ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৪ ডিসেম্বর ২০১৭

বিবিধ

মিয়ানমার ইস্যুতে বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা পরিষদে বৈঠক

নয়া দিগন্ত অনলাইন

২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭,মঙ্গলবার, ১২:১৮ | আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭,মঙ্গলবার, ১২:৩৯


প্রিন্ট
মিয়ানমারে সামরিক দমনপীড়নের কারণে চার লাখ ৩০ হাজারের বেশি লোক পালিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে

মিয়ানমারে সামরিক দমনপীড়নের কারণে চার লাখ ৩০ হাজারের বেশি লোক পালিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে

জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমারের সহিংসতা নিয়ে আলোচনা করতে বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসছে। এছাড়া নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা সঙ্কট নিয়ে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরিসের বক্তব্য শুনবেন।

কূটনীতিকরা একথা জানিয়েছেন।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মিয়ানমারে সামরিক দমনপীড়নের কারণে চার লাখ ৩০ হাজারের বেশি লোক পালিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করায় ব্রিটেন, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র এবং অপর চারটি দেশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরিষদ এ বৈঠকে করতে যাচ্ছে। দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া এসব লোকের অধিকাংশ রোহিঙ্গা মুসলিম।

মিয়ানমার ইস্যুতে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের জন্য মিসর, কাজাখস্তান, সেনেগাল ও সুইডেনও আবেদন জানায়।

দেশগুলোর কোনটিই জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য নয়।

জাতিসঙ্ঘ মিয়ানমারের এই সামরিক অভিযানকে ‘জাতিগত নিধন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

এদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গত সপ্তাহে আবারো এটিকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান সংখ্যালুঘু মুসলমানদের বিরুদ্ধে ‘বৌদ্ধ সন্ত্রাস’ চালানোয় মিয়ানমারকে দায়ী করে এ গণহত্যার কঠোর নিন্দা জানান।

উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন পুলিশ ফাঁড়ি ও সরকারি দফতরে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলাকে কেন্দ্র করে দেশটিতে এ সামরিক অভিযান শুরু করা হয়।

এদিকে এ বিষয়ে উন্মুক্ত অধিবেশনে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের আগে মঙ্গলবার নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের মিয়ানমারের হালনাগাদ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানানো হবে।

এর আগে এ মাসের গোড়ার দিকে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ সহিংসতা বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানিয়েছিল।- এএফপি

’রোহিঙ্গাদের প্রতি যে নির্যাতন করা হয়েছে তা মর্মান্তিক’
জাতিসঙ্ঘ শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) ফিলিপ্পো গ্রান্ডি বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সৃষ্টি করেছে মিয়ানমার আর এর সমাধানও করতে হবে মিয়ানমারকে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর যে নির্যাতন করা হয়েছে, তা মর্মান্তিক। অবিলম্বে রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা নির্যাতন বন্ধ করে তাদের নাগরিকত্ব দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণের জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানান ফিলিপ্পো গ্রান্ডি। একই সাথে রোহিঙ্গারা যত দিন বাংলাদেশে থাকবে তত দিন তাদের সর্বপ্রকার সাহায্য সহযোগিতার জন্যও আহ্বান জানান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি।

ফিলিপ্পো গ্রান্ডি গত শনিবার বাংলাদেশে আসেন রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি দেখার জন্য। রোববার তিনি কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন, যেখানে গত এক মাসে প্রায় সাড়ে চার লাখ রোহিঙ্গারা আশ্রয় নিয়েছেন। রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি দেখে আসার পর গতকাল তিনি ঢাকায় সাংবাদিকদের কাছে তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। ফিলিপ্পো বলেন, আমি অনেক রোহিঙ্গা শরণার্থীর সাথে কথা বলেছি। এদের মধ্যে অনেক নারী ও শিশু রয়েছে। তারা নির্যাতনের যেসব বর্ণনা দিয়েছে, তা খুবই মর্মান্তিক ও ভয়াবহ। নারীদের ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছে। তাদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে। তারা খুবই শোকাহত, আতঙ্কিত। বাংলাদেশে রোহিঙ্গারা আশ্রয় পেলেও তারা অনেক কঠিন সমস্যার মধ্যে রয়েছে।

তিনি বলেন, অনেক ছোট এলাকায় গাদাগাদি করে আছেন রোহিঙ্গারা। পরিস্থিতি খুবই নাজুক। সাড়ে চার লাখের বেশি নতুন রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছেন। কক্সবাজার জেলার জনসংখ্যা ২৫ লাখ। ফিলিপ্পো বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কারণে স্থানীয় জনসাধারণ যেসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, তাও বিবেচনায় রাখতে হবে।

ফিলিপ্পো বলেন, কক্সবাজারের স্থানীয় জনসাধারণসহ বাংলাদেশের মানুষ রোহিঙ্গাদের প্রতি যেভাবে উদার সহায়তার হাত বাড়িয়েছে, তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে তা সত্যিই অভিভূত হওয়ার মতো ঘটনা। রোহিঙ্গাদের প্রতি সহমর্মিতা ও সর্বপ্রকার সহায়তার জন্য তিনি বাংলাদেশের মানুষকে ধন্যবাদ জানান। একই সাথে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের সীমান্ত খুলে দেয়ার জন্য।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা শুধু শরণার্থী নন, বরং স্ট্রেটলেসও। তাদের কোনো নাগরিকত্বও নেই। সীমিত জায়গায় তারা পরস্পর ভাগাভাগি করে থাকছেন। একে অপরের প্রতি একাত্মতা দেখাচ্ছেন। তাদের সমস্যা খুবই প্রকট। সবার আগে তাদের দরকার আশ্রয় ও খাদ্য। অনেক পরিবার আছে যারা এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে কোনো খাবার পায়নি। আশ্রয় সমস্যা খুবই তীব্র। এখনো বৃষ্টি হচ্ছে। তাদের নিরাপদ থাকার ব্যবস্থা করা দরকার। অনেক তাঁবু দরকার। একই সাথে পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা দরকার। রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। সে জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসতে হবে। তাদের তাৎক্ষণিক এ সমস্যা সমাধানে কমপক্ষে ৭৭ মিলিয়ন ডলার দরকার।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানবিক সাহায্য সংস্থাগুলোকে অবিলম্বে মিয়ানমারকে প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে। সবার আগে মিয়ানমারকে হত্যা ও নির্যাতন বন্ধ করতে হবে।

ফিলিপ্পো বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা যাতে মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারেন সে জন্য সেখানে শান্তি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে। রাখাইনে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে সেখানে তারা ফিরে যেতে চাইবেন না। তারা যেতে না চাইলে তাদেরকে জোর করে আমরা পাঠিয়ে দিতে পারি না।

রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিয়ে তাদেরকে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেয়ার প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, যত দিন তারা বাংলাদেশে আছেন তত দিন তাদের সব ধরনের সহায়তা করতে হবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে। তারা সব কিছু হারিয়েছেন। সবার আগে তাদের দরকার নিরাপত্তা। তিনি বলেন, দক্ষিণ সুদান, ইয়েমেন ও বাংলাদেশের রোহিঙ্গাদের সমস্যা তাদের কাছে এখন সবার প্রথমে বিবেচ্য বিষয়। 
রাখাইনে সেফ জোন প্রতিষ্ঠা বিষয়ে বাংলাদেশের প্রস্তাবসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ফিলিপ্পো বলেন, এটি মিয়ানমারকে করতে হবে। তাদের রাজি করাতে হবে। যদি তারা রাজি না হয় সে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে এটি করতে হবে। সে জন্য তাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয় আছে।

রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আনান কমিশনে তাদের নাগরিকত্ব দেয়ার স্পষ্ট সুপারিশ করা হয়েছে। এটি খুবই পরিষ্কার। তাদের নাগরিকত্ব দিতে হবে।

রোহিঙ্গারা শরণার্থী কি না এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ফিলিপ্পো বলেন, অবশ্যই তারা শরণার্থী এবং এটি পরিষ্কার। (নিজস্ব প্রতিবেদক, ২৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সংবাদ)

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫