ঢাকা, সোমবার,২০ নভেম্বর ২০১৭

সিলেট

তাহিরপুরে রূপের রানী যাদুকাটা নদী

জাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া,তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ)

০৪ অক্টোবর ২০১৭,বুধবার, ১৪:০৩ | আপডেট: ০৪ অক্টোবর ২০১৭,বুধবার, ১৪:৩৭


প্রিন্ট

অপার সম্ভাবনা আর প্রাকৃতিক রূপের ডালা সাজিয়ে আছে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব দিগন্তে অবস্থিত ভাটির জনপদ সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলায়।

দেশের এই প্রান্তিক জনপদের প্রকৃতির সৌন্দর্য অপরূপ। নীল আকাশে সাদা মেঘের খেলা। কখনো জমাট আবার কখনো হালকা বাতাশে দলছুট হয়ে পাগলা ঘোড়ার মত উত্তরে দাঁড়ানো আকাশে ছোঁয়া বিশাল মেঘালয়ের খাসিয়া পাহাড়ে গিয়ে আছঁড়ে পরছে। এমন দৃশ্য যখন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্ত যাদুকাটা নদীর প্রান্তে ফুটে উঠে তখন যে কেউ অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।

এমন রুপে মুগ্ধ হচ্ছেন প্রতিনিয়ত হাজার হাজার দর্শনাথী ও পর্যটক। দিন যতই যাচ্ছে বাড়ছে যাদুকাটা নদীর প্রতি সৌন্দর্য পিপাসু পর্যটকের সংখ্যা। জানাযায়,জেলার তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ও উত্তর বড়দল ২টি ইউনিয়নের মধ্যে এই যাদুকাটা নদী। ভারতীয় মেঘালয়ের বুক দিয়ে বয়ে আসা এই পাহাড়ী নদী সংলগ্ন রয়েছে শাহ আরেফিন আউলীয়ার আস্তানা,হিন্দু সম্প্রদায়ের পনতীর্থ ও ৭শত ফুট উচচতা সম্পন্ন বারেকটিলার নৈসর্গিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।

এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশ থেকেও এসে ভিড় করছে শত শত সৌন্দর্য পিপাসু পর্যটক। যাদুকাটা নদী রূপের নদী,সম্পদের নদী,শ্রমের ও সমৃদ্ধির নদী।

সৌন্দর্যের ১৬ কলাই পরিপূর্ন এক লীলাভূমি যাদুকাটা। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের খাসিয়া পাহাড়ের বুক চিড়ে পাহাড়ী ঝর্নার পানি মিলিত হয়েছে সীমান্ত নদী যাদুকাটায়। এই যাদুকাটা নদী ২৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ হওয়ায় উপজেলার সব চেয়ে বড় নদী।

এ নদীতে সকাল থেকেই শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত বছরের ১২ মাসেই ২০ হাজারের বেশী পাথর শ্রমিক জীবিকার তাগিদে নদী থেকে বালু,পাথর,নুড়ি পাথর আরোহন করছে।

বাদাঘাট বাজার বনিক সমিতির সভাপতি ও যুবলীগ সভাপতি সেলিম হায়দার,বাদাঘাট বাজার বনিক সমিতির সাধারন সম্পাদক ও উত্তর বড়দল ইউনিয়নের যুবলীগ সভাপতি মাসুক মিয়া,ছাত্রলীগ নেতা রাহাদ হায়দার সহ স্থানীয়রা জানান,এই নদী থেকে আরোহিত বালু,পাথর ও নুড়ি পাথর দেশের বিভিন্ন স্থানের প্রয়োজনীয় উপকরন যোগায়।

বর্ষায় পাহাড়ি নদী যাদুকাটার বুকে জলের স্রোতধারা আর হেমন্তে শুকিয়ে যাওয়ায় যাদুকাটার বুকে দেখা যায় দু-দু বালুচরে এ যেন আরবের কোন এক মরুভূমি। ভারতের সারি সারি উঁচু নিচু মেঘালয় রাজ্যের খাসিয়া পাহাড় ও বারেক টিলার বুকে ঘন সবুজের সমারোহ যাদুকাটায় বেড়াতে আসা পযটকদের আরো আকর্ষন বাড়িয়ে দেয়।

পাহাড়ে বসবাসকারী গারো সম্প্রদায়ের আধো আধো বাংলা কথা বলার চেষ্টা বেশ আনন্দ পায় বেড়াতে আসা পর্যটক ও দর্শনার্থীরা। যাদুকাটা নদীর বুকে তারা কখনো ইঞ্জিন চালিত নৌকা ও ডিঙ্গি নৌকা,কখনো তীর ঘেষা রাস্তা দিয়ে পায়ে হেঁটে যাদুকাটার সৌর্ন্দয উপভোগ করে।

তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা,থাকা,খাওয়ার ভাল ব্যবস্থা না থাকার কারনে বেড়াতে আসা লোকজনের কষ্ট হচ্ছে। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল জানান-টাংগুয়ার হাওর,টেকেরঘাট,বারেকটিলা ও যাদুকাটা নদীতে দেশ-বিদেশের পর্যটক সারা বছরেই বেড়াতে আসেন। এখানে একটি সরকারী বা বেসরকারী উদ্যোগে ইকোটুরিজম স্থাপন করা হলে সরকারের যেমন রাজ্যস্ব আয় হবে তেমনি এই এলাকার স্থানীয় বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে সরাসরি সুনামগঞ্জ যাওয়ার জন্য বিভিন্ন বাস সার্ভিস রয়েছে এছাড়াও ঢাকা থেকে সিলেট হয়ে সুনামগঞ্জ বাসস্টান্ড থেকে সিএনজি অথবা মটরসাইকেল অথবা মাইক্রোতে করে লাউড়েরগড়-যাদুকাটা নদী।

ভাড়াঃ সুনামগঞ্জ থেকে মটরসাইকেল জন প্রতি ১শত টাকা দু জনে ২শত টাকা। সিএনজি জন প্রতি ১শত টাকা ৫জনে ৫শত টাকা।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫