ঢাকা, শুক্রবার,১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

বিশ্ব শাসনে ১৩ পরিবার

আলমগীর মহিউদ্দিন

০৫ অক্টোবর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৭:৩৯ | আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৮:০১


আলমগীর মহিউদ্দিন

আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রিন্ট

ক্ষমতা ও অর্থ সব কালে সবার কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয়। সব আলোচনার কেন্দ্র। তবে সর্বজনস্বীকৃত ঐকমত্য হলো ক্ষমতা ও অর্থ একসাথে হলে তা হয় অপ্রতিরোধ্য শক্তি। তাই এ দু’টি বিষয় নিয়ে ইতিহাসে যত সঙ্ঘাত এবং দখলের বিবরণ আছে তা অবশ্যই বিশাল। এ বিবরণে যে বিষয়টির ওপর জোর দেয়া হয় তা হলো- কার কাছে এই অর্থ ও ক্ষমতা আছে! ইতিহাসের প্রতি বাঁকেই দেখা যায় সামান্য কিছু গোষ্ঠী ক্ষমতা ও অর্থ কুক্ষিগত করে রাখছে। বিশাল জনগোষ্ঠী তা মানতে বাধ্য হচ্ছে।

অনুসন্ধানীরা বলছেন, এখন এই দু’টি শক্তি মাত্র ১৩টি পরিবার ভোগ করছে এবং এরাই সত্যিকারভাবে বিশ্বকে শাসন করছে। ক্ষমতা আছে প্রকাশ্যভাবে নির্বাচিত বা দখলদার গোষ্ঠীর হাতে, তবে তার নিয়ন্ত্রণের সুতাগুলো রয়েছে এই পরিবার ও তাদের বশংবদদের হাতে। এরাই তৈরি করেছে বর্তমানের ‘নয়া বিশ্বব্যবস্থা’ (New World Order-NWO), যার বাইরে থাকা অসম্ভব। এরা অতি সংগোপনে বিশ্বের সব সম্পদকে কখনো প্রকাশ্যে, আবার কখনো অন্তরালে থেকে নিয়ন্ত্রণ করছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তাদের এই নিয়ন্ত্রণের উপস্থিতি কেউই টের পায় না। এমনকি যাদের দিয়ে তারা এই কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে, তারাও জানে না।

 

এর কারণও একই। অর্থ এবং ক্ষমতা। এই ক্ষমতাশালীরা তাদের বশংবদদের ক্ষমতা ও অর্থের একাংশ ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে তাদের কাজটি করিয়ে নেয়। তবে তারা কখনো অন্তরালের ক্ষমতাসীনদের দৃষ্টির বাইরে থাকতে পারে না। এমনকি জীবনের শেষাংশে তারা সেই অন্তরালে অবস্থিত ক্ষমতাসীন দেশে চলে যায় অথবা তাদের বিশ্বাসের নিক্তিতে ওপরে থাকলে আরো কিছু সুবিধা পেয়ে থাকে। তবে ক্ষমতার ‘এলিট’দের সাথে কখনো দেখা হয় না।

এই বিশ্বমোড়েলদের সংখ্যা নিয়ে নানা প্রতিবেদন আছে। এরও কারণ একই। তবে সর্বসম্মত মত হলো- আজকের ‘নয়া বিশ্বব্যবস্থার’ বা এনডব্লিউ প্রতিষ্ঠাকারী হলো মূলত পাঁচটি দেশ- চীন, আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ইসরাইল ও অস্ট্রেলিয়া। এর পরিচালনায় প্রকাশ্যে আছে কয়েক শ’ প্রতিষ্ঠান। তবে মাত্র ১৩টি পরিবার অন্তরালে থেকে এদের নিয়ন্ত্রণ করে। ফ্রিৎজ স্প্রিং মেইয়ার (Fritz Spring meier) এই ‘এলিট পরিবারের’ বিশদ বর্ণনা দিয়েছেন তাঁর ব্লাডলাইনস অব দি ইলুমিনাটি (Bloodlines of the Illuminati) বইয়ে। তিনি দেখিয়েছেন- এরা অর্থ ও ক্ষমতার জন্য সারা বিশ্বে নানা রাজনৈতিক, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় সঙ্ঘাত ও অনাচারের সৃষ্টি করে।

ফ্রিৎজের মতে, কোনো বিশাল ঘটনা অথবা অর্থবহ ছোট ঘটনা তাদের ছকের বাইরে ঘটে না। সে ঘটনা বিশ্বযুদ্ধ, সামাজিক বিভক্তিকরণ বা রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে সঙ্ঘাতই হোক। এগুলো তারা নানাভাবে বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করে থাকে। আর এ প্রতিষ্ঠানগুলো এসব প্রোগ্রাম নিজেদের মনে করে থাকে বলে ফ্রিৎজ উল্লেখ করেছেন। এই ১৩টি পরিবার হলো : ১. রকফেলার পরিবার যাদের অন্তত ১৯০ রকফেলার নামধারী পরিবার বিশ্বব্যাপী সব ঘটনার সাথে জড়িত। যাদের সম্পদের পরিমাণ ন্যূনপক্ষে ১১ লাখ কোটি ডলার (১১ ট্রিলিয়ন ডলার); ২. রথচাইল্ড। বিশ্বের পাঁচটি দেশ (ইরান, উত্তর কোরিয়া, সুদান, কিউবা ও লিবিয়া) বাদে সব দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রথচাইল্ড নিয়ন্ত্রণের অংশীদার। তাদের সম্পদের মূল্য পাঁচ শ’ লাখ কোটি ডলার (৫৫০ ট্রিলিয়ন ডলার); ৩. ব্রুস পরিবার; ৪. ক্যাডেনডিশ পরিবার এদের বংশ কেনেডিরা যারা পারিবারিক এবং বৈবাহিক সূত্রে থাকলে, কলিনস, হামফ্রে, রিগানসহ ১৩টি বিশাল ধনী পরিবারের সাথে জড়িত; ৫. ডি মেডিসি পরিবার; ৬. হ্যানোভার পরিবার; ৭. হ্যাপসবাগ পরিবার; ৮. ক্রুপ পরিবার; ৯. প্ল্যানটাজেনেট (চষধহঃধমবহবঃ) পরিবার; ১০. রোমানভ; ১১. সেইন্ট ক্লেয়ার; ১২. ওয়ারবার্গ (ডেল ব্যাংকো পরিবার) এবং ১৩. উইন্ডসর পরিবার। এ ছাড়া রয়েছে ডুপোঁ, ওনাসিস, বুশ এবং ক্লিনটন রক্তসম্পর্কিত বংশ। বুশের সম্পর্ক রয়েছে ব্রিটিশ রাজপরিবারের এবং সেই সূত্রে রোমের সিজারদের সাথে।

এরা সৃষ্টি করেছে ‘নয়া বিশ্বব্যবস্থা’ বা এনডব্লিউও, যার অধীনে ৫৫টি বিশ্বসংস্থা প্রত্যক্ষভাবে পরিচালিত হচ্ছে। যেমন ছয়টি আর্থিক সংস্থা- আইএমএফ, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, সেন্ট্রাল ব্যাংকস, ফেডারেল রিজার্ভ ও ব্যাংক অব ইন্টারন্যাশনাল সেটেলমেন্ট। এমনিভাবে অতি পরিচিত সাতটি রিসার্চ ইনস্টিটিউট। যেমন ব্রুকিংস ইনস্টিটিউট, কমিটি অব ৩০০, আসপেন ইনস্টিটিউট ইত্যাদি।
এ ছাড়া রয়েছে ছয়টি গোপন গোষ্ঠী যেমন পি২/অপাস ডেই, ফ্রিম্যাসনরি, স্কাল অ্যান্ড বোনস, বোহেমিয়ান ক্লাব, নাইটস অব মাল্টা ও রসিক্রুসিও।

শিক্ষায় ৯টি সংস্থা- ইউনেস্কো, লুসিস ট্রাস্ট, ওয়ার্ল্ড গুডউইল, প্লানেটারি কংগ্রেস, ওয়ার্ল্ড, ফেডারেলিট অ্যাসোসিয়েশন, ওয়ার্ল্ড কনস্টিটিউশন অ্যাসোসিয়েশন, মিডিয়া এস্টাবলিশমেন্ট।
গোয়েন্দা সংস্থা আছে ৯টি। সবচেয়ে পরিচিতগুলো হলো- এমআই-৫, সিআইএ, এনএসএ/এফবিআই, ইন্টারপোল, মোসাদ, ড্রাগ কার্টেল, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ও মিলিটারি ইনটেলিজেন্স।

 

রাজনৈতিক সংস্থা আছে ৯টি। যেমন- ট্রাইলেটারাল কমিশন, কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস, ইউএস সুপ্রিম কোর্ট, ন্যাটো, ইইউ, ইইসি, ইউএন, বিলডারবার্জার ও ক্লাব অব রোম।
এই এনডব্লিউর অধীনে চলছে বিশ্বব্যাপী কার্যক্রম। আছে ৮৬টি করপোরেশন, বহুজাতিক বাণিজ্যিক সংস্থা ও ব্যাংক। এর মধ্যে কয়েকটি এখানে উল্লেখ করা হচ্ছে। যেমন- র‌্যান্ড, ওয়ালমার্ট, এক্সন, এটিঅ্যান্ডটি, ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট, দাও কেমিক্যালস, টাইম ও নিউজউইক ম্যাগাজিন, লেভি স্ট্রস, নিউ ইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রভৃতি।
শত শত গোপন সংস্থা এবং গোয়েন্দা বাহিনীগুলো এই মেগা করপোরেশনগুলো ১৩ ফ্যামিলির সব ইচ্ছা পূরণ করে। এরা মূলত বিশ্বের অর্থনৈতিক দিকটাকে কেন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করে? এমন প্রশ্ন অনেকেই করেছেন। এর উত্তর সহজ, বলেছেন ফ্রিৎজ। তা হলো, অর্থ সব বিষয়ের চালিকাশক্তি- ন্যায়, অন্যায়, বিস্ময়কর সব কিছুর মূলে। তিনি আরো মন্তব্য করেছেন, এসব সংস্থা কোনো সরকারের নিয়ম মেনে চলে না, বরং সরকারগুলো এদের প্রয়োজনের নিক্তিতে আইন-নিয়ম সৃষ্টি করে থাকে।

বিশ্বব্যবস্থার এ পরিচালকদের কয়েকটি এখানে উল্লেখ করা যায়। যেমন রথচাইল্ড পরিচালিত সিটি অব লন্ডনের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। এটা যুক্তরাজ্য সরকারের অংশ নয়। মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ (যা বিশ্বের সব দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অংশীদার ও নজরদারি করে থাকে), যা মার্কিন সরকারের অধীনে নয়। এটা একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। ভ্যাটিকান সিটি, (যা বিশ্বে নানা মনস্তত্ত্বমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে থাকে) এটি ইতালির অংশ নয় বা তার নিয়মে চলে না। ওয়াশিংটন ডিসি, আমেরিকার অংশ নয়। এটা সারা বিশ্বের সব সামরিক, মগজ ধোলাই ইত্যাদির সূতিকাগার। এগুলো তাদের নিজের নিয়মে চলে। বিশ্বের কোনো আদালতের কাছে তাদের জবাবদিহিতার প্রশ্ন ওঠে না বলে মন্তব্য করেছেন ফ্রিৎজ। তারা এই ১৩ পরিবারের নিয়মকানুনের অংশীদার।

যেমন মগজ ধোলাইর কথা ধরা যাক। তারা বিশ্বের সব দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে এরা এক ছাঁচে ফেলেছে। এই শিক্ষাব্যবস্থা থেকে তাদের প্রার্থিত জনশক্তিই শুধু উৎপাদিত হচ্ছে। অথচ তাদের উৎপাদনের জন্য জনগণকে দিতে হচ্ছে বিরাট অঙ্কের ট্যাক্স। এসব ‘শিক্ষিত মানুষ বাক্সবন্দী দাস’ হিসেবে এই ‘এলিটদের অ্যাজেন্ডা’ বাস্তবায়ন করছে।

ফলে সারা বিশ্বের মানুষ তাদের অজ্ঞাতেই এই ১৩ পরিবারের দাস হয়ে পড়ছে মহা-আনন্দে। কারণ, প্রতিটি প্রোগ্রামের অন্তর্নিহিত অ্যাজেন্ডা হলো জনগণকে সম্মোহিত করে লুটপাটের কর্মকাণ্ডকে গ্রহণীয় করে ফেলা। তারা সতর্ক দৃষ্টি রাখছে, কেউ এর বিরুদ্ধে কিছু বলল কি না। তবে ছোটখাটো সমালোচনা তারাই উৎসাহ দেয় জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য। এই কর্মকাণ্ডে প্রায়ই ধর্মকে ব্যবহার, কখনো এর পক্ষে বা কখনো এর বিপক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে। তারা ডিক্টেটর সৃষ্টি করছে। আবার এসব ডিক্টেটরের মাঝে কেউ কেউ আততায়ীর হাতে মারা পড়ছে। এরা এমন মৃত্যুবরণ করে তখনই যখন একটু স্বতন্ত্র বা সত্যিকারের জনপ্রতিনিধি হওয়ার চেষ্টা করে।

 

এদের আরেকটি কর্মকাণ্ড হলো সরকার তৈরি। বিশ্বে এ পর্যন্ত ১৬৯ ধরনের সরকারের উদ্ভব ঘটেছে। এরা সবাই তাকিয়ে থাকে সেই অজ্ঞাত শক্তির দিকে। এখানে কয়েক রকমের নাম উল্লেখ করা হলো দৃষ্টান্ত হিসেবে। আসলে এসব নাম এসেছে গ্রিক ভাষা থেকে। দু’টি লেজুড় থাকে এসব নামের সাথে। আর্কি (archy), যার অর্থ শাসনকর্তাগিরি এবং ক্রেসি (Cracy) অর্থাৎ ক্ষমতা। যেমন অর্থের সরকার বা যাদের অর্থ আছে তাদের দ্বারা সরকার। (গভর্নমেন্ট বাই মানি) সেটা হলো অ্যারিস্টার্কি (aristarchy)। আবার জনগণের সরকার, ডেমোক্র্যাসি? এভাবে অটোক্র্যাসি, ব্যুরোক্র্যাসি (গভর্নমেন্ট বাই সিভিল সার্ভেন্ট), ডুয়ারকি, গাইনোক্র্যাসি (নারীদের দিয়ে সরকার), হাইপারএনার্কি (গভর্নমেন্ট বাই মিলিটারি)। প্লুটোক্র্যাসি (গভর্নমেন্ট বাই ওয়েলদি), পলিয়ার্কি (government by police), প্রফেটোক্র্যাসি (government by harlots), সেøভোক্র্যাসি (government by shopkeepers), টেট্রাডারকি (government by technical experts), থিওক্র্যাসি (government by priest).

তবে এখন এই শাসনব্যবস্থাকে সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। একের শাসন, কতিপয়ের শাসন এবং অনেকের শাসন (জঁষব নু ড়হব, জঁষব নু ভব,ি জঁষব নু সধহু). স্বৈরশাসক, সম্রাট বা রাজার শাসনকে একের শাসন বলা হয়। কিছু শাসনে স্বল্পসংখ্যক মানুষ দেশ চালায়। অনেকের শাসন হলো গণতন্ত্র। তবে এখন এই গণতন্ত্রের নামে প্রায়ই একের বা কিছু মানুষের শাসন কায়েম হয়ে থাকে। অনেকেই বলেন, এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা অসম্ভব। তবে কখনো যদি রোবটেরা শাসন করে তখন হয়তো এর পরিবর্তন ঘটতে পারে। কারণ, সে অর্থ নিয়ে ভাববে না। এখন মানুষ সব কিছুর মাঝে অর্থ বা লাভ খোঁজে। যেমন যুদ্ধও লাভজনক, অসুখ-বিসুখ লাভজনক, মানুষকে দাস বানানো লাভজনক, অমানুষিকভাবে কাজ করানো লাভজনক। রোবট এমনভাবে ভাববে না।

এই ১৩ পরিবার যেমন এখন রাজত্ব করছে, অতীতেও এর উদাহরণ আছে। তারা হলো অন্তরালের শক্তি। ইতিহাসে অন্তত ছয়টি উদাহরণ পাওয়া যায়। যেমন আলেক্সান্ডারের পেছনের মানুষটি ছিলেন তার মা অলিম্পিয়াস। তার অনুমতি ছাড়া কোনো কাজই করতেন না আলেক্সান্ডার। তেমনি নেপোলিয়নের ছায়া মানুষটি ছিলেন চার্লস মরিস দ্য টেলিব্ল্যান্ড-পেরিগোর্ড। তিনি ছিলেন নেপোলিয়নের ফরেন মিনিস্টার। নেপোলিয়নের সব কর্মকাণ্ডের ছক আঁকতেন এবং সেভাবে নেপোলিয়ন চলতেন। তার বিরোধিতা করায় নেপোলিয়নকে নির্বাসিত করা হয়। পরে মৃত্যু হয়। এভাবে চেঙ্গিস খানের ছায়া ছিল ইয়েলু চুকাল। একজন বহিরাগত যিনি চীনকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচিয়ে দেন। খান ভাবতেন চীন ধ্বংস করে তার সম্পদ লুট করবেন। চুকাল বুদ্ধি দেন চীন দখল করে সে সম্পদ সহজেই লুট করা সম্ভব, ধ্বংসের প্রয়োজন নেই। চেঙ্গিস খানের সব বিজয়ের মূলে চুকালের পরিকল্পনা এবং পরিচালনা। রাশিয়ার সম্রাট (জার) নিকোলাস-২-এর পেছনের মানুষটির নাম শোনেনি এমন সংখ্যা কম। তিনি রাসপুটিন। এখনো মানুষ তার নামের তুলনা করে কাহিনী বলে।

 

ইতিহাসের কিং তুতের পেছনের মানুষটি ছিলেন ‘আই’। তার প্রধানমন্ত্রী। তুত বয়োপ্রাপ্ত হওয়ার পরপরই আই মারা যান এবং রাজ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। ফলে তুতের মৃত্যু হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন যার বুদ্ধি-পরামর্শে চলতেন তিনি হলেন তার স্ত্রী এডিথ। এডিথের বুদ্ধি-পরামর্শ ও পরিচালনায় উড্রো উইলসন প্রথম বিশ্বযুদ্ধ জেতেন এবং ইতিহাসে নাম রেখে যান। অনেকে এডিথকে আমেরিকার প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিষিক্ত করেন।

অবশ্য এ যুগেও অন্তত ছয়টি জায়গায় মহিলারা রাজত্ব করছেন। যেমন- ১. তিব্বতের সীমান্তে মসুওতে সমাজ পরিচালনা করেন মহিলারা। তাদের নামের সাথে সন্তানেরা মায়ের নাম সংযোজন করে। বাবার নাম নয়; ২. পশ্চিম সুমাত্রার মিনানকাবাউর ৪০ লাখ লোক অধ্যুষিত সমাজশাসিত হয় মহিলাদের দিয়ে। সংসার চালায় মহিলা ও পুরুষেরা রাজনৈতিক ও আত্মিক নেতৃত্বে থাকলেও তাদের নির্বাচন করে নারীরা। প্রতিটি বাড়িতে মহিলাদের পৃথক শোয়ার ব্যবস্থা থাকে এবং শিশুরা মায়ের তত্ত্বাবধানে বড় হয়। মহিলারা না চাইলে পুরুষদের পদ ছেড়ে দিতে হয়; ৩. ঘানার আকান এলাকার মানুষেরা পরিচিত হয় মায়ের পরিচয়ে। সব সম্পত্তি ও অর্থ থাকে মায়ের নিয়ন্ত্রণে। সব বিষয়ের উত্তরাধিকার হন মা-বোনেরা। পুরুষেরা শুধু নিজের পরিবার নয়, বোনের পরিবারও প্রতিপালন করে; ৪. কোস্টারিকায় ব্রিব্রির ১৩ হাজার মানুষ জীবনযাপন করে মাতৃশাসনে। এখানে নারীরাই শুধু সম্পত্তির উত্তরাধিকার হতে পারেন; ৫. মেঘালয়ের গারোদের নেতৃত্বে থাকেন মহিলারা।

তারাই সম্পত্তির মালিক এবং উত্তরাধিকারী হন। সাধারণত কনিষ্ঠ কন্যাই সম্পত্তি লাভ করেন। তবে সমাজের শাসনভার থাকে পুরুষের হাতে। বিয়ের নিয়মটা মজার। বরকে পালাতে হবে এবং ধরা পড়তে হবে, তবেই বিয়ে হবে; ৬. নিউ গিনির নাগোনভিসির মহিলারা সম্পত্তির মালিক হন। তাদের ইচ্ছে অনুযায়ী কোনো পুরুষ তাদের সাথে থাকতে বা রাত কাটাতে পারে। বিয়ে বলে কিছু নেই।
এভাবেই দেখা যায় বিশ্বে বেশির ভাগ স্থানে পুরুষ সামনে থাকলেও তাকে শাসন করে তার পেছনের মানুষটি, যিনি বেশির ভাগ সময়ে নারী। যে ১৩ পরিবার এবং তাদের হাজার হাজার সংস্থা পৃথিবীতে এখন শাসন করছে, তাদেরও পেছনের ছায়ামানুষগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে থাকে নারী। ফলে এ কথা হয়তো বলা যায় বিশ্বে দৃশ্যত যা প্রতীয়মান হয়, তা সত্য নয়।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫