভ ফেডেরিকা মোঘিরিনি অবৈধ বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে আনা সংক্রান্ত স্টান্ডার্ড অপারেশন প্রসিডিউর (এসওপি) সই করেন। আজ অনুষ্ঠিত আন্ত:মন্ত্রণালয় বৈঠকে এই এসওপি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নির্ধারন করা হয়েছে।

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে অবৈধ বাংলাদেশী প্রবেশের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এসওপি সইয়ের ব্যাপারে বাংলাদেশের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে ইইউ। অবৈধদের ফিরিয়ে নেয়া না হলে বাংলাদেশীদের জন্য ভিসা কঠিন করে দেয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট। গত বছর ইইউ’র পক্ষ থেকে এসওপির একটি খসড়া বাংলাদেশকে দেয়া হয়। গত জুলাইয়ে ব্রাসেলসে ইইউ-বাংলাদেশ যৌথ কমিশন সভায় এসওপির খসড়া নিয়ে সন্তোষজনক অগ্রগতি না হওয়া অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসওপি চূড়ান্ত করার জন্য বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইইউ। এরপর আগস্টে ঢাকায় ইইউ প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠকের পর এসওপিটি চূড়ান্ত করা হয়।

সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে অবৈধভাবে অবস্থানকারী বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে আনা সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত। ধারাবাহিকভাবে সব সরকারই এ সিদ্ধান্ত অনুসরন করে। তা না হলে বৈধ বাংলাদেশীদের অভিবাসন প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাবে। তবে ফিরিয়ে আনার আগে সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাগরিকত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চায়। এ প্রক্রিয়াটি ক্ষেত্র বিশেষ সময়সাপেক্ষ হয়ে পরে।

তিনি বলেন, ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার বাংলাদেশী ইউরোপীয় দেশগুলোতে বৈধভাবে কাজের জন্য ওয়ার্ক পারমিট বা স্থায়ীভাবে থাকার জন্য রেসিডেন্সি পারমিট পেয়েছে। কিন্তু চলতি বছরের প্রথম চার মাসে বৈধকরণের হার আশঙ্কাজনক হারে কমে যায়। ভ্রমণ, শিক্ষাসহ অনেক উদ্দেশে প্রচুর বাংলাদেশী বৈধ পথে ইউরোপ যায়। অবৈধদের ফিরিয়ে আনা না হলে বৈধরা সমস্যার মুখে পড়বে। এটা কারো কাম্য হতে পারে না।

কর্মকর্তাটি বলেন, অবৈধ বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে আনতে ইইউ নানা ধরনের সহায়তার প্রস্তাব করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার খরচ বহন, স্থানীয় আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির সাথে সম্পৃক্ত হতে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের পর বৈধভাবে আবারো ইউরোপ যাওয়ার সুযোগ দেয়া এবং ইউরোপ থেকে ফিরতে চাওয়া বাংলাদেশীদের এককালীন সাত হাজার ইউরো প্রদান।

ইউরোপে মোট কতজন বাংলাদেশী অবৈধভাবে বাস করছে তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে এ সংখ্যা প্রায় এক লাখ বলে ধারণা করা হয়।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫