ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৯ অক্টোবর ২০১৭

তুরস্ক

তুরস্ক ছাড়ল জার্মান সামরিক বাহিনী

ডয়চে ভেলে

৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭,শনিবার, ০৭:০০


প্রিন্ট
তুরস্ক ছাড়ল জার্মান সামরিক বাহিনী

তুরস্ক ছাড়ল জার্মান সামরিক বাহিনী

তুরস্কের ইনচিরলিক বিমান ঘাঁটি থেকে সব সেনা প্রত্যাহার করে নিয়েছে জার্মানি৷ তুরস্ক জার্মান এমপিদের সেখানে অবস্থানরত জার্মান সেনাদের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাতের অনুমতি না দেয়ায় এই ব্যবস্থা নিয়েছে দেশটি৷

জার্মান সেনাদের কোথায় মোতায়েন করা হবে তা নির্ধারণ করে দেশটির সংসদ৷ গত জুনে পার্লামেন্টে তুরস্ক থেকে সেনাবাহিনী সরিয়ে নেয়ার বিষয়টি অনুমোদন পায়, কেননা, গতবছর তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়িপ এরদোগানকে সরিয়ে দেয়ার এক ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে সেদেশে বিদেশিদের উপর বাড়তি কড়াকড়ি আরোপ করা হয়৷ জার্মানির এমপিরা ইনচিরলিকে অবস্থানরত সেনা সদস্যদের সঙ্গে একাধিকবার দেখা করতে চাইলেও সরাসরি অনুমতি দেয়নি তুরস্ক সরকার৷ এই নিয়ে পানিঘোলা হয়েছে অনেক৷ গত সেপ্টেম্বরে বিশেষ ব্যবস্থায় সাত এমপি সেখানে যেতে পারলেও জার্মানির কাছে তা ইতিবাচক মনে হয়নি৷ ফলে দেশটি থেকে সেনাদের পুরোপুরি সরিয়ে নেয়া হলো৷

মূলত সিরিয়ায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক বাহিনীর বিমান হামলা পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে ছিল জার্মানির সেনারা৷ এখন সেই দায়িত্ব জর্ডান থেকে পালন করা হবে৷ সেখানে ২৬০ জন জার্মান সেনার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই তুরস্ক থেকে নেয়া হয়েছে৷ জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী উরসুলা ফন ডেয়ার লায়েন এই বিষয়ে বলেন, ‘‘জার্মান সেনা ইউনিটটিকে তুরস্কের এমন এক ঘাঁটিতে নেয়া হয়েছে, যেটি বেশ কয়েকটি ন্যাটোভুক্ত দেশ ব্যবহার করছে৷’’

উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরেই জার্মানির সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না৷ এরদোগানের বিরুদ্ধে সে দেশের সেনাবাহিনীর ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের পর কয়েকজন সেনা সদস্য জার্মানিতে রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণ করেন৷ তুরস্ক দাবি করেছে, রাজনৈতিক আশ্রয় নেয়া সেনারা অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত ছিল৷ পাশাপাশি তুরস্কও সেখানে অবস্থানরত কয়েকজন জার্মানকে গ্রেফতার করে৷

বাগদাদির নতুন অডিও বার্তা বেঁচে থাকা নিয়ে সন্দেহ
বিবিসি

ইসলামিক স্টেট (আইএস) গ্রুপ একটি অডিও বার্তা প্রকাশ করেছে যাতে তারা দাবি করছে, এ বার্তাটি আইএস নেতা আবু বকর আল বাগদাদির। এর পরও তার বেঁচে থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বৃহস্পতিবার আইএস বাগদাগির একটি বক্তৃতার অডিও প্রকাশ করা হয়।


এতে শোনা যায়, সিরিয়া ও ইরাক পুনর্দখলের চেষ্টারত শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে সদস্যদের লড়াই করার আহ্বান জানাচ্ছেন বাগদাদি। সেখানে আরো শোনা যায়, বাগদাদি বলছেন, ‘আমরা থাকব, প্রতিরোধ করব, একটু ধৈর্য ধরতে হবে।’ এই অডিও ক্লিপ ঘিরেই শোরগোল সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি বাগদাদি বেঁচে আছেন? অডিওটির পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে পাশাপাশি এর সত্যতা নিয়ে সংশয়ও তৈরি হয়েছে। কখন অডিওটি রেকর্ড করা হয়েছে, ইতোমধ্যে সেটা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। বাগদাদির এই অডিওটি প্রকাশ করেছে আইএস অনুমোদিত আল-ফুরকান মিডিয়া গ্রুপ। তবে অনলাইনে প্রকাশিত এ বার্তার সাথে কোনো ভিডিও বা ছবি দেয়া হয়নি। 


অন্তত এক বছর আগে বাগদাদির কোনো অডিও বিবৃতি পাওয়া গিয়েছিল। এরপর ধারণা করা হয়েছিল, বাগদাদি মারা গেছেন। সর্বশেষ অডিও বার্তাটিতে উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রসঙ্গও রয়েছে। সে কারণে ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ৪৬ মিনিটের অডিও বার্তাটি সাম্প্রতিককালের মধ্যেই ধারণ করা। ওয়াশিংটন বলছে, তারা বার্তাটি পরীক্ষা করে দেখছে, তবে এর সত্যতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই বলেই মনে করছে তারা।


যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র বলেছেন, তাদের ধারণা অব্যাহত আছে যে বাগদাদি বেঁচে আছেন। এই বার্তায় আইএস নেতা বাগদাদি ইরাকের মসুলের লড়াই সম্পর্কেও কথা বলেছেন। ২০১৬ সালে শেষ দেখা গিয়েছিল বাগদাদিকে। তার পর থেকে তার অবস্থান ও গতিপ্রকৃতির কোনো হদিসই পাওয়া যায়নি। মে মাসের শেষের দিকে সিরিয়ায় আইএসের প্রধান ঘাঁটি রাক্কার দক্ষিণ শহরতলিতে বিমান হামলা চালায় রাশিয়া। তাদের কাছে খবর ছিল সেখানে একটি গোপন বৈঠকের জন্য আইএসের বেশ কিছু নেতা জড়ো হয়েছেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫