ঢাকা, সোমবার,২০ নভেম্বর ২০১৭

রংপুর

শিবির? ওরা তো ছোট ছোট বাচ্চা

পীরগাছা (রংপুর) সংবাদদাতা

০৭ অক্টোবর ২০১৭,শনিবার, ১৬:৩৯


প্রিন্ট
শিবির? ওরা তো ছোট ছোট বাচ্চা

শিবির? ওরা তো ছোট ছোট বাচ্চা

রংপুরের পীরগাছায় নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে শিবিরকর্মী সন্দেহে ছোট ছোট বাচ্চাসহ সাত জনকে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর মামলা রুজু করে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

পুলিশের দাবি, রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার অন্নদানগর বাজারে এরশাদ হোসেনের মালিকানাধীন চাঁদনী ডেকোরেটরের ভেতরে একটি গোপন কক্ষে একদল শিবির নেতা নাশকতার পরিকল্পনা করছে বলে সংবাদ পায় পুলিশ।

পরে পীরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহাঙ্গীর হোসেনের নেতৃত্বে সেখানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় পুলিশ উপজেলার পঞ্চানন গ্রামের আব্দুল কাইয়ুমের ছেলে আব্দুর রহমান (১৮), খামার নয়াবাড়ি গ্রামের মৃত বাদশা মিয়ার ছেলে ইমন মিয়া (১৭) ও এরশাদ মিয়া (৩২), রংনাথ গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে সোহেল রানা (১৪), আশরাফ আলীর ছেলে শাকিল মিয়া (১৩), নবু চালুনিয়া গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে লাবলু মিয়া (১৫) এবং কাউনিয়া উপজেলার বাজেমজকুর গ্রামের নুরুজ্জামানের ছেলে রিপন মিয়াকে (১৫) ইসলামী বই-পুস্তকসহ আটক করা হয়।

পীরগাছা থানার ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আটককৃতরা নিজেদের শিবিরকর্মী বলে জানায়, তারা নাশকতার পরিকল্পনা করছিল।

ওসি জানান, এ ব্যাপারে একটি মামলা রুজু করে আটককৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বয়স বিবেচনা করে বিচারক তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে জেলহাজত অথবা শিশু-কিশোর সংশোধনাগারে পাঠাবেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির প্রভাষক মোত্তালিব হোসাইন বলেন, আটককৃতরা জায়মায়াতে ইসলামী বা এর কোনো অঙ্গ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নয়। ওরা তো ছোট ছোট বাচ্চা ।
স্থানীয় লোকজন জানায়, পুলিশের হাতে আটক শিশু-কিশোররা অন্নদানগর বাজারের একটি কোচিং সেন্টারে ক্লাস করে। তারা ওই সময় (রাত সাড়ে ৯টা) কোচিংয়ের ক্লাস শেষে চাঁদনী ডেকোরেটরের ভেতরে বসে গল্প করছিলেন। এ সময় পুলিশ তাদের আটক করে। এবং তাদের নামে মামলা দিয়ে চালান দিয়েছেন।
কেউ কেউ বলছেন, পুলিশ ছোট ছোট বাচ্চাদের জীবন গুলো নষ্ট করে দিলো। তারা কি কোনো অপরাধ করেছিল?

নড়াইলে স্কুলশিক্ষককে গাছে বেঁধে মারপিটের অভিযোগ
নড়াইল সংবাদদাতা
চাঁদার দাবিতে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মাঝিপাড়ায় মনি কুমার বিশ্বাস নামে এক স্কুলশিক্ষককে গাছে বেঁধে মারপিটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে লাহুড়িয়া ইউপি সদস্যসহ ছয় জনের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নির্যাতনের পর স্কুল শিক্ষককে চিকিৎসা করতে না দিয়ে দুর্বৃত্তরা বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে মনি কুমারকে অসুস্থ অবস্থায় শুক্রবার রাতে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মামলার বিবরণে ও স্কুল শিক্ষকের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, লোহাগড়ার মরিচপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মনি কুমার বিশ্বাসের কাছে বেশ কিছুদিন যাবত ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলো লাহুড়িয়া ইউপি মেম্বার আকবর হোসেনসহ তার অনুসারীরা।

চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ২ অক্টোবর রাতে মনি কুমারের বাড়ির পাশে তাকে গাছে বেঁধে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় চিহিৃত দুর্বৃত্তদের ৫০ হাজার টাকা দেন মনি কুমারের পরিবার। পরবর্তীতে আরো সাড়ে ৪ লাখ টাকা আদায়ের জন্য ব্যাংক চেক এবং স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয় অভিযুক্তরা। এ ব্যাপারে আকবর হোসেনসহ অভিযুক্তরা বলেন, ওই স্কুলশিক্ষকের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে উত্যক্তকরণের অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। তাকে মারধর করা হয়নি। লোহাগড়া থানার ওসি (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার রাতে মনি কুমারের স্ত্রী ছয়জনের নামে মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫