ঢাকা, সোমবার,১১ ডিসেম্বর ২০১৭

ইতিহাস-ঐতিহ্য

মধুমিতা হল : জেনে নিন নামকরণের ইতিহাস

আমার ঢাকা ডেস্ক

২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭,সোমবার, ১৭:৩২ | আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭,সোমবার, ১৭:৪১


প্রিন্ট
৫০ বছরে মধুমিতা হল

৫০ বছরে মধুমিতা হল

মতিঝিলের মধুমিতা হলের নিজস্ব একটা গন্ধ আছে। মিষ্টি গন্ধ। এই হলে ছবি দেখে বাসায় ফিরে গন্ধটা বেশি অনুভব করেছেন অনেকেই। বদ্ধ জায়গায় অনেক মানুষ অবস্থান করার কারণে হলে একটি গুমোট গন্ধের সৃষ্টি হয়। এতে পরিবার পরিজন নিয়ে যারা চলচ্চিত্র দেখতে আসেন তারা একটু বেশি বিব্রত পরিস্থিতিতে পড়েন। একসময় পারফিউম খুব বেশি ব্যবহার করা হতো না, তখন মধুমিতায় শো শুরুর আগে মিষ্টি সুবাসের সুগন্ধি স্প্রে করা হতো। সিনেমা দেখে বাড়ি ফেরার পরও গায়ে লেপ্টে থাকত সেই গন্ধ।

এখনো হলের ভেতর ঢোকার আগে মিষ্টি গন্ধ এসে নাকে লাগে। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই মিটফোর্ড এলাকার সবচেয়ে পুরনো সুগন্ধির দোকান ওটিস পারফিউম হাউজ থেকে এই সুগন্ধি নিয়ে আসেন। পরে সেটা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্রের মাধ্যমে বিশেষ কায়দায় পুরো প্রেক্ষাগৃহে ছড়িয়ে দেয়া হয়। ১৯৬৭ সালের ১ ডিসেম্বর মধুমিতা সিনেমা হল উদ্বোধন করেছিলেন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার বিচারপতি আবদুল জব্বার খান। তিনি বর্তমান সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেননের বাবা। এলিজাবেথ টেইলর অভিনীত ক্লিওপেট্রা দিয়ে শুরু হয়েছিল শো।

মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে টিকাটুলির দিকে যেতে হাতের বাঁ পাশে মধুমিতা সিনেমা হল। ঢাকার অন্যতম প্রাচীন প্রেক্ষাগৃহ এটি। মধুমিতার চার পাশের দেয়ালে আছে নানা রঙের পোস্টার। উল্লেখযোগ্য হলো ১৯৬২ সালে মুক্তি পাওয়া সাড়াজাগানো ব্রিটিশ ছবি লরেন্স অব অ্যারাবিয়া, ১৯৬৩ সালে নির্মিত মিসরের শাসক ক্লিওপেট্রার জীবনী নিয়ে তৈরি ক্লিওপেট্রা থেকে শুরু করে ২০০১ সালে মুক্তি পাওয়া যুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র পার্ল হার্বার, ১৯৯৭ সালে মুক্তি পাওয়া টাইটানিক ছবির নান্দনিক পোস্টার। আছে মধুমিতা মুভিজের ব্যানারে নির্মিত চিত্রনায়ক রাজ্জাক ও শাবানার আগুন; ববিতা, জাভেদ, জসীম অভিনীত নিশান ছবির বিশাল আকৃতির পোস্টার। নানা রঙের আর আকৃতির এই পোস্টারগুলোও সিনেমা দেখতে আসা দর্শকের আগ্রহের বিষয় হয়।

মধুমিতা হলে প্রবেশ করতেই চকচকে মেঝে চোখে পড়ে। দুই পাশে দু’টি টিকিট কাউন্টার। আলাদা করে দু’টি বুথ আছে দুই কাউন্টারেই। মধুমিতায় আসনব্যবস্থায় মোট তিনটি শ্রেণী আছে। ড্রেস সার্কেল, রিয়ার সার্কেল ও মিডল সার্কেল। ড্রেস সার্কেলের টিকিটের মূল্য ১২০ টাকা, রিয়ার সার্কেলের টিকিটের মূল্য ৮০ টাকা ও মিডল সার্কেলের টিকিটের মূল্য ৬০ টাকা। অগ্রিম বুকিং দেয়ার ব্যবস্থা আছে। এর জন্য প্রদর্শনী চলার ৪ ঘণ্টা আগে হল প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করতে হয় ফোনে।

এখনো হলে গিয়ে ছবি দেখেন এমন দর্শকের মতে, পরিবার পরিজন নিয়ে বড় পর্দায় ছবি দেখার জন্য মধুমিতাই আদর্শ। কারণ সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে এই হলটিতে লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। বসার আসন থেকে শুরু করে শব্দব্যবস্থা সব কিছুই নতুনত্বেও দেখা মিলবে মধুমিতায়। চলচ্চিত্রের মন্দার চাপে একে একে সিনেমা হল বন্ধ হলেও মধুমিতা সময়ের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে চালু আছে। চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটি ৫০ বছরে পড়েছে। বছরজুড়ে তারা সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছে।

নাগরিক বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম চলচ্চিত্র হলেও গত আড়াই দশকে ঢাকায় তিনটি সিনেপ্লেক্স হলেও নতুন কোনো সিনেমা হল তৈরি হয়নি। এ শহরে নব্বই দশকে অর্ধশত সিনেমা হল থাকলেও কমতে কমতে হলের সংখ্যা এখন ২৬টিতে এসে ঠেকেছে।

শুরু থেকে নিজস্ব ভবনে সিনেমা হল পরিচালনা করছে মধুমিতা মুভিজ। ভবিষ্যতে এ হলের পাশাপাশি সিনেপ্লেক্স করার পরিকল্পনা আছে তাদের। সেখানে খাবার এবং শিশুদের খেলার আয়োজনও রাখা হবে।

সিনেমার প্রযোজক, দর্শক সবার কাছে বর্তমানে চালু থাকা ঢাকার হলের মধ্যে অন্যতম অভিজাত এবং আধুনিক হল মধুমিতা। বড় বাজেটের ছবি মুক্তি দিতে প্রযোজকেরা সবার আগে মধুমিতার কথাই ভাবেন।

প্রতিষ্ঠাতা ও নামকরণ
পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী সিরাজ উদ্দিন হলটির প্রতিষ্ঠাতা। সিনেমা হলের নাম চেয়ে তিনি দৈনিক ইত্তেফাকে একটি বিজ্ঞাপন দেন। অনেকে নাম প্রস্তাব করে পাঠান। সেখান থেকে মধুমিতা নামটি পছন্দ করেন সিরাজ উদ্দিন এবং নাম প্রস্তাবকারীকে তখনকার দিনে ৫০০ টাকা পুরস্কৃত করেন। এখন হলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিরাজ উদ্দিনের ছেলে ইফতেখান উদ্দিন। সিরাজ উদ্দিনের চার ছেলেই হলটির মালিক এখন। প্রদর্শনী কক্ষ একটি। অর্থাৎ ছবি প্রদর্শিত হয় একটি পর্দায়। এক হাজার ২২১ জন দর্শক একসাথে বসে ছবি দেখতে পারেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫