ঢাকা, রবিবার,১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

সিনেমা

সংবাদ সম্মেলন করে ধন্যবাদ জানাতে চান অনন্ত জলিল

নয়া দিগন্ত অনলাইন

২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭,মঙ্গলবার, ১১:৫৫


প্রিন্ট
সন্তানের সাথে অনন্ত জলিল

সন্তানের সাথে অনন্ত জলিল

ঢাকাই চলচ্চিত্রে তিনি এনে দিয়েছিলেন নতুন এক মাত্রা। শখের বসে তিনি চলচ্চিত্রে এলেও সফল হয়েছেন। ছবিতে নিজের পকেটের টাকা খরচ করে উন্নত টেকনোলজি ব্যবহার করা শিখিয়েছেন। তার শেখানোর সূত্র ধরেই ঢাকাই চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে এখন বড় বাজেটের ছবি নির্মাণের সাহস পাচ্ছেন প্রযোজকরা।

তবে তিনি এখন নিজেকে বদলে ফেলেছেন। তিনি এখন ইসলামী পথে হাঁটা এক ব্যক্তি। ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিচ্ছেন মানুষের মাঝে। দাঁড়িয়েছেন এতিমদের পাশে। তার এই পথচলায় অনেকেই তাকে যুগিয়েছেন প্রেরণা। তাই তিনি অনুপ্রেরণার সাথীদের কাছে কৃতজ্ঞ। তার এ কৃতজ্ঞতা এখন একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সবার সামনে তুলে ধরতে চান তিনি।

অনন্ত জলিল তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে গতকাল সোমবার একটি স্ট্যাটাসে সাংবাদিক, মিডিয়াকর্মীসহ সকল শুভাকাঙ্খীর প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা জানিয়ে লিখেছেন, ‘হঠাৎ করে আমি আপনাদের কেন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, এ প্রশ্ন আপনাদের সকলের মনেই উদয় হয়েছে নিশ্চয়ই। হ্যাঁ আপনাদের সেই প্রশ্ন উত্তর এখুনি পাবেন। আমি বেশ কিছুদিন ধরেই ইসলামী ধারায় জীবন-যাপন করার চেষ্টা করছি এবং সেই অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। সাথে বিভিন্ন সময়, বিভিন্নভাবে, বিভিন্ন স্থানে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে গিয়েছি। এছাড়াও সমাজসেবামূলক কাজ করার চেষ্টা করেছি। আর আমার এ ক্ষুদ্র চেষ্টা ও ইসলামের দাওয়াত দেয়ার মুহূর্তগুলো দেশ ও বিদেশে প্রচার করে আরো অসংখ্য যুবক থেকে শুরু করে অনেককেই বেশি বেশি ইসলামের দাওয়াত দেয়া ও সমাজসেবা মূলক কাজ করার অনুপ্রেরণা পৌছে দিয়েছেন, তা আসলেই প্রশংসনীয়।

এ প্রশংসনীয় কাজের জন্য অনলাইন সাংবাদিক, ইউটিউব চ্যানেল, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও সকল শুভাকাঙ্খীদের প্রতি আমার অন্তরের অন্তস্থল থেকে জানাই চির কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক ধন্যবাদ। হ্যাঁ বন্ধুগণ খুব শীঘ্রই একটি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে, বিশেষ করে অনলাইন সাংবাদিক, ইউটিউবার ও প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে আমি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবো, ইনশাআল্লাহ্। -অনন্ত জলিল’

অনন্ত জলিলের পোশাক দেখে হতভম্ব বিদেশি ক্রেতারা
চিত্রনায়ক এবং ব্যবসায়ী অনন্ত জলিল যে বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ পনের বছর ধরে ব্যবসা করে আসছেন, তারা এই প্রথম তাকে দেখে হতভম্ব হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। নিজের নতুন ধরণের পোশাকের কারণে তার ক্রেতারা হতভম্ব হয়েছে বলে তিনি জানান। ১৯ সেপ্টেম্বর নিজের ফেসবুক পেজে দেয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব তথ্য জানান।

অনন্ত জলিল লিখেন, ‘বন্ধুগণ, আসসালামু আলাইকুম। আশাকরি আল্লাহর রহমতে সবাই ভালই আছেন। আজকে আপনাদের সাথে আমি একটি সুন্দর মুহূর্ত শেয়ার করবো। ব্যবসায়িক কাজে আমাকে বিদেশী বায়ারদের সাথে অধিকাংশ সময়ই মিটিং করতে হয়।

তারই ধারাবাহিকতায় আজ আমার ফ্যাক্টরিতে বিদেশী বায়ারদের সাথে একটি মিটিং ছিলো। যথারীতি আমি মিটিং এ উপস্থিত হই। কিন্তু যেই বায়ারদের সাথে আমি দীর্ঘ পনের বছর ধরে ব্যবসা করে আসছি, তারা এই প্রথম আমাকে দেখো হতভম্ব হয়ে গেলো। কারন একটাই, আমার পোশাক। তারা আমার পোশাকের বেশ প্রশংসা করে বলেন, এই পোশাকেই তোমাকে বেশ ভালো লাগছে। সাথে জানতেও চেয়েছেন এই ড্রেসটা কেন পরেছি। তখন আমি তাদেরকে বুঝিয়ে বলি, যেহেতু আমি মুসলমান আর এটা আমাদের সুন্নতি ড্রেস। এ কথা শুনে বিদেশী বায়ারগণ আমাকে আবারো এপ্রোসিয়েট করেন। তখন তারা বলে উঠেন, ওয়াও.. যদি এটা ইসলামি ড্রেস হয়ে থাকে, তাহলে কেন বাংলাদেশের সকলে এ ড্রেস পরে না? আর যেহেতু বাংলাদেশ ইসলামী কান্ট্রি।

তাদের এ প্রশ্নের উত্তরে আমি বলি, বাংলাদেশে এ ড্রেস পরে না এমন নয়, হয়তো সবাই পরে না এটা সঠিক। কিন্তু যারা ইসলামী বিষয়ে পড়াশুনা করে, যখন নামাজ পড়তে যায় তখন ও ইসলামী ড্রেস পরেন, কেউ কেউ আবার শুক্রবারে জুমার নামাজ পড়তে ড্রেসটি পরে থাকে। তাদেরকে এ বিষয় বলার পর আমার একটা আশার কথা বলি যে, এখন হয়তো অল্প সংখ্যক মানুষ আমার মতো এই ড্রেস পরেন, তবে একটা সময় আসবে যখন দেখবো বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের গায়েই ইসলামী পোশাক। আর এ যাত্রার শুরুটাই করবে যুব সমাজ।’

পরিচালক এফ আই মানিকের পাশে অনন্ত
ঢাকাই চলচ্চিত্রের গুণী পরিচালক এফ আই মানিকের পাশে দাঁড়িয়েছেন অনন্ত জলিল। এফ আই মানিক এখন অর্থকষ্টে ভুগছেন। তাই গিয়েছিলেন অনন্ত জলিলের কাছে। গত ২২ সেপ্টেম্বর ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসে অনন্ত জলিল লিখেন,

‘আসসালামু আলাইকুম। বন্ধুগণ আজ দুঃখ ভরাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে কিছু কথা বলবো। অতি কষ্টের সাথে বলতে হচ্ছে, আমাদের চলচ্চিত্র পরিবারের গুনী পরিচালক এফ আই মানিক ভাই, যিনি চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সাবেক মহাসচিব ও বহু জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের স্বনামধন্য পরিচালক। আমাদের চলচ্চিত্রের জন্য, চলচ্চিত্রের দর্শক সহ সকলের জন্য যিনি এতো কিছু করেছেন তাকেই আজ অর্থ কষ্টে ভুগতে হচ্ছে।

এই স্বনামধন্য পরিচালক অর্থের অভাবে স্ত্রীর চিকিৎসা সঠিকভাবে চালাতে পারছেন না। যদিও তা আমি জানতাম না, কিন্তু গতকাল হঠাৎ তিনি আমার অফিসে এসে উপস্থিত হন। সে সময় আমি অফিসে উপস্থিত না থাকায় তাকে বেশ সময় অপেক্ষা করতে হয়, যা আমার জন্য ব্যর্থতা। কারন আমার জন্য এত বড় মাপের পরিচালককে অপেক্ষা করতে হয়েছে। যখন উনার মুখোমুখি হই, তখন তার চেহারা বেশ মলিন ছিলো। তিনি আমাকে তার কষ্টের কথার সাথে, অর্থের অভাবে স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে পারছেন না সে কথা বলেন। তার কথা শুনে আমি বেশ আশাহত হই, তার মত গুনী পরিচালককে অর্থের অভাবের কারণে আজ দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে। যার হাত ধরেই অনেক তারকা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

যদিও এই গুনী পরিচালকের সাথে আমার কাজ করার সৌভাগ্য হয়নি। তবুও এ বিখ্যাত পরিচালক আমার কাছে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যাবেন, তা হবে অনন্ত জলিলের অন্যতম ব্যর্থতা। তাই আমার যতটুকু সামর্থ ততটুকু দিয়ে তাকে সহযোগিতা করার চেষ্ঠা করেছি। এবং আশাও করি যে প্রতিষ্ঠিত তারকা এবং চলচ্চিত্র পরিবারের সদস্যসহ অন্যরাও এফ আই মানিক ভাইয়ের সাহায্যে এগিয়ে আসবেন । এটা সাহায্য বললেও ভুল হবে, এটা আমাদের কর্তব্য। সাথে আশাকরি তার মত কোন গুনীজনকে যেনো দ্বারে দ্বারে যেতে না হয়, আমরাই যেনো তাদের প্রয়োজনে তাদের কাছে পৌছে যাই।’

রোহিঙ্গাদের জায়গা দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন অনন্ত
রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে জায়গা দেয়ার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক, সফল শিল্পপতি ও সমাজসেবক অনন্ত জলিল। তিনি তার ফেইসবুক পেইজে রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের ও কিছু কষ্টের ছবি পোস্ট করে একটি স্ট্যাটাস শেয়ার করেছে, যা পাঠকদের উদ্দেশ্যে হুবহু তুলে ধরা হলো।

“বিসমিল্লাহির রাহমানীর রাহীম”
আসসালামু আলাইকুম,
একজন মুসলমান হিসেবে চোখের পানি ধরে রাখতে পারছি না মায়ানমারের মুসলমান রোহিঙ্গাদের উপর অত্যাচারের জন্য।
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে যেই ভিডিওচিত্রগুলি দেখছি এতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে এই দোয়া করি যেন মহান আল্লাহতায়ালা এই অত্যাচারীদের হাত থেকে রোহিঙ্গাদের রক্ষা করেন।
সাথে ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমাদের সরকারকে এই নির্যাতিতদের আমাদের দেশে জায়গা করে দেবার জন্য।
নিশ্চই আল্লাহতায়ালা এর জন্য উত্তম ফল দিবেন। আমীন
-অনন্ত জলিল

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫