ঢাকা, সোমবার,১১ ডিসেম্বর ২০১৭

ধর্ম-দর্শন

আশুরার দিন রোজা রাখা

ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ আল মাদানী

৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭,শনিবার, ১৪:৩৮


প্রিন্ট
আশুরার দিন রোজা রাখা

আশুরার দিন রোজা রাখা

আয়েশা রা: হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রমজান মাসের রোজা ফরজ করার আগে মুসলমানেরা আশুরার দিন রোজা রাখত। আর এ দিন কাবাঘরের গিলাফ পরানো হতো। যখন রমজানের রোজা ফরজ করা হলো তখন রাসূল সা: এ ঘোষণা দিলেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে এ দিনের রোজা রাখার সে রোজা রাখবে। আর যে রোজা পরিহার করতে চায় সে তা পরিহার করবে (বুখারি-১৫১৫, ১৭৯৪)

এ দিনের মর্যাদা উপলব্ধি করে ইহুদি সমাজও এ দিনকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ করত এবং বিশেষভাবে এ দিনের রোজাব্রত পালন করত। রাসূল সা: থেকে প্রসিদ্ধ সাহাবি ইবনে আব্বাস রা: বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, নবী সা: যখন মদিনায় আগমন করেন তখন তিনি ইহুদিদের দেখতে পেলেন তারা আশুরার দিবসে সিয়াম পালন করছে, তাদের জিজ্ঞেস করা হলো; এ দিনের রোজা সম্পর্কে তারা বলল- এ দিন আল্লাহ তায়ালা মূসা আ: ও বনি ইসরাইলকে ফেরাউন ও তার সম্প্রদায়ের ওপর বিজয় দান করেছেন, তাই আমরা এ দিনের সম্মান ও মহত্ত্বের জন্য রোজা পালন করি। তাদের প্রতিউত্তরে রাসূল সা: এরশাদ করলেন- আমরা তোমাদের চেয়ে মূসার উত্তম অনুসারী, অতঃপর তিনি এ দিনের রোজা রাখতে সাহাবিদের নির্দেশ দেন (বুখারি-৩৭২৭)।

আশুরার দিনে রোজা রাখার বিশেষ ফজিলত হচ্ছে, রাসূল সা:কে এ দিনের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘এ দিনের রোজা পালন গত এক বছরের গুনাহগুলোর কাফফারাস্বরূপ’ (সহি মুসলিম-১১৬২)।

ইবনে আব্বাস রা: থেকে বর্ণিত অপর এক হাদিসে এসেছে, আশুরার দিবসের রোজা প্রসঙ্গে তাকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার জানা নেই রাসূল সা: এ দিন ছাড়া অন্য কোনো দিন ফজিলতের উদ্দেশ্যে রোজা পালন করতেন। আর এ মাস অর্থাৎ রমজান ছাড়া অন্য কোনো মাসে তিনি রোজা পালন করতেন।’

সহি মুসলিমের অপর বর্ণনায় এসেছে, রাসূল সা: এরশাদ করেছেন, ‘আশুরার দিবসের রোজা পালনে আমি গত বছরের গুনাহের কাফফারা হিসেবে আশা পোষণ করি’ (সহি মুসলিম-২৮০৩)।
সহি বুখারি ও মুসলিমে সালামাহ ইবনে আকওয়া রা: হতে বর্ণিত, নবী সা: বনি আসলাম গোত্রের এক লোককে নির্দেশ দিলেন সে যেন লোকদের মাঝে এ ঘোষণা করে দেয়, যে আজ সকালে খেয়েছে সে যেন দিবসের বাকি অংশ রোজা পালন করে, আর যে ব্যক্তি কিছু খায়নি সে যেন রোজা রাখে। কেননা আজকের এ দিন আশুরার দিন।

অপর বর্ণনায় রুবাই বিনতে মু’আওয়ামের সূত্রে এসেছে, রাসূল সা: আশুরার দিন সকালে মদিনার আশপাশে আনসারদের গ্রামগুলোতে লোক পাঠিয়ে এ ঘোষণা দিলেন, যে ব্যক্তি আজ রোজা রেখেছে সে রোজা সম্পন্ন করবে, আর যে ব্যক্তি রোজা রাখেনি সে দিবসের বাকি সময় রোজা পালন করবে। অতঃপর আমরা এ দিন রোজা রাখতাম এবং আমাদের ছোট সন্তানদেরও রোজা রাখতে বাধ্য করতাম।

রমজান মাসের রোজা ফরজ হওয়ার পর রাসূল সা: আশুরার রোজা রাখার নির্দেশ তুলে নেন এবং এ ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করেন।
বুখারি ও মুসলিমে বর্ণিত আছে, ইবনে উমর রা: থেকে বর্ণিত, নবী সা: আশুরার রোজা রেখেছেন এবং রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন, তবে যখন রমজানের রোজা ফরজ করা হলো তিনি এ নির্দেশ পরিহার করেন। তাই আবদুল্লাহ ইবনে উমর তার নির্ধারিত নফল রোজার দিন না হলে আশুরার এ দিনের রোজা রাখতেন না।

এসব হাদিস থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, নবী সা: রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পর আশুরার সিয়াম পালনকে নির্দেশ শিথিল করে নেন। এরপর এ দিনের রোজা বাধ্যতামূলক ছিল না। এ দিনের রোজা পালন মুস্তাহাব বা সুন্নতের পর্যায়ে রয়ে যায়। তার পরও উমর ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আউফ আবু মূসা, কায়স ইবনে সাদ, ইবনে আব্বাস প্রমুখ থেকে এ দিনের রোজা রাখা প্রমাণিত হয়।
নবী সা: তাঁর জীবনের শেষ দিকে এ দিনের সাথে অন্য এক দিনসহ রোজা রাখার সঙ্কল্প করেন।

যেহেতু ইহুদি সম্প্রদায় শুধু এ দিনের রোজা পালন করে থাকে, তাই তিনি তাদের বিরোধিতা করণার্থে এ দিনের সাথে আরো এক দিন রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ করেন। সহি মুসলিমে ইবনে আব্বাস রা: থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রাসূল সা: আশুরার দিবসে রোজা রাখলেন এবং এ দিনের রোজা রাখতে নির্দেশ দিলেন, সাহাবিরা তাকে জানালেন : হে আল্লাহর রাসূল সা:, এ দিনটিকে ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা মর্যাদা দিয়ে থাকে। তখন রাসূল সা: বললেন, তাহলে ইনশাআল্লাহ আগামী বছর এলে আমরা নবম তারিখেও রোজা রাখব। বর্ণনাকারী বলেন, আগামী বছর আসার আগেই রাসূল সা:-এর ইন্তেকাল হয়ে যায়। অপর এক বর্ণনায় এসেছে, ইবনে আব্বাস রা: থেকে তিনি বলেন, রাসূল সা: এরশাদ করেছেন, যদি আমি আগামী বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকি অবশ্যই আশুরার সাথে নবম দিনও রোজা রাখব।

মুসনাদ ইমাম আহমাদে এসেছে, ইবনে আব্বাস রা: থেকে বর্ণিত আছে, নবী সা: এরশাদ করেছেন, আশুরার দিবসে তোমরা রোজা রাখো, আর এ ক্ষেত্রে ইহুদিদের বিরোধিতাকারী আশুরার আগে এক দিন এবং পরে এক দিন রোজা রাখো।

ইবনুল কাইয়্যেম রহ: জাদুল মা’আদ-এ উল্লেখ করেন, ‘আশুরার দিবসের রোজার তিনটি গ্রেড রয়েছে। সর্বোচ্চ গ্রেড হচ্ছে এর আগে ও পরে মোট তিনটি রোজা রাখা; তারপর হচ্ছে ৯ ও ১০-এ দুই দিনের রোজা রাখা। বেশির ভাগ হাদিস এভাবে এসেছে। এরপর হচ্ছে কেবল ১০ তারিখের রোজা রাখা। এ বক্তব্য থেকে এটাও প্রতীয়মান হয় যে, শুধু ১০ তারিখের রোজা রাখা মাকরুহ নয়।
লেখক : প্রবন্ধকার

 

আশুরার শিক্ষা 
অধ্যাপক মুহাম্মদ কাওসার হুসাইন

‘আশুরা’ শব্দের অর্থ দশম বা দশমী। ‘আশুরা’ শব্দটির তাৎপর্য এভাবে বর্ণিত হয়েছেÑ ‘আশুরা’ শব্দটি ছিল ‘আশানুরা’ অর্থাৎ যে ব্যক্তি এ মহান দিনের মর্যাদা রক্ষা করবে সে নূরানি জীবন লাভ করবে। অতঃপর ‘আশানুরা’র ‘নুন’ অক্ষরটি বাদ দিয়ে বাক্যটি সহজ করা হয় ‘আশারা’ বা ‘আশুরা’। কারো কারো মতে, এ দিনে আল্লাহ পাক ১০ জন পয়গম্বরকে তাঁর ১০টি অনুগ্রহ ও বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন বলে এটিকে ‘আশুরা’ বলা হয়।

হাদিসে ‘আশুরা’ দিবসে রোজা পালনের বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘রমজানের রোজার পরে আল্লাহর নিকট মহররম মাসের রোজা ফজিলতের দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠতম’ (সহি মুসলিম : ১/৩৮৮ পৃ:)। মহানবী সা: আরো বলেন, ‘আমি আল্লাহর দরবারে আশা রাখি যেন ‘আশুরা’র রোজা আল্লাহর নিকট পূর্ববর্তী বছরের গুনাহের কাফফারাস্বরূপ গণ্য হয়’ (তিরমিজি-১৩২, ইবনে মাজাহ-১২৪, সহি বুখারির ১২৫১ : আশুরার দিনে রোজা পরিচ্ছেদে ১৮৭৪ থেকে ১৮৮১ পর্যন্ত আটটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে)।
আশুরার দিনে যেহেতু ইহুদিরাও রোজা রাখে তাই তাদের সাথে পার্থক্য রাখার জন্য রাসূলুল্লাহ সা: বললেন, ‘তোমরা আশুরার দিনে রোজা রাখো এবং এর আগে এক দিন অথবা পরে এক দিন রোজা রেখে ইহুদিদের বিরুদ্ধাচরণ করো।’ 
বিশ্বের বিভিন্ন জাতির ইতিহাস কিভাবে এ দিনের সাথে জড়িত তার প্রতি দৃষ্টি দিলে সহজেই আমরা আশুরার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারি।

মানবজাতির আদি পিতা হজরত আদম আ:-কে প্রতিনিধি হিসেবে সৃষ্টি, জান্নাতে অবস্থান, পৃথিবীতে প্রেরণ ও তাওবা কবুল সবই আশুরার তারিখে সংঘটিত হয়। ২. হজরত নূহ আ: সাড়ে ৯০০ বছর তাওহিদের দাওয়াত দেয়ার পরও যখন পথভ্রষ্ট জাতি আল্লাহ পাকের বিধান মানতে অস্বীকৃতি জানায় তখন তাদের প্রতি নেমে আসে আল্লাহর গজব মহাপ্লাবন। এই মহাপ্লাবনের ধ্বংসলীলা থেকে রক্ষা পায় তারা যারা আল্লাহ ও নবীর প্রতি বিশ্বাসী হয়ে নূহ আ:-এর নৌকায় আরোহণ করে। ওই নৌকা ৪০ দিন পর জুদি পাহাড়ের পাদদেশে মাটি স্পর্শ করে ঐতিহাসিক আশুরার দিন। ৩. এ দিনেই হজরত ইব্রাহিম আ:-এর জন্ম, ‘খলিলুল্লাহ’ উপাধিতে ভূষিত ও নমরুদের অগ্নি থেকে রক্ষা পান। ৪. হজরত ইদ্রিস আ:-কে বিশেষ মর্যাদায় চতুর্থ আসমানে উঠিয়ে নেয়া হয় আশুরার দিনে। ৫. সুদীর্ঘ ৪০ বছর পর হজরত ইউসুফ আ:-এর সাথে তার পিতা ইয়াকুব আ:-এর সাক্ষাৎ যে দিন হয় সে দিনটি ছিল আশুরার দিন। ৬. নবী আইয়ুব আ: দীর্ঘ ১৮ বছর কুষ্ঠরোগ ভোগ করার পর আরোগ্য লাভ করেছিলেন আশুরার দিন। ৭. ইউনূস আ: ৪০ দিন মাছের পেটে থাকার পর মুক্তি লাভ করেন আশুরার দিন। ৮. ঘটনাক্রমে হজরত সুলায়মান আ: সাময়িক রাজত্ব হারা হন। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে আবারো রাজত্ব ফিরিয়ে দেন আশুরার দিনে। ৯. আল্লাহ তায়ালা হজরত মূসা আ: ও তাঁর অনুসারী বনি ইসরাইলদেরকে ফেরাউনের অত্যাচার থেকে মুক্ত করে পানির মধ্যে রাস্তা তৈরি করে দিয়ে পার করে দেন এবং ফেরাউনকে তার দলবলসহ সাগরে ডুবিয়ে মারেন আশুরার দিন। মূসা আ: তুর পাহাড়ে আল্লাহর সাথে কথা বলেছিলেন আশুরার দিনে। ১০. এ দিনে হজরত ঈসা আ:-এর জন্ম হয় এবং ইহুদিরা তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করলে আল্লাহ তায়ালা তাঁকে ফেরেশতা কর্তৃক সশরীরে আসমানে উঠিয়ে নেন এ দিনেই। ১১. আশুরার দিবসেই মহানবী সা:-এর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ত্র“টিবিচ্যুতি ক্ষমা করে দেয়া হয়। ১২. পবিত্র কাবা শরিফে সর্বপ্রথম গিলাফ দ্বারা আবৃত করা হয়েছিল আশুরার দিন।

এ পৃথিবীর অস্তিত্বের সাথেও আশুরার দিনের গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। আশুরার দিনেই আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি করেছেন আকাশমালা, মর্তজগৎ, পর্বতরাজি, লওহ-কলম ও ফেরেশতাদের। আশুরার দিনে আল্লাহ তায়ালা নিজ আরশে আজিমে অধিষ্ঠিত হন। আকাশ থেকে প্রথম বৃষ্টিপাত হয় এ দিনেই। শুধু সৃষ্টির সাথেই নয়, বরং লয়ের সাথেও রয়েছে এ দিনের সম্পর্ক। রাসূলুল্লাহ সা:-এর ভবিষ্যদ্বাণী হচ্ছে, কিয়ামত সংঘটিত হবে মহররম মাসের ১০ তারিখ জুমার দিন। এভাবে পৃথিবীর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ দিনের সম্পর্ক।

আশুরার দিনটি যে কারণে বিশ্ব মুসলিমের কাছে অত্যন্ত স্মরণীয়, শিক্ষণীয় ও হৃদয়বিদারক তা হলো কারবালার ঘটনা। হজরত মুয়াবিয়া রা: ইন্তেকালের পর মদিনাবাসীর মতামত না নিয়েই ইয়াজিদ ইসলামী রাষ্ট্রনীতির বরখেলাফ করে দামেস্কের মসনদে আসীন হন। যে নীতি-আদর্শ মহানবী সা: প্রতিষ্ঠা করে গেছেন এবং খোলাফায়ে রাশেদিন যে নীতির আলোকে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন ইয়াজিদের দ্বারা সে নীতি-আদর্শ পরিবর্তিত হওয়ায় হজরত হুসাইন রা: তা রক্ষার জন্য সোচ্চার হলেন। অবশেষে রাসূলুল্লাহ সা:-এর দৌহিত্র হজরত হুসাইন রা: অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে সত্যের জন্য সংগ্রাম করে কারবালার প্রান্তরে সপরিবারে শাহাদতবরণ করে সর্বোচ্চ ত্যাগের অতুলনীয় আদর্শ রেখে গেছেন।

আশুরার শিক্ষা 
১. আশুরার দিনটি মূলত বাতিলের পরাজয় এবং সত্যপন্থী, হকপন্থীদের বিজয় ও মুক্তির দিবস। ২. নবী ও তাঁদের অনুসারীদের ইতিহাস স্মরণপূর্বক আল্লাহর বিধান পালন ও বাস্তবায়নে অবিচলতা, দৃঢ়তা ও আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা যথার্থমানের হতে হবে। তাহলে এখনো আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীর সব বাতিল শক্তির মোকাবেলায় মুসলিমদের বিজয়ী করবেন। ৩. ঈমান-আকিদাবিরোধী সব কার্যকলাপ বন্ধ করতে সচেষ্ট হতে হবে। ৪. মুসলিম নামধারী হয়েও যারা ইয়াজিদ, ইবনে জিয়াদ ও সিমারের ভূমিকা পালন করছে তাদের ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। ৫. ইসলাম সম্পর্কে যারা ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করে তাদেরকে সঠিক ধারণা প্রদান করতে হবে এবং ইসলামের সুমহান আদর্শের দিকে সবাইকে আহ্বান জানাতে হবে। এ ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে নিজেদের কুরআন-হাদিস ও ইসলামী সাহিত্য নিয়মিত অধ্যয়ন ও চর্চার দ্বারা ইসলামের যথার্থ জ্ঞানের অধিকারী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ৬. সুস্থ ও মননশীল সংস্কৃতি চর্চা ও প্রচারের মাধ্যমে অপসংস্কৃতির বিভীষিকা রোধ করতে হবে। ৭. সত্য ও ন্যায়কে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে বাতিলের মোকাবেলায় বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে। ৮. আল্লাহর সন্তুষ্টি ও দ্বীন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সব কাজে ত্যাগ এবং কোরবানির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। ৯. সুযোগ থাকার পরও যেমন হুসাইন রা:-এর সাথীরা তাকে ছেড়ে না গিয়ে তার সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে সাথে থেকেছেন তেমনি আমাদেরও উচিত সত্যপন্থীদের সমর্থন, সহযোগিতা ও সাথে থাকা। ১০. ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে সার্বিক সফলতা অর্জনের জন্য নিজেরা নেক আমল করা, সর্বপর্যায়ে আল্লাহর বিধান বাস্তবায়ন এবং খোদাভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

আশুরার তাৎপর্য সম্পর্কে ইমাম জাফর আস-সাদিক র: বলেন, ‘প্রতিটি দিনই আশুরা, প্রতিটি মাসই মহররম এবং প্রতিটি ভূমিই কারবালা।’ প্রতিটি দিনই আশুরা মানে আশুরার শিক্ষা বাস্তবায়নে প্রতিদিনই আমাদের কিছু কর্মসূচি থাকা আবশ্যক। প্রতিটি মাসই মহররম অর্থ কারবালার চেতনা শুধু মহররম মাসে সীমিত রাখলেই চলবে না, প্রতিটি মাসেই এই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সত্যের জন্য সংগ্রাম করে যেতে হবে। প্রতিটি ভূমি কারবালা অর্থ হচ্ছে প্রতিটি ভূমিকে কারবালা মনে করে অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে কারবালার চেতনা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।
লেখক : জাতীয় পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ ইমাম-২০০২

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫