ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৯ অক্টোবর ২০১৭

তুরস্ক

তুরস্ক প্রেসিডেন্টের ইরান সফর, আলোচ্যসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ যা থাকছে

নয়া দিগন্ত অনলাইন

০৪ অক্টোবর ২০১৭,বুধবার, ১৫:৫০


প্রিন্ট
ইরান সফরে তুরস্ক প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান

ইরান সফরে তুরস্ক প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান গুরুত্বপূর্ণ সফরে ইরানের তেহরানে পৌঁছেছেন। কুর্দিস্তানে অনুষ্ঠিত গণভোট নিয়ে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।কাজাখস্তানে অনুষ্ঠিত সিরিয়া বিষয়ক ত্রিদেশীয় আলোচনা প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা করবেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং প্রেসিডেন্ট  ড. হাসান রুহানির সাথেও সাক্ষাৎ করবেন।

জানা যায়, মঙ্গলবার ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চল পহেলা নভেম্বরে প্রেসিডেন্সিয়াল এবং পার্লামেন্টারি নির্বাচসনর ঘোষণা দেন। অথচ ইতোপূর্বে উত্তর ইরাকে কুর্দিস্তানের স্বাধীনতার ওপর গণভোটের পর সেখানকার কুর্দিরা উল্লাস করলেও একে 'বিশ্বাসঘাতকতা' বলে আখ্যায়িত করে ক্রুদ্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, কুর্দিস্তান স্বাধীনতার পথে এগিয়ে গেলে ওই অঞ্চলে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার হুমকি তৈরি হবে। এ পথ নিলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তুরস্ক যদি সীমান্ত দিয়ে পণ্যের সরবরাহ বন্ধ করে দেয়, তাহলে কুর্দিদের না খেয়ে থাকতে হবে।

ইরাকি কুর্দিস্তানের ওই গণভোটে ৭২ শতাংশ ভোট পড়েছে।তবে ইরাকের কেন্দ্রীয় সরকার, তুরস্ক ও ইরান এ গণভোটের বিরোধিতা করেছিল। তুরস্কের ভয় তাদের সীমান্তের ওপারে একটি স্বাধীন কুর্দি রাষ্ট্র কায়েম হলে তাদের নিজেদের ভুখন্ডে যে সংখ্যালঘু কুর্দিরা থাকে তাদের ভেতরে বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাব চাগিয়ে উঠতে পারে।

কুর্দিস্তান ইরাক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে সেখানে আমেরিকা ঘাঁটি গাড়বে এবং এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত স্পর্শকাতর ওই এলাকায় অস্থিতিশীলতা তৈরি হবে। তুরস্কের নিজের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থেই ইরানের সহযোগিতায় ইরাক ও সিরিয়ার খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে যাওয়া ঠেকানো দরকার।

সিরিয়া ইস্যু : তুরস্ক ও ইরানের সঙ্গে এবার রাশিয়া

সিরিয়া ও ইরাকে বিভিন্ন উগ্রবাদী গ্রুপকে দমনে তুরস্ক ও ইরানের সাথে রাশিয়া ঘনিষ্ঠ সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে যাচ্ছে। প্যান-আরব সংবাদপত্র আশার্ক আল-আওয়াসাতকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ একথা বলেন। সাক্ষাতকারটি বুধবার প্রকাশিত হয়। খবর তাসের।

লাভরভ বলেন, আঙ্কারা ও তেহরানের সাথে সর্বক্ষেত্রে মস্কোর প্রাত্যহিক কার্যকর সহযোগিতা সিরিয়া ও ইরাকের পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

রাশিয়ার এ কূটনীতিক বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো জটিল ও বহুবিদ চ্যালেঞ্জের মুখে থাকায় এ অঞ্চলের সকল দেশের স্বার্থ রক্ষায় মস্কো, আঙ্কারা ও তেহরানের মধ্যে বৈদেশিক রাজনৈতিক মিথস্ক্রিয়া আমরা বাড়ানোর চিন্তা করেছি।

তিনি আরো বলেন, আমরা তুরস্ক ও ইরানের অংশীদারদের সাথে আরো জোরালোভাবে পারস্পরিক মতবিনিময় এবং কাজ অব্যাহত রাখতে আগ্রহী। এক্ষেত্রে আমাদের প্রথম লক্ষ্য হচ্ছে সিরিয়া ও ইরাকে সন্ত্রাসী গ্রুপকে দমন করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে একটি স্থিতিশীল পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের আলোচনা চলাকালে বিষয়টি নিয়ে তারা কথা বলেন।

তুরস্ক সফরে পুতিন : সিরিয়া সঙ্কটের অবসান দেখছেন যেভাবে
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, সিরিয়ায় যেসব নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করার হয়েছে সেগুলোর মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের চূড়ান্তভাবে পরাজিত করা সম্ভব হবে এবং দেশটিতে গত সাত বছরের সংঘর্ষের অবসান হবে।

গত বৃহস্পতিবার তুরস্ক সফরে গিয়ে আঙ্কারায় তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন পুতিন।

তিনি বলেন, “নিরাপদ অঞ্চলগুলো সিরিয়ার ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধের অবসান ঘটানোর জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এখন এর মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের চূড়ান্ত পরাজয় ঘটবে এবং সিরিয়ার জনগণ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারবে।”

গত মে মাসে কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানায় চতুর্থ আন্তঃসিরিয়া বৈঠকে সিরিয়ায় চারটি নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় সম্মত হয় সংঘর্ষরত পক্ষগুলো। রাশিয়া, ইরান ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং এই তিন দেশ নিরাপদ অঞ্চলগুলো রক্ষার গ্যারান্টি দেয়।

আস্তানা বৈঠকের পরপরই তিনটি নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় এবং এগুলো প্রতিষ্ঠার পর সিরিয়ায় বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সরকারি সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমে যায়। কিন্তু ইদলিব প্রদেশে চতুর্থ নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত এখনো বাস্তবায়ন করা যায়নি।

চলতি মাসের গোড়ার দিকে তুরস্কের সীমান্তবর্তী ইদলিব প্রদেশে ওই অঞ্চল প্রতিষ্ঠার খুঁটিনাটি নিয়ে একমত হয় ইরান, রাশিয়া ও তুরস্ক। ইদলিব প্রদেশের বেশিরভাগ এলাকা আন-নুসরা ফ্রন্টের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাশিয়া ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট সিরিয়ার ইদলিবের ওই নিরাপত্তা অঞ্চল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা জোরদার করতে সম্মত হয়েছেন।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫