ঢাকা, শুক্রবার,২০ অক্টোবর ২০১৭

সিনেমা

ঢাকা অ্যাটাক পুরোপুরি একজন সাংবাদিকের স্ট্রাগল : মাহি

০৬ অক্টোবর ২০১৭,শুক্রবার, ১৭:৫৩


প্রিন্ট

শুক্রবার সারা দেশের ১২৫টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে দীপংকর দীপন পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘ঢাকা অ্যাটাক’। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর স্টার সিনেপ্লেক্সে হয়ে গেল ছবিটির প্রিমিয়ার শো। বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের ঘটনা নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রটি যৌথভাবে প্রযোজনা করেছে স্পল্যাস মাল্টিমিডিয়া, ঢাকা পুলিশ পরিবার কল্যাণ সমিতি লিমিটেড এবং থ্রি হুইলারস। গুরুত্বপূর্ণ দু’টি চরিত্রে অভিনয় করেছেন, মাহিয়া মাহি ও আরিফিন শুভ। ছবির শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা এবং প্রত্যাশা নিয়ে আলমগীর কবিরের সাথে বলেছেন মাহি-

প্রায় দেড় বছর পর শুক্রবার (৬ অক্টোবর) প্রেক্ষাগৃহে এলো আপনার নতুন ছবি। প্রত্যাশা কেমন?
সর্বশেষ আমার ছবি প্রেক্ষাগৃহে গিয়েছিল বছর দেড়েক আগে। নাম ছিল অনেক দামে কেনা। এরপর ছবি মুক্তি না পেলেও আমি কোনো বিরতি নেইনি। কারণ বিয়ের পর থেকে টানা শুটিং করে যাচ্ছি। ছবি মুক্তি পেতে হয়তো দেরি হলো। এখন অনেক ছবিতে কাজ করেছি। এর মধ্যে বেশ কয়েকটির কাজ শেষের দিকে রয়েছে। আশা করছি, এখন থেকে দর্শক নিয়মিত আমার ছবি দেখতে পাবেন। আর অবশ্যই ‘ঢাকা অ্যাটাক’ নিয়ে আমার প্রত্যাশা অনেক বেশি।

প্রত্যাশার মাত্রা এত বেশি হওয়ার কারণ কী?
অনেক কারণ রয়েছে। ছবির নির্মাণশৈলী থেকে শুরু করে প্রচারণা সবকিছুতেই আন্তর্জাতিক মান ধরে রাখা হয়েছে। ঢাকা অ্যাটাক প্রেক্ষাগৃহে যাওয়ার আগেই কিন্তু এর নাম এবং কাহিনী অনেকেই জেনে গেছেন। এটা সম্ভব হয়েছে প্রচারণা এবং ছবিটির টিম মেম্বারদের মধ্যে মনস্তাতিক সংযোগ থাকার কারণে। সবকিছু মিলিয়ে ছবিটি থেকে ভালো কিছু প্রত্যাশা না করাটাই ভুল। এ ছাড়া ‘ঢাকা অ্যাটাক’ বাংলাদেশের প্রথম পুলিশ অ্যাকশন থ্রিলার চলচ্চিত্র হিসেবে সব শ্রেণীর দর্শকের মন জয় করবে বলে আমার বিশ্বাস। দেশীয় চলচ্চিত্রে আধুনকিতার ছোঁয়া, শতভাগ মৌলিক গল্প, সর্বোচ্চ সংখ্যক তারকা অভিনেতা-অভিনেত্রীদের উপস্থিতি, অসম্ভব সুন্দর কিছু গান, বিশাল আয়োজনসহ আরো নানা বিষয় যুক্ত করার মধ্য দিয়ে সিনেমাটি দর্শকদের উপভোগ্য করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নেয়া হয়েছে।

এই ছবিতে তৃতীয় বারের মতো দর্শক মাহিকে সাংবাদিক চরিত্রে দেখবে। অনুভূতি কেমন?
এই অনুভূতি আমার চেয়ে আপনারাই (সাংবাদিকেরা) ভালো বুঝবেন। চ্যালেঞ্জিং একটা ব্যাপার। সবসময় নতুনকে আবিষ্কার করার চেষ্টা। এর আগে, ‘ওয়ার্নিং’ ও ‘দেশা’ ছবিতে সাংবাদিক হয়েছি। তবে সেখানে সাংবাদিকতাকে বেইজ করে গল্প ছিল না। ‘ঢাকা অ্যাটাক’-এ পুরোপুরি একজন সাংবাদিকের স্ট্রাগল দেখানো হয়েছে। জম্পেশ একটা চরিত্র। অভিনয় করে অনেক ভালো লেগেছে।

বাস্তবে এড়িয়ে চলেন অথচ ছবিতে আপন করে নিয়েছেন এমন কোনো অভিজ্ঞতা আছে?
এটা খুব ভালো একটা প্রশ্ন। ছোটবেলা থেকেই আমি পুলিশকে অনেক ভয় পাই। কিন্তু এই ছবির শুটিং করতে গিয়ে বেশ সখ্য হয়েছে পুলিশের অনেকের সাথে। পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আমার যে ধারণা ছিল, সেটা একেবারেই বদলে গেছে। পুলিশ সম্পর্কে অনেক অজানা কথা আমি এই ছবিতে অভিনয় করতে গিয়ে জানতে পেরেছি।

ঢাকা অ্যাটাক ছবির শুটিংয়ের স্মরণীয় কোনো ঘটনা আছে যেটা শেয়ার করতে চান?
এই ছবির শুটিং করার সময় একবার আমরা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১১ হাজার ফুট ওপরে শুটিং করেছি। জায়গাটি বান্দরবানের নীলাচলের পাদদেশ। সেখানে পৌঁছানোর জন্য তিন থেকে চার হাজার ফুট ওপরে হেঁটে উঠতে হয়েছে। এসব কষ্টকে একেবারেই পাত্তা দিইনি বরং চেষ্টা করেছি কিভাবে কাজটা আরো বেটার করা যায়। এ ছাড়াও এই ছবিতে অনেক স্মরণীয় স্মৃতি আছে।

ছবিতে অভিনয়ের সময় সহশিল্পী আরিফিন শুভকে কেমন মনে হয়েছে?
শুভ ভাই হলেন আমাদের মিস্টার পারফেকশনিস্ট। সেরা অভিনয় করেছেন এই ছবিতে। আমি তো ব্যক্তিগতভাবে ওনার অভিনয়ের ভক্ত হয়ে গেছি। শুভ ভাই সহশিল্পীদের মন জয় করার ক্ষেত্রে বেশ পারদর্শী। শুটিংয়ের সময় যখন ক্লান্তিভাব চলে আসতো, উনি কিছু একটা বলে বা করে সবার মুখে হাসি ফুটাতেন। দলীয় কাজে এটাই হচ্ছে সবচেয়ে আনন্দের। এ ছাড়াও ছবিতে যারা অভিনয় করেছেন, যেমন- সৈয়দ হাসান ইমাম, আলমগীর, আফজাল হোসেন, এ বি এম সুমন, নওশাবা, শিপনসহ সবার সাথেই একটা আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

আপনার বর্তমান ব্যস্ততা নিয়ে বলুন?
এখন আমি কাজ করছি ‘মন দেব মন নেব’ ছবিতে। ছবিটি পরিচালনা করছেন রবিন খান। কমেডি, অ্যাকশন, রোমান্স সবই আছে এই চলচ্চিত্রে। গল্পটি নারী প্রধান। পুরো গল্প আমাকে ঘিরে। এ ছাড়া সম্প্রতি শেষ হয়েছে শাহনেওয়াজ শানু পরিচালিত ‘পলকে পলকে তোমাকে চাই’। প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের ‘জান্নাত’। এ ছাড়া কলকাতার শিল্পী বনির সাথে করছি ‘মনে রেখ’ ছবিটি, এটি পরিচালনা করছেন ওয়াজেদ আলী সুমন। কলকাতার সোহমের সাথে জুটি হয়ে যৌথ প্রযোজনায় নির্মিতব্য ‘তুই শুধু আমার’ ছবিতে কাজ করছি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫