ঢাকা, বুধবার,১৩ ডিসেম্বর ২০১৭

প্রাণি ও উদ্ভিদ

খাবার দিতে গিয়ে বাঘ-শাবকের খাবার হলেন কিপার

নযা দিগন্ত অনলাইন

০৮ অক্টোবর ২০১৭,রবিবার, ১৪:০৯


প্রিন্ট
খাবার দিতে গিয়ে বাঘ-শাবকের খাবার হলেন কিপার

খাবার দিতে গিয়ে বাঘ-শাবকের খাবার হলেন কিপার

খাবার দিতে গিয়ে বাঘের থাবায় শেষ হয়ে গেলেন বাঘের খাঁচার কেয়ারটেকার। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের বেঙ্গালুরুর বান্নেরঘাট্টা চিড়িয়াখানায়।

অঞ্জনেয় ওরফে আঞ্জি নামে ৪১ বছরের ওই ব্যক্তি মাত্র এক সপ্তাহ আগেই বাঘের খাঁচার কেয়ারটেকার হিসেবে চাকরি পেয়েছিলেন। শনিবার সন্ধ্যায় সাদা বাঘিনী সৌভাগ্যের খাঁচায় খাবার দিতে গিয়েছিলেন আঞ্জি। কিন্তু সৌভাগ্যের দুই শাবক যে খাঁচায় থাকে, সেটির দরজা যে খোলা ছিল তা খেয়াল করেননি তিনি। ভুক্তাবশেষ তুলে নিয়ে নতুন মাংস দেয়ার সময়ই প্রথমে একটি শাবক তার ঘাড়ের উপর লাফিয়ে পড়ে। তারপরই আক্রমণ করে অপর শাবকটি।

আঞ্জি আর্তনাদ করে ওঠায় শাবক দুটি ক্ষেপে গিয়ে তাকে টেনে নিয়ে যায় টাইগার সাফারি এলাকায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে কোনোক্রমে শাবক দুটিকে খাঁচায় ঢুকিয়ে, রক্তাক্ত অঞ্জনেয়কে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। সেখানে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর অভিযোগ দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে।

দু’‌বছর আগেও এই চিড়িয়াখানাতেই খাবার দিতে গিয়ে সিংহের আক্রমণে গুরুতর জখম হয়েছিলেন আরেক কিপার।

দিনে ১০ লাখ পাখি হত্যা করে বিড়াল!
অস্ট্রেলিয়ায় প্রতিদিন ১০ লাখেরও বেশি পাখি হত্যা করে বন্য ও পোষা বিড়াল। এরফলে অনেক প্রজাতির পাখি এখন বিলুপ্তির পথে। বুধবার প্রকাশিত নতুন গবেষণা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
বায়োলজিক্যাল কনভারসেশন জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বন বিড়াল প্রতি বছর ৩১ কোটি ৬০ লাখ এবং পোষা বিড়াল বছরে ৬ কোটি ১০ লাখ পাখি মারে।

চার্লস ডারউইন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা দলের নেতৃত্বে থাকা জন উইনারস্কি বলেন, ‘প্রত্যেকেই জানে যে বিড়াল পাখি হত্যা করে। তবে এ গবেষণায় দেখা গেছে জাতীয় পর্যায়ে পাখি নিধনের এ সংখ্যা ভয়ংকর।’
তিনি বলেন, এভাবে পাখি নিধন অব্যাহত থাকলে অনেক প্রজাতির পাখি বিলুপ্তি হয়ে যাবে।

টিকে থাকতে গোল্ডফিশের আশ্চর্য কৌশল
বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, বরফে ঢাকা শীতল হ্রদের পানিতে বাঁচতে গোল্ডফিশ শরীরের ল্যাকটিক অ্যাসিড অ্যালকোহলে রূপান্তরিত করে ফেলে।
বরফে ঢাকা হ্রদের পানিতে কোনো কোনো গোল্ডফিশের শরীরে অ্যালকোহলের মাত্রা এতটাই বেশি থাকে যে রক্তে সেই মাত্রার জন্য পুলিশ কোনো মানুষকে মদ খেয়ে গাড়ি চালানোর দায়ে আটকাতে পারে।
মানুষ সহ অধিকাংশ প্রাণী যেখানে অক্সিজেন ছাড়া কয়েক মিনিটের মধ্যে মারা যায়, সেখানে উত্তর ইউরোপের বরফ ঢাকা জলাভূমিতে গোল্ডফিশ মাসের পর মাস বেঁচে থাকে।

বরফ ঢাকা পানিতে বেঁচে থাকার গোল্ডফিশের এই অসামান্য ব্যতিক্রমী ক্ষমতার কথা ১৯৮০'র দশক থেকেই বিজ্ঞানীদের জানা ছিল। কিন্তু এখন তারা সেই রহস্যের উত্তর পেয়েছেন।
অক্সিজেনের অভাবে শরীরে ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরি হয়। সেটি যদি শরীর থেকে কোনো প্রাণী বের না করতে পারে, তাহলে কয়েক মিনিটের মধ্যে সে মারা যাবে।

কিন্তু গোল্ডফিশ এবং একই জাতের দু-একটি মাছ এই ল্যাকটিক অ্যাসিড অ্যালকোহলে রূপান্তরিত করে তা বেঁচে থাকার শক্তি হিসাবে ব্যবহার করতে পারে।

শুধু অক্সিজেনের অভাব হলেই তাদের শরীরে সেই ব্যতিক্রমী ক্ষমতা তৈরি হয়।

লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ড মাইকেল বেরেনব্রিঙ্ক বিবিসিকে বলেন - বরফের আস্তরনে যখন পুকুরের পানির সাথে বাতাসের সংস্পর্শ বন্ধ হয়ে যায়, সেসময় গোল্ডফিশ পানির সমস্ত অক্সিজেন শুষে নেয় এবং তা দিয়ে অ্যালকোহল তৈরি করে।

বরফ যত বেশি সময় থাকবে, গোল্ডফিশের শরীরে তত বেশি অ্যালকোহল তৈরি হবে। সেটি সেই প্রতিকুল পরিবেশে তার বেঁচে থাকার জ্বালানি হিসাবে কাজ করে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫