ঢাকা, মঙ্গলবার,১৭ অক্টোবর ২০১৭

সিলেট

শ্রীমঙ্গলে রোহিঙ্গা শিশু উদ্ধার

বর্মিদের হাতে বাবা-মাকে হত্যার বর্ণনা দিলো জিহাদুল

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা

২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭,সোমবার, ২০:৪৮


প্রিন্ট
ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

শ্রীমঙ্গল উপজেলার মুসলিমবাগ থেকে ১১ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা শিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শিশুটির নাম জিহাদুল ইসলাম।

মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের মংডু গ্রামের বাসিন্দা জিহাদুল জানায়, তার বাবার নাম জসিম উদ্দিন ও মায়ের নাম শাহিনা আক্তার। নয় দিন আগে সে তার তিন বছর বয়সী ছোট ভাইকে নিয়ে মিয়ানমার বর্ডার পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করে। এসময় তার ভাই স্থল মাইন বিষ্ফোরণে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। নয় দিন পর নাফ নদী পার হয়ে সে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এর আগে মিয়ানমারের সেনারা তাদের বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। এসময় সেনাবাহিনীর সহযোগী মগরা তার বাবাকে ঘর থেকে বের করে নিয়ে গুলি করে এবং মাকে গলাকেটে হত্যা করে।

জেহাদুল ইসলাম বলে, ‘আমরা সবাই ঘরে ছিলাম। হঠাৎ মগরা এসে বাবাকে গুলি করে হত্যা করে। তখন আম্মা, আমি ও আমার ছোট ভাই পালিয়ে যাবার সময় আম্মাকেও তারা ধরে নিয়ে ছুরি দিয়ে গলাকেটে মেরে ফেলে। আমি আমার ভাইকে নিয়ে সীমান্তের কাছাকাছি আসামাত্র বোমার আঘাতে আমার ভাই আমার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর পর আর ভাইকে খুঁজে পাইনি। আমি সীমান্ত পার হয়ে নদী পথে এ দেশে চলে আসি।’

জেহাদুল জানায়, সে ৮/৯ দিন আগে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসেছে। চট্টগ্রামে মানুষের মুখে শুনেছে সিলেটে হজরত শাহ জালাল (রহঃ) এর বড় মাজার আছে। সেই মাজারে গেলে খাবার পাওয়া যায়। এ কথা শুনে তারা ২০ জন ট্রেনযোগে সিলেট রওয়ানা দেয়। কিন্তু ওই ট্রেন ফেনীতে আসার পর পুলিশ তার সাথের সবাইকে নামিয়ে দেয়। সে একা শ্রীমঙ্গলে চলে এলে স্থানীয় এক মুরব্বি তাকে বাসায় নিয়ে যান। ওখানে ৪/৫ দিন থাকার পর রোববার তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়।

চকলেট কালারের পাজামা পাঞ্জাবি মাথায় সাদা টুপি পরিহিত শিশু জেহাদুল জানায়, মায়ের বড় আশা ছিল কোরআনে হাফেজ হবো। মংডুর এক মাদরাসায় সে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ত। মগরা সেই মাদরাসাটিও আগুনে পুড়িয়ে দেয়।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫