ঢাকা, বুধবার,১৩ ডিসেম্বর ২০১৭

বিবিধ

মোনালিসার নগ্ন স্কেচটি কি আসলেই দ্য ভিঞ্চির আঁকা?

বিবিসি বাংলা

৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭,শনিবার, ১০:১১ | আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭,শনিবার, ১০:১৯


প্রিন্ট
চারকোলে আঁকা মোনালিসার ছবিটি কি আসলেই দ্য ভিঞ্চির ?

চারকোলে আঁকা মোনালিসার ছবিটি কি আসলেই দ্য ভিঞ্চির ?

কাঠকয়লায় আঁকা এক নারীর যে নগ্ন ছবিটি প্রায় দেড়শো বছর ধরে এক শিল্প সংগ্রহশালায় পড়ে ছিল সেটি দ্য ভিঞ্চির আঁকা মোনালিসার স্কেচ বলে মনে করছে ফরাসী শিল্প বিশেষজ্ঞরা।

নগ্ন নারীর এই স্কেচটি 'মোনা ভান্না' নামে পরিচিত। এটি আগে কেবল লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির স্টুডিওর কাজ বলে বর্ণনা করা হতো।

কিন্তু শিল্প বোদ্ধারা এখন বলছেন, এমন অনেক ক্লু তারা পেয়েছেন যা দেখে মনে হচ্ছে এটিও লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির আঁকা।

প্যারিসের ল্যুভর মিউজিয়ামের কিউরেটর বলছেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাদের মনে হচ্ছে এটি অংশত লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির আঁকা।

১৮৬২ সাল থেকে এই স্কেচটি একটি শিল্প সংগ্রহশালায় পড়ে ছিল।

লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি ইটালির রেঁনেসা যুগের সবচেয়ে খ্যাতিমান শিল্পীদের একজন। তার আঁকা তৈলচিত্র 'মোনালিসা' বিশ্বের সবচেয়ে সুপরিচিত শিল্পকর্মগুলির একটি।

ফ্লোরেন্সের একজন বস্ত্র ব্যবসায়ী ফ্রান্সেসকো ডেল গিওকোন্ডো তাঁর স্ত্রী লিসা ঘেরারডিনির এই ছবি দ্য ভিঞ্চিকে দিয়ে আঁকিয়েছিলেন বলে মনে করা হয়।

মিউজিয়ামের কিউরেটর ম্যাথিউ ডেলডিক বলেছেন, কয়লায় আঁকা স্কেচটিতে এমন কিছু আছে, যা সত্যিই বৈশিষ্ট্যমন্ডিত।

"এটা প্রায় নিশ্চিত যে মোনালিসার তৈলচিত্র আঁকার প্রস্তুতি হিসেবে এই স্কেচটি আঁকা হয়েছে।

ল্যুভর মিউজিয়ামের আরেক বিশেষজ্ঞ ব্রুনো মটিন বলছেন, এটি যে লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি বেঁচে থাকাকালেই আঁকা হয়েছে সেটি তারা পরীক্ষ করে নিশ্চিত হয়েছেন।

 

মোনালিসার হাসির রহস্য উদ্ঘাটিত!
ছবির মানুষ মোনালিসা।ছবির মানুষ মোনালিসা। মুখে তাঁর রহস্যময় হাসি। সেই রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে যুগ যুগ ধরে। যুক্তরাষ্ট্রের এক আনাড়ি গবেষক সম্প্রতি দাবি করেছেন, মোনালিসার হাসিতে নারীবাদের প্রকাশ ঘটেছে। এএফপি
ইউরোপীয় রেনেসাঁ যুগের বিখ্যাত শিল্পী লেওনার্দো দা ভিঞ্চির অমর কীর্তি মোনালিসা নিয়ে রীতিমতো একটি বই লিখেছেন টেক্সাসের ওই শিল্প-ইতিহাস গবেষক উইলিয়াম ভারভেল। সদ্য প্রকাশিত ১৮০ পৃষ্ঠার ওই বইয়ের নাম দ্য লেডি স্পিকস: আনকভারিং দ্য সিক্রেটস অব দ্য মোনালিসা। লেখক দাবি করেন, ছবিটির ওই হাসিমাখা নারীর নাম লা গিওকন্দা। তিনি ছিলেন ষোড়শ শতকের একজন নারীবাদী। ক্যাথলিক গির্জায় নারীর ভূমিকা ও অবদান রাখার সুযোগ আরও জোরদার করার পক্ষে কাজ করেন তিনি।
মজার ব্যাপার হলো, গণিতের সাবেক অধ্যাপক ৫৩ বছর বয়সী ভারভেল বহু বছর ধরে মোনালিসা নিয়ে গবেষণা করলেও এখনো চিত্রকর্মটি কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাননি তিনি। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, গিওকন্দাকে নারী অধিকার আন্দোলনের একটি বড় উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
‘মোনালিসা’ শীর্ষক ছবিটি সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত চিত্রকর্ম। এটি দেখতে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের ল্যুভর জাদুঘরে প্রতিদিন অনেক পর্যটক ভিড় করেন। ইতিহাসবিদদের কেউ কেউ বলেন, মোনালিসা ছবির ওই নারী ছিলেন ইতালির ফ্লোরেন্স নগরের একটি অভিজাত পরিবারের সদস্য। তাঁর আসল নাম লিসা দেল গিওকন্দো। তিনি পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তাঁর স্বামী ছিলেন কাপড় ও রেশমি সুতার ব্যবসায়ী।
রেনেসাঁ যুগের শিল্পকর্ম বিশেষজ্ঞ বেলজিয়ামের লিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক লর ফনার্ত মনে করেন, মোনালিসার মধ্যে গোপন কিছুই নেই। এই প্রতিকৃতি তৎকালীন বুর্জোয়া অনেক নারীর মধ্যে একজনকে তুলে ধরেছে। তবে এটি অন্যান্য চিত্রকর্মের চেয়ে জটিল বলেই মনে হয়। 

 

খোঁজ মিলেছে আসল মোনালিসার!
জগৎ বিখ্যাত চিত্রশিল্পী লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির আঁকা এক মধ্যবয়সী নারীর ছবি মোনালিসা। চিত্রকলার ইতিহাসে এর মতো আর কোনোটি এত আলোচিত ও বিখ্যাত হয়নি। এর কারণ মোনালিসার সেই কৌতূহলোদ্দীপক হাসি যা পরবর্তীতে বহু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কিন্তু কে এই মোনালিসা, কি-বা তার পরিচয় তা এখনও রয়েছে রহস্যের চাদরে ঢাকা।

দেহাবশেষটি নিয়ে এখনও গবেষনা করছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা
তবে সম্প্রতি মোনালিসার সন্ধান পাওয়া গেছে বলে দাবি করছেন ইতালির এক দল গবেষক। তারা বলছেন, এক মহান নারীর দেহাবশেষ খুঁজে পেয়েছেন তারা। এটিই হবে সবসময়ের সেরা লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির আঁকা বিখ্যাত ছবি ‘মোনালিসার’।

ফ্লোরেন্সের একটি পরিত্যক্ত বিহারের নীচে এক সমাধিতে দেহাবশেষটি পাওয়া গেছে। সম্প্রতি ঐতিহাসিকরা তা আবিষ্কার করেছেন। দেহাবশেষটি লিসা ঘেরারদিনি ডেল জিওকোনডো এর মৃত্যুর কাছাকাছি সময়ের।

অনেক ঐতিহাসিক বিশ্বাস করেন, মোনালিসা নামে পরিচিত লিসা ঘেরারদিনি ডেল জিওকোনডো এক সিল্ক ব্যবসায়ীর তৃতীয় স্ত্রী ছিলেন। ঘেরারদিনি ৬৩ বছর বয়সে ১৫৪২ সালে মারা যান। তিনি কন্যার সাথে বাস করতেন। যে কন্যা ছিল সন্ন্যাসী।

কালচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল হেরিটেজ, হিস্টোরিকের ন্যাশনাল কমিটির প্রধান গবেষক সিলভানো ভিনসেতি দাবি করেন, অবশিষ্টাংশগুলো ঘেরারদিনির মানে আসল মোনালিসার হওয়ার  ‘সম্ভাবনা’বেশি।

তিনি বলেন, দেহাবশেষটির পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। ঐতিহাসিক, নৃতাত্ত্বিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক প্রেক্ষিতে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তবে হাড়গুলো মোনালিসার হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

প্রসঙ্গত, মোনালিসা (ভুলভাবে মোনালিসা) (ইংরেজি:Mona Lisa (ইতালীয়:La Gioconda বা ফরাসী: La Joconde, বা Portrait of Lisa Gherardini, wife of Francesco del Giocondo)[১])একটি বিশ্বখ্যাত চিত্রকর্ম। ইতালীর শিল্পী লিওনার্দো দা ভিঞ্চি ১৬ শতকে এই ছবিটি অংকন করেন।

ধারণা করা হয়, বিখ্যাত এই ছবিটি মোনা লিসার দ্বিতীয় পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ স্মরণে অঙ্কিত হয়। অনেক শিল্প-গবেষক রহস্যময় হাসির এই নারীকে ফ্লোরেন্টাইনের বণিক ফ্রান্সিসকো দ্য গিওকন্ডোর স্ত্রী লিসা গেরাদিনি বলে সনাক্ত করেছেন। শিল্পকর্মটি ফ্রান্সের ল্যুভ জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।
 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫