ঢাকা, রবিবার,১৯ নভেম্বর ২০১৭

বিবিধ

দেবী বিসর্জনে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক

৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭,শনিবার, ২০:৩৪


প্রিন্ট

দেবী বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আজ শনিবার শেষ হয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দূর্গাপূজা।

বিষাদের সুর আর চোখের জলে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানিয়েছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, আজ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে মা দূর্গা তার সন্তান কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী, স্বরস্বতীসহ কৈলাসে শ্বশুর বাড়ি ফিরে গেছেন। পিতৃগৃহে এই ধরণীতে তিনি আবার আসবেন এক বছর পর।

রাজধানীর অধিকাংশ মণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন হয় সদরঘাটে বুড়িগঙ্গা নদীতে।

এছাড়া মহানগর পূজা উদযাপন কমিটি সূত্র জানায়, রাজধানী ও আশেপাশে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও আশুলিয়ার কাছের নদীগুলিতে প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়।

এর আগে দেবী দুর্গাকে বিদায় দেয়ার জন্য শেষ প্রস্তুতি হিসেবে রাজধানীর প্রায় সব মন্দির প্রাঙ্গনেই দেখা মিলেছে নানা কর্মসূচি উদযাপনের দৃশ্য। শেষবারের মতো মাকে দর্শন, পূজা করার পাশাপাশি বিদায় দেয়ার জন্য পূজামণ্ডপগুলোতে ভিড় জমান ভক্তরা। জীবনের পঙ্কীলতা থেকে মুক্তির আশায় দেবীকে প্রণাম নিবেদন করেন ভক্তরা। নারীরা দেবীর ললাটের সিঁদুর আপন ললাটে এঁকে নেন।

আগামী শরতে আবার বাঙালি হিন্দুর ঘরে ঘরে মা দুর্গা ফিরে আসবেন, সে কামনায় থাকবেন ভক্তরা।

আজ সকালে বিজয়া দশমীতে ‘বিহিত পূজা’ আর ‘দর্পণ বিসর্জনে’ দুর্গাপূজার শাস্ত্রীয় সমাপ্তি হয়। সকালে হিন্দু সম্প্রদায়ের মাতৃত্ব ও শক্তির প্রতীক দেবী দুর্গার আশির্বাদ প্রার্থনায় মণ্ডপে-মণ্ডপে চলে উৎসবের শেষ আনুষ্ঠানিকতা। দশ দিন আগে মহালয়ার পুণ্য তিথিতে দেবীকে মর্ত্যে আবাহনের মাধ্যমে যে উৎসবের সূচনা হয়েছিল।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পুরোহিত নারায়ণ চক্রবর্তী সাংবাদিকদের বলেন, সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে দেবীকে কৈলাসের পথে বিদায় জানান সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

তিনি বলেন, প্রথমে কচু ঘেচুর মাধ্যমে মহিষাসুর বা অশুভ শক্তির পূজা করা হয়েছে। তারপর সিদ্ধ চাল, কলা, চিড়াসহ নানা দ্রব্যে দেবীকে ভোগ নিবেদন করা হয়। তারপর শাপলা শালুকে দেবীকে পূজা দেয়া হয়। তারপর নবস্তোত্র, প্রদক্ষিণস্তোত্র, চণ্ডীস্তোত্রে দেবী দুর্গার দর্পন বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হয় বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা।

বিসর্জনের আগে নারী ভক্তরা নানা উপচারে ডালি সাজিয়ে নিয়ে আসেন। প্রত্যেকের ডালায় সিঁদুর। দেবীর চরণে সিঁদুর অর্পণের পর সেই সিঁদুর নিজের সিঁথিতে পরেন তারা। তারপর পরিয়ে দেন মণ্ডপে আসা সধবাদের। পুরোহিতের সাথে ‘আনন্দময়ী দুর্গাকে’ ফের মর্ত্যে আবাহনের সময় ভক্তদের অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। কৈলাসের পথে দেবীকে বিদায় জানিয়ে ভক্তরা শেষ বারের মতো প্রার্থনা করেন।

এদিকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিকেল চারটা থেকেই ওয়াইজঘাটের বিনা স্মৃতি স্নানঘাটে রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে ট্রাকে করে প্রতিমাসহ মানুষের মিছিল উপস্থিত হতে থাকে। শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জনের নানান উৎসব। নাচে-গানে মাতিয়ে রাখেন ভক্তরা।

ঢাকের তালের পাশাপাশি ‘দুর্গা মা-ই কি, জয়’ স্লোগানে ঘাটের দিকে এগিয়ে যান তারা। ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পক্ষ থেকে দেয়া সিরিয়াল নম্বর অনুসারে প্রতিমা বিসর্জনের পালা শুরু হয়। সর্বপ্রথম ২৩০ লালমোহন স্ট্রিট থেকে আগত পারিবারিক পূজার প্রতিমা ও বৃহৎ আকারে ধানমন্ডি সার্বজনীন পূজা কমিটি থেকে প্রতিমা বিসর্জনের কাজ সম্পন্ন হয়।

ঘাটে সিরিয়াল টোকেনের মাধ্যমে নৌকায় প্রতিমা উঠিয়ে একে একে প্রতিমা বিসর্জনের কাজ সম্পন্ন করা হয়। এর পাশাপাশি পাঁচটি ট্রলারের মাধ্যমে প্রতিমা বিসর্জনের কাজ চলে। পুরান ঢাকার পোস্তগোলার শ্মশানঘাটে ও লালকুঠির ঘাটে আরো প্রতিমা বিসর্জনের কাজ সম্পন্ন হয়। প্রতিমা বিসর্জন দেখতে ঘাটে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে হাজারো মানুষ হাজির হন।

এসময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওয়াইজঘাটে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব ও নৌ-বাহিনীর সদস্যের উপস্থিতির পাশাপাশি নদীতে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও র‌্যাবের সদস্যরাও তৎপর ছিলেন।

বিসর্জনের সময় ‘দুর্গা মা কী, জয়’, ‘আসছে বছর আবার হবে’ বলে ধ্বনি দেয়া হয়। হাজার হাজার ভক্তের উপস্থিতিতে ঢাকের শব্দের সাথে কাঁসার ঘণ্টা বাজিয়ে নৌকাযোগে প্রতিমাগুলো নদীতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।

হিন্দু ধর্ম মতে শান্তি, সংহতি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য এবং দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনে বিশ্বব্যাপী মঙ্গল বার্তা নিয়ে মা দুর্গা এ সময়ে লোকালয়ে আসেন।

পঞ্জিকা মতে, এবার মা কৈলাস থেকে বাবার বাড়ি বসুন্ধরায় আসেন নৌকায় চড়ে। আর ফিরে যান ঘোড়ায় চড়ে।

এদিকে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের হিসেব মতে, রাজধানী ঢাকায় ২৩১টিসহ এবার সারা দেশে ৩০ হাজার ৭৭টি মণ্ডপে পূজা হয়।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫