ঢাকা, বুধবার,১৩ ডিসেম্বর ২০১৭

নগর মহানগর

হতদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচি : আইএমইডির প্রতিবেদন

উপকারভোগী বাছাইয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব ও চাপ ছিল

হামিদ সরকার

২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

হতদরিদ্রদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার জন্য উত্তরাঞ্চলে কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। উপকারভোগীদের বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কোনো কোনো এলাকায় স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রভাবশালী মহলে চাপ লক্ষ করা গেছে। অনেক ক্ষেত্রে সত্যিকার হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের ব্যত্যয় ঘটেছে বলে সরকারি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আইএমইডির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, প্রকল্পের অনেক প্রশিক্ষণার্থীর কর্মসংস্থান হয়নি। গৃহস্থালিতে নিয়োজিত আছে ২৮.২ শতাংশ।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) উত্তরাঞ্চলের হতদরিদ্রদের কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ কর্মসূচির (সংশোধিত) প্রভাব মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) এই প্রকল্পটি গাইবান্ধা, রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারীতে বাস্তবায়ন করে। ২০০৭ সালের জুলাই থেকে ২০১০ সালের জুন পর্যন্ত মূল প্রকল্প মেয়াদ ছিল। পরে দুই দফায় বাড়িয়ে ২০১৩ পর্যন্ত নেয়া হয়। মোট ৩৫টি উপজেলার ১০৫টি ইউনিয়নে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল প্রকল্প এলাকার দারিদ্র্যতা নিরসন, ট্রেড ভিত্তিক নিবিড় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করা। প্রায় ২৫ কোটি টাকার এই কর্মসূচির ব্যয় ৪৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকায় উন্নীত হয়।
মূল্যায়নে বলা হয়, গতানুগতিকভাবে প্রকল্পটি কয়েকটি অতি প্রচলিত, সাধারণভাবে গৃহীত প্রযুক্তি নির্ভর কিছু প্রশিক্ষণ বিষয় ছিল। আর এই প্রযুক্তিগুলোকে বিবেচনা করা হয়েছে প্রশিক্ষণার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে। কিন্তু উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় আরো কিছু প্রশিক্ষণের বিষয় উল্লেখ ছিল। এখানে দুর্বলতা হলোÑ চাহিদা সরবরাহ বিশ্লেষণ করে করা হয়নি এসব বিষয় নির্ধারিত হয়নি। আগামীতে এলাকাভিত্তিক চাহিদা বিশ্লেষণ করে প্রযুক্তি নির্বাচন করা উচিত বলে আইএমইডি সুপারিশ করেছে।
কর্মসূচির দুর্বলতা উল্লেখ করে আইএমইডি বলছে, প্রশিক্ষণ দেয়ার ক্ষেত্রে যেসব অবকাঠামো ও জিনিসপত্র দরকার ছিল তা পর্যাপ্ত ছিল না। কোনোরূপ জোড়াতালি দিয়ে প্রকল্প পরিচালকেরা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন। কর্মসূচিতের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কোনো প্রশিক্ষক গড়ে তোলার ব্যবস্থাও করা হয়নি। ফলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা মান সম্পন্ন কোনো প্রশিক্ষণ পাননি বলে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ট্রেড নির্বাচনে এলাকা বিশেষের চাহিদা ও বাস্তবতাকে উপেক্ষা করা হয়েছে।
জানা গেছে, উৎপাদিত সামগ্রী নি¤œমানের হওয়ায় বাজারজাতকরণ করা যায়নি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে উৎপাদিত পণ্যসামগ্রীর মার্কেট লিংকেজ না থাকায় অনেক উপকারভোগী বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের মুখোমুখি হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ঋণের যথাযথ ব্যবহার হওয়ার ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে তদারকির অভাব দেখা গেছে বলে আইএমইডির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

 

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫