ঢাকা, সোমবার,২০ নভেম্বর ২০১৭

মোবাইল

দেশেই তৈরি হবে ওয়ালটন স্মার্টফোন

নাজমুল হোসেন

০৬ অক্টোবর ২০১৭,শুক্রবার, ১৮:৫৫


প্রিন্ট

ডিজিটাল বাংলাদেশের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল ওয়ালটন। গত বৃহস্পতিবার গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন চালু করেছে দেশের প্রথম স্মার্টফোন কারখানা। এই স্মার্টফোন কারখানা উদ্বোধন করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। এই কারখানা উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দেশেই
‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেবেলযুক্ত হ্যান্ডসেট তৈরির দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল। একই সাথে মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় প্রথমবারের মতো নাম লেখাল বাংলাদেশ। ওয়ালটনের স্মার্টফোন কারখানা ঘুরে এসে লিখেছেন নাজমুল হোসেন

গাজীপুরের চন্দ্রায় ৫০ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে ওয়ালটন ডিজিটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। এখানে হ্যান্ডসেটের ডিজাইন ডেভেলপ, গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগ, মাননিয়ন্ত্রণ বিভাগ ও টেস্টিং ল্যাব রয়েছে। এ ছাড়া স্থাপন করা হয়েছে জাপান ও জার্মান প্রযুক্তির মেশিনারিজ। কারখানাটিতে প্রায় এক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে এই কারখানায় উৎপাদন হবে বার্ষিক ২৫ থেকে ৩০ লাখ ইউনিট হ্যান্ডসেট। স্থাপন করা হয়েছে ছয়টি প্রোডাকশন লাইন। প্রক্রিয়াধীন রয়েছে আরো ১০টি প্রোডাকশন লাইন স্থাপনের কাজ। পিসিবির (প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড) ওপর অতি নিখুঁতভাবে সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম পিন বসিয়ে উচ্চ গুণগতমানের পিসিবিএ বা মাদারবোর্ড তৈরির লক্ষ্যে কারখানায় স্থাপন করা হয়েছে সার্ফেস মাউন্টিং টেকনোলজি (এসএমটি) সিস্টেম। গড়ে তোলা হয়েছে প্রয়োজনীয় কাঁচামালের পর্যাপ্ত মজুদ।
ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশীয় মোবাইলফোন কারখানা গড়ে ওঠায় এই খাতের সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভরতা বহুলাংশে হ্রাস পাবে। পাশাপাশি রফতানি থেকেও বিশাল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। সেই সাথে ব্যাপকভাবে বিকশিত হবে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার শিল্পের মতো ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রিজের। সর্বোপরি, এটিকে বলা চলে হাইটেক শিল্পের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের জন্য একটি বিশাল মাইলফলক।

প্রাথমিক পর্যায়ে ছয়টি মডেলের স্মার্টফোন অ্যাসেম্বলিংয়ের মাধ্যমে যাত্রা শুরু হচ্ছে। আগামী বছর থেকে পূর্ণাঙ্গ হ্যান্ডসেট উৎপাদন-প্রক্রিয়া শুরু হবে। হ্যান্ডসেটের বডি, চার্জার, ইয়ার ফোন, ব্যাটারি, ইউএসবি ক্যাবলসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশ নিজস্ব কারখানায় তৈরি করা হবে। কারখানায় মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে, মাল্টি-লেয়ার মাদারবোর্ড তৈরির প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। দেশী-বিদেশী প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে একটি শক্তিশালী পণ্য উন্নয়ন ও গবেষণা বিভাগ ও টেস্টিং ল্যাব। রয়েছে শক্তিশালী মাননিয়ন্ত্রণ বিভাগ, যেখানে উৎপাদিত হ্যান্ডসেটের উচ্চ গুণগতমান কঠোরভাবে নিশ্চিত করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে ছয়টি মডেলের স্মার্টফোন অ্যাসেম্বলিংয়ের মাধ্যমে যাত্রা শুরু হচ্ছে। আগামী বছর থেকে পূর্ণাঙ্গ হ্যান্ডসেট উৎপাদন-প্রক্রিয়া শুরু হবে।

গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটনের নবনির্মিত স্মার্টফোন কারখানার উদ্বোধন করার ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, এর মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছা ছিল বাংলাদেশেই মোবাইল ফোন উৎপাদন হবে। সেই স্বপ্ন পূরণের সঙ্গী হলো ওয়ালটন। একই সাথে মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় নাম লেখাল বাংলাদেশ। প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, উচ্চ মানসম্পন্ন হ্যান্ডসেট তৈরির জন্য ওয়ালটন বদ্ধপরিকর। মানসম্পন্ন হ্যান্ডসেট তৈরির জন্য বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করেই কারখানা স্থাপন করেছে ওয়ালটন। এখন আমাদের দায়িত্ব প্রতিষ্ঠানটির অগ্রযাত্রাকে মসৃণ করা। আমি মনে করি, বিদেশী ব্র্যান্ডগুলোর তুলনায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার সক্ষমতায় এগিয়ে থাকবে দেশে তৈরি ওয়ালটন স্মার্টফোন।

বাংলাদেশের স্মার্টফোন বাজার ব্যাপক সম্ভাবনাময়। কিন্তু মোবাইল হ্যান্ডসেটের জন্য আমাদেরকে বিদেশী কোম্পানির ওপর নির্ভর করতে হতো। এ খাতে দেশীয় শিল্পের বিকাশ মুখ থুবড়ে পড়েছিল। ওয়ালটন স্মার্টফোন কারখানা স্থাপনের মধ্য দিয়ে সে পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটল।
ওয়ালটনের সিনিয়র অপারেটিভ ডিরেক্টর উদয় হাকিম জানিয়েছেন, কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা ওয়ালটনের অনেক দিনের। বাজার গবেষণা, প্রস্তুতি আগেই করেছে। যন্ত্রপাতি আমদানিসহ প্রকৌশলগত কার্যক্রমও পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হচ্ছে।

শুরুতে মাসে প্রায় পাঁচ লাখ হ্যান্ডসেট উৎপাদনের কথাও জানান তিনি। এ ছাড়াও ওয়ালটন প্রথমেই তাদের ফোন উৎপাদন ও সংযোজনের কারখানা স্থাপনে ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। চলতি বাজেটে সরকার স্থানীয়ভাবে মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেট সংযোজন ও উৎপাদনের জন্য যন্ত্রপাতি আমদানির ওপর বড় ধরনের ছাড় দেয়। এ ক্ষেত্রে এসকেডি (সেমি নক ডাউন) পদ্ধতির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ এবং সিকেডি (কমপ্লিট নক ডাউন) পদ্ধতির ক্ষেত্রে এক শতাংশ আমদানি শুল্ক নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এর আগে উভয় ক্ষেত্রে এ শুল্ক ছিল ৩৭.০৭ শতাংশ। আর এটিই কোম্পানিগুলোকে দেশের বাজারে মোবাইল হ্যান্ডসেট উৎপাদনে আগ্রহী করে তুলছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫