ঢাকা, বুধবার,১৮ অক্টোবর ২০১৭

নগর মহানগর

দাবি পরিবেশবাদীদের

জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় বিষাক্ত খাদ্য বন্ধে নিয়মিত মান পরীক্ষা করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭,মঙ্গলবার, ০১:২৯


প্রিন্ট

বাজারে প্রাপ্ত খাদ্য ও পানীয়ের মান নিয়মিত পরীক্ষা ও প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশের জন্য নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা।
গতকাল পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) আয়োজিত ‘কেমিক্যালযুক্ত ডিমের প্রাদুর্ভাব বিষাক্ত খাদ্য : প্রশ্নবিদ্ধ কর্তৃপরে ভূমিকা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এই দাবি জানান। পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম, মুখ্য আলোচক ছিলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা: লেলিন চৌধুরী, সভায় সঞ্চালনা করেন এম এ ওয়াহেদ। এ ছাড়া আলোচনা করেনÑ নাসফের সাধারণ সম্পাদক মো: তৈয়ব আলী, বিসিএইচআরডির মাহবুল হক, মর্ডান কাবের আবুল হাসনাত, মো: হোসেন হোসেন নাসফ, রাজিয়া সামাদ সদস্য পবা, ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের আতিক রহমান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, কোনোভাবে অস্বীকার করার উপায় নেইÑ সব খামারে মুরগিগুলোকে যে মাত্রাতিরিক্ত এন্টিবায়োটিক ও নানা রাসায়নিক উপাদানে তৈরি খাবার খাওয়ানো হয়, তার পরিপ্রেক্ষিতে ডিমে আর মুরগির গোশতে তার প্রভাব থাকে। কিন্তু মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে তার কোনো উত্তর পাওয়া যায় না বা এ ধরনের মুরগির খামার চিহ্নিত করে বন্ধের কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের প্রমাণ নেই। এ অবস্থায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব আর ভূমিকা অনেকটা অনুপস্থিত। আমাদের আলোচনার উদ্দেশ্য শুধু কেমিক্যাল ডিমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং পুরো খাদ্য ব্যবস্থায় ভেজাল, অস্বাস্থ্যকর ও ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহারের পরিপ্রেক্ষিতে জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি রোধে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ভূমিকা কী হওয়া উচিত তা খুঁজে বের করা।
বক্তারা বলেন, খাদ্য মানুষের সুস্থ থাকার একটি অন্যতম প্রধান শক্তি। বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্যমতে, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৪৫ লাখ লোক খাদ্যে বিষষ্ক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ২০১৪ সালে একই জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের আওতায় জাতিসঙ্ঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত খাদ্য নিরাপত্তা গবেষণাগারে দেখা যায় ৪০ শতাংশ খাদ্যেই মানবদেহের জন্য সহনীয় মাত্রার চেয়ে তিন থেকে ২০ গুণ বেশি বিষাক্ত উপাদান শনাক্ত হয়।
বক্তারা বলেন, এসডিজির গোল ২ এবং ৩ মানসম্পন্ন খাদ্যের সাথে সম্পর্কযুক্ত। এসডিজির লক্ষ্য অনুসারে খাদ্য নিরাপত্তা ও সুস্বাস্থ্য নিরাপত্তা করতে হলে আমাদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে। এসডিজির অনুসারে ২০৩০ সালের মধ্যে অসংক্রামক রোগ এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনতে হবে। বাংলাদেশ মাছ, সবজিসহ নানা কৃষিপণ্য রফতানিতে আন্তর্জাতিক সুনাম কুড়িয়েছে। মাছ, সবজি, ফলমূল ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের বাজার আগামী দিনে আরো বিস্তৃতি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এমতাবস্থায় খাদ্যে বিষাক্ত রাসায়নিকের ও ক্ষতিকর/অস্বাস্থ্যকর প্রক্রিয়াজাতকরণ বাংলাদেশের বাজারকে সঙ্কুচিত করবে।
সভায় বক্তারা বলেন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপরে মূল কাজ হবে দেশের উৎপাদিত ও আমদানিকৃত সব খাদ্য ও পানীয়ের জনস্বাস্থ্যের বিবেচনায় নিরাপদ ও গুণগত মান নিশ্চিত করা, যাতে দেশের ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের এ মান সম্পর্কে আশ্বস্ত করা যায় সে দক্ষতা অজন করতে হবে। অন্যথায় দেশীয় খাদ্যশিল্প ও কৃষি-খাদ্য রফতানি বাধাগ্রস্ত হবে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫