মসজিদে ক্ষুধার্তদের খাবারের ব্যবস্থা
মসজিদে ক্ষুধার্তদের খাবারের ব্যবস্থা

মসজিদে ক্ষুধার্তদের খাবারের ব্যবস্থা

নয়া দিগন্ত অনলাইন

তুরস্কের ইস্তাম্বুলের ‘আজিজ মাহমুদ হুদায়ী মস্ক’ নামক একটি মসজিদ। মসজিদটি ১৫৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। মসজিদটিতে দরিদ্র, নি:স্ব ও ক্ষুধার্তদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও রয়েছে।

মসজিদটির  ইমাম মোস্তফা ইফি বলেন, ‘আমাদের দরজা সবার জন্যই খোলা। আমরা সব ক্ষুধার্তকেই খাওয়াবো। বাস্তুচ্যুত কিংবা উদ্বাস্তু সবাইকেই খাওয়াবো। এমনকি প্রাণীদেরও।আমরা স্রষ্টার সৃষ্টি কোনো প্রাণীকেই লাথি মারব না বা আঘাত করব না; যারা আমাদের দরজায় আসে।’

সূত্র : মিডল ইস্ট আই

ইস্তাম্বুল : যেখানে বিড়ালই রাজা!

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে মসজিদে, বাড়িতে, বাজারে দেখা যায় বিড়াল। পোষা প্রাণী বিড়ালের প্রতি ভালোবাসা দেখা যায় পাবলিক প্লেসেও। সমাজে ধর্মীয় স্থান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং পারিবারিক  পরিসরে পোষা বিড়ালের সাথে সখ্যতা চোখে পড়ে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ছবিতে দেখা যায়, বিভিন্ন বয়সীরাই বিড়ালের সাথে খেলা করছে। কেউ একজন কুরআন তেলাওয়াত করছে অথচ পাশেই বিড়াল ঘুমাচ্ছে। মসজিদেই অনেকগুলো বিড়াল ছানা মাসহ আশ্রয় নিয়েছে। কর্মব্যস্ত মানুষটির কাছেও শান্তভাবে বসে আছে বিড়াল।

মসজিদে অবস্থানকালেও বিড়াল সাথে রাখেন ইমাম মোস্তফা ইফি। বিড়াল তার কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় প্রাণী। একজন ইমাম তার মসজিদের দরজা খুলে রাখছেন শুধুমাত্র প্রতিবেশি বিড়াল ও বিড়াল ছানাগুলোর ঠান্ডায় আশ্রয়দানের উদ্দেশ্যে। এসব পবিত্র স্থানেও বিড়ালের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোড়ন করেছে। কাজের অবসরে এই নরম আর আদুরে প্রাণীটিই হয়ে ওঠছে যেন সময় কাটানোর সঙ্গী।

ইস্তাম্বুলবাসীর বাসায় বিড়াল পোষার অভ্যাস দীর্ঘদিনের। বিড়ালকে পোষ্য হিসেবে পালনকারী মুস্তফা ইফি বলেন, আমাদের বিশ্বাস হচ্ছে দয়া ও সহানুভূতির। যা প্রাণীর প্রতিও মমত্ববোধ জাগায়।আর ইসলামে বিড়ালকে অপবিত্র মনে করা হয় না। ফলে বিড়াল মসজিদেও থাকতে পারে। ইস্তাম্বুলে কফি শপে, রেঁস্তোরায়, চা স্টলে কিংবা বাসা-বাড়িতেও ভালো সিটেই বিড়ালকে বসে থাকতে দেখা যায়। কাস্টমার কিংবা মালিক কেউ তাদের তাড়িয়ে দেয় না, বিরক্ত করে না। পাশের আসনেও বসতে দ্বিধা করে না। চেয়ারে-টেবিলে বিড়াল থাকলেও তাতে কেউ কিছু মনে করে না।

তার পর আস্তে আস্তে তারা ছড়িয়ে পড়ে ইউরোপ হয়ে সারা বিশ্বে। তবে এ কথা এখনো স্পষ্ট করে জানা সম্ভব হয়নি, পশ্চিম এশিয়ার পোষা বিড়ালই কি মিসরে এসেছিল, নাকি মিসরে বিড়াল পোষার চলন সে দেশেরই নিজস্ব সংস্কৃতি। আমাদের নবী (সা:)একটি ঘুমন্ত বিড়ালকেও ডিস্টার্ব করেননি। একটি বিড়াল তাঁকে সাপে কাটা থেকেও রক্ষা করেছিল।

ইস্তাম্বুলে ১ থেকে দেড় লাখ কুকুরও আছে। বিড়াল ইস্তাম্বুলবাসীকে ইদুরের উৎপাত থেকে রক্ষা করে।ইফি বলেন, মাওলানা জালাল উদ্দীন রুমি বলেছিলেন, এসো, এসো; তুমি যেই হও। তিনি যেকোনো জীবিত প্রাণী কিংবা উদ্ভিদকেই স্বাগত জানাতেন।

ইফি যে মসজিদের ইমাম; সেই মসজিদটির নাম ‘আজিজ মাহমুদ হুদায়ী মস্ক’। মসজিদটি ১৫৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। মসজিদটিতে দরিদ্র, নি:স্ব ও ক্ষুধার্তদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও রয়েছে। ইফি বলেন, ‘আমাদের দরজা সবার জন্যই খোলা। আমরা সব ক্ষুধার্তকেই খাওয়াবো। বাস্তুচ্যুত কিংবা উদ্বাস্তু সবাইকেই খাওয়াবো। এমনকি প্রাণীদেরও। আমরা স্রষ্টার সৃষ্টি কোনো প্রাণীকেই লাথি মারব না বা আঘাত করব না; যারা আমাদের দরজায় আসে।’

সূত্র : মিডল ইস্ট আই

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.