ঢাকা, শনিবার,২১ অক্টোবর ২০১৭

নগর মহানগর

ভুয়া জামিননামায় অপহরণ মামলার আসামির কারামুক্তি

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপারের আদালতে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা

আদালত প্রতিবেদক

২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

জালজালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া জামিননামায় অপহরণ মামলার আসামিকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়ার ঘটনায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র সুপার জাহাঙ্গীর কবীর আদালতে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। গতকাল আদালতের নির্দেশক্রমে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এ জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবীর সশরীরে আদালতে উপস্থিত হয়ে তার ভুল স্বীকার করে এ কাজের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আদালতে জয়শ্রী সমাদ্দার এ প্রার্থনা গ্রহণ করে তাকে অব্যাহতি দেন।
এ দিন ওই মামলার পালিয়ে যাওয়া আসামি মিজানুর রহমান ওরফে মিজান মাতুব্বরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করেছেন।
গত ১০ সেপ্টেম্বর মামলার অপর ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছিলেন আদালত। অপর ১১ আসামি হলেনÑ রেজাউল করিম, নজরুল ইসলাম, মশিউর রহমান মন্টু, আলীম হোসেন চন্দন, সজীব আহমেদ ওরফে কামাল উদ্দিন, আব্দুল্লাহ আল মামুন ও ইকবাল হোসেন শুভ, জাহির উদ্দিন মোহাম্মাদ বসার, শেখ মো: অলিউল্লাহ, রেজা মৃধা ও কাওছার মৃধা।
গত ১০ অক্টোবর এ মামলায় অভিযোগ গঠনের জন্য দিন ধার্য ছিল। কারাগারে আটক আট আসামির সাতজনকে ওই দিন কারা কর্তৃপক্ষ আদালতে হাজির করেন। কিন্তু মামলার প্রধান আসামি মিজান মাতুব্বরকে আদালতে হাজির না করলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলারকে সশরীরে হাজির হয়ে কারণ দর্শাতে বলেন ট্রাইব্যুনাল।
জেলার লিখিত ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন, গত ৩০ আগস্ট ওই আসামি জামিনসংক্রান্ত ছাড়পত্র পান। এরপর তারা ৩১ আগস্ট ওই আসামিকে মুক্তি দেন। তার ব্যাখ্যার সঙ্গে ছাড়পত্রের কপিও ট্রাব্যুনালে দাখিল করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২ মে ক্যান্টনমেন্ট থানার স্টাফ রোড এলাকায় ফ্লাইওভারের নিচ থেকে শিশু আবীরকে তাদের প্রাইভেটকার থেকে ছিনিয়ে মাইক্রোবাসে তুলে অপহরণ করা হয়। এরপর অপহরণকারী ১০ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে একাধিক ব্যাংকের হিসাবের মাধ্যমে এক কোটি ৭৩ লাখ টাকা এবং নগদ ২৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিলে অপহরণকারীরা শিশু আবীরকে ছেড়ে দেয়। পরে ওই ঘটনায় আবীরের মামা এনায়েত উল্লাহ বাদি হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা করলে র্যাব পাঁচ আসামিকে এক কোটি ৮০ লাখ টাকাসহ গ্রেফতার করে। গ্রেফতার হওয়া আসামিদের মধ্যে আসামি মিজান, রেজাউল ও নজরুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন। ওই বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশের পরিদর্শক কবির হোসেন আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫