ঢাকা, সোমবার,২০ নভেম্বর ২০১৭

বিবিধ

ফ্লাইওভারের ওপর ট্রাফিক সিগন্যাল!

মাহমুদুল হাসান

০২ অক্টোবর ২০১৭,সোমবার, ১৯:০৭


প্রিন্ট
ফ্লাইওভারের ওপর ট্রাফিক সিগন্যাল!

ফ্লাইওভারের ওপর ট্রাফিক সিগন্যাল!

অবশেষে মৌচাক-মালিবাগ সমন্বিত ফ্লাইওভারের মূল নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন চলছে ধোয়ামোছা, রঙ, বিদ্যুতের খুঁটি ও বাতি লাগানোর কাজ। বহু প্রতীক্ষার মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের মালিবাগ-শান্তিনগর-রাজারবাগ অংশের যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হতে পারে আগামী ১৫ অক্টোবর। এই অংশের নিচের রাস্তার সংস্কার কাজও চলছে। অবাক করার ব্যাপার হলো- এই ফ্লাইওভারে পর্যাপ্ত ‘রাইট টার্ন’ না রাখায় দেশে প্রথমবারের মতো এই ফ্লাইওভারেই বসাতে হয়েছে সিগন্যাল বাতি। 

রাজধানীর মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারে পর্যাপ্ত ‘রাইট টার্ন’ না রাখায় অবশেষে ট্রাফিক সিগন্যাল বসানো হয়েছে। ফ্লাইওভারের ওপরে যানজট এড়াতে মালিবাগ এবং মৌচাক পয়েন্টে এই সিগন্যাল স্থাপন করা হয়েছে। সাধারণত যানজট নিরসন করতে রাইট টার্নের সুবিধার জন্যই রাস্তার বদলে তৈরি করা হয় ফ্লাইওভার। অথচ যানজট নিরসনের স্বস্তির জায়গায় এই ফ্লাইওভারেই বসাতে হয়েছে সিগন্যাল।

গতকাল সরেজমিন মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের মালিবাগ অংশে দেখা যায়, ফ্লাইওভারের কাজ প্রায় শেষ। বিভিন্ন অংশে হালকা ঝালাই ও ধোয়ামোছার কাজ চলছে। কারণ চলতি মাসেই উদ্বোধন হবে ফ্লাইওভারের। নিচের রাস্তায় চলছে পিচ ঢালাইয়ের কাজ। ফ্লাইওভারের মালিবাগ এবং মৌচাক এই দুই জায়গায় বসানো হয়েছে সিগন্যাল। রাইট টার্ন না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে ফ্লাইওভার নির্মাতা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মালিবাগ-মৌচাকের মতো জনবহুল এলাকায় জায়গা ছিল খুব কম। তাই আলাদা লুপ বের করার জায়গা ছিল না। এ জন্য সিগন্যাল বসানো হয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ফ্লাইওভারের ওপর সিগন্যাল আছে। এটা নতুন কিছু নয়।

কুড়িল ফ্লাইওভার ও বনানী জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভারের নকশাকার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. সামছুল হক জানিয়েছেন, মালিবাগ ও মৌচাকের সিগন্যালে তৈরি হওয়া ঐতিহাসিক যানজট নিরসনের পরিকল্পনা থেকে এই ফ্লাইওভার প্রকল্পটি এসেছিল। অথচ সেখানেই এখন সিগন্যাল বসানো হয়েছে। এত দীর্ঘ একটি উড়াল সড়কে পর্যাপ্ত রাইট টার্নের ব্যবস্থা না রাখায় তা যানজট নিরসনে ভূমিকা রাখবে না। তাহলে শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই স্থাপনা ব্যবহার করা আর ভূমির ওপরে তৈরি রাস্তার মধ্যে পার্থক্যটা থাকল না। উল্টো ফ্লাইওভারের কলামগুলোর কারণে রাস্তার জায়গা নষ্ট হলো। অবাক করার বিষয় হলো- এখন ফ্লাইওভারের ওপরে যানজট নিরসনে আবার পুলিশ বসাতে হবে। কারণ, বিদেশে সিগন্যাল মানলেও আমাদের দেশে সিগন্যাল মানার প্রবণতা নেই।

এ ছাড়াও এই ফ্লাইওভারে ওঠার পথ নামার পথের চেয়ে তুলনামূলক খাড়া। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এই ফ্লাইওভারে ওঠার দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০০ মিটার আর নামার ক্ষেত্রে ৩২০ মিটার। ফ্লাইওভারে ওঠার রাস্তা বেশি ঢালু হয়, যাতে স্বাভাবিক গতিতে গাড়ি চালিয়েই ওঠা যায়। আর নামার রাস্তাটি হয় তুলনামূলক খাড়া। কিন্তু মালিবাগ-মৌচাক ফ্লাইওভারে এর সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। এই ফ্লাইওভারের নকশা করে দিয়েছে বিদেশী প্রতিষ্ঠান। বিদেশে বাঁ দিকে স্টিয়ারিংয়ে চালিত গাড়ির কথা মাথায় রাখায় ওঠানামার লুপে এই বৈপরীত্য দেখা দিয়েছে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ ব্যাপারে ড. সামছুল হক বলেন, বিদেশী গাড়ির কন্ডিশন এবং স্টিয়ারিংয়ের ধরন আমাদের চেয়ে আলাদা। তাই যে প্রতিষ্ঠান নকশা বুঝে নিয়েছে তারাও এই ভুলটা ধরতে পারেনি। এই ফ্লাইওভারের কারণে গণপরিবহন ব্যবস্থা ও যাত্রী ওঠানামায় ভোগান্তি তৈরি হবে। যেটা হয়েছে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে। আমাদের দেশে ভুল থেকে শিক্ষা নেয়ার প্রবণতা এবং জবাবদিহিতা কম। ফলে উন্নয়নের নামে টাকা খরচ হয়; কিন্তু জনগণের ভোগান্তি কমে না। তবে নকশা ভুলের কথা অস্বীকার করে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের প্রকল্প পরিচালক সুশান্ত কুমার পাল বলেন, এই ফ্লাইওভারে নকশা ভুলের কোনো অবকাশ নেই। এটা মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে ছড়ানো হচ্ছে।

ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ফ্লাইওভারের পাশাপাশি এর নিচের অংশের রাস্তা, মিডিয়ান ও লেভেলিংয়ের কাজও নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানেরই করার কথা এবং তা উদ্বোধনের আগেই করতে হবে। চুক্তি অনুযায়ী নিচের সংস্কারকাজের পুরোটাই নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানকে করতে হবে। তবে সেখানে ফুটপাথ, ড্রেন এগুলোর কাজ আমাদের করতে হবে। সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ, ফ্লাইওভার কর্তৃপক্ষ, এলজিইডি সমন্বয় করে কাজগুলো করছে। ফ্লাইওভারের নিচের অংশের রাস্তা ও ড্রেন সংস্কারকাজ শেষ হলে শান্তিনগর, মালিবাগ, মৌচাক এলাকার জলাবদ্ধতারও সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

চার লেনের এ ফ্লাইওভারে ওঠানামার জন্য ১৫টি র‌্যাম্প রয়েছে। তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা, এফডিসি, মগবাজার, হলিফ্যামিলি হাসপাতাল, বাংলামটর, মালিবাগ, রাজারবাগ পুলিশ লাইন এবং শান্তিনগর মোড়ে ওঠানামা করার ব্যবস্থা আছে। এটি রিখটার স্কেলে ১০ মাত্রার ভূমিকম্প সহনীয় বলে প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে। প্রতিটি পিলার পাইলের গভীরতা প্রায় ৪০ মিটার গভীর।

ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ শুরুর পর এর নিচের অংশে যত্রতত্র নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখার কারণে এটি নগরবাসীর ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ফ্লাইওভারের নিচের সংস্কারকাজ শেষ হলে এবং এটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দিলে এই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী মানুষের যানজট নামক যন্ত্রণার অবসান হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫