ঢাকা, মঙ্গলবার,১৭ অক্টোবর ২০১৭

ক্রিকেট

ভারত-অস্ট্রেলিয়া সিরিজে জুয়া!

নয়া দিগন্ত অনলাইন

২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭,সোমবার, ০৬:১১


প্রিন্ট
ভারত-অস্ট্রেলিয়া সিরিজে জুয়া!

ভারত-অস্ট্রেলিয়া সিরিজে জুয়া!

ভারত-অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে অনলাইন বেটিং চক্রের সন্ধান মিলেছে। ভারতীয় পুলিশ শুক্রবার সাতজনকে গ্রেফতার করেছে।

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের সূত্রে জানা যাচ্ছে, শুক্রবার পুলিশ ওই চক্রের ব্যাপারে সন্ধান পায়। তার পর তারা হানা দেয় নয়াদিল্লির দেরাওয়াল নগরের একটি বাড়িতে। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে ১২টি মোবাইল ফোন, ৩টি ল্যাপটপ ও নগদ ২৭,৭৫০ রুপি উদ্ধার করেছে।

এখন পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ রুপি জুয়াতে লাগানোর খবর জানতে পেরেছে পুলিশ। উত্তর-পশ্চিম দিল্লির ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ জানান, অভিযুক্তরা জেরার মুখে তাদের অপরাধের কথা স্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, মোবাইলের মাধ্যমে এই কাজ চলত। মোবাইলের রেকর্ডিং অন করে কে কত দরে জুয়া খেলছে তার হিসাব রাখা হতো। পাশাপাশি, ল্যাপটপে ‘বেটিং অ্যাসিস্ট্যান্স’ নামের একটি বেটিং সফটওয়্যার ইনস্টল করেও এই জুয়ার কাজ চালানো হতো বলে জানিয়েছে অভিযুক্তরা।

ভারতের সিরিজ জয়
রোববার তৃতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারিয়ে একদিনের সিরিজ জিতে নিয়েছে ভারত।
টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করে অস্ট্রেলিয়া ৬ উইকেটে তোলে ২৯৩ রান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৩ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করে ফেলে ভারত। রহিত শর্মা ও অজিঙ্কা রাহানে জয়ের ভিতটা গড়ে দিয়েছিলেন। তার উপর দাঁড়িয়ে ঝোড়ো ব্যাটিং করে ‘টিম ইন্ডিয়া’র জয় কার্যত নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন নতুন তারকা হার্দিক পান্ডিয়া। ম্যাচের সেরা পুরস্কারও পান তিনি।

হোলকারের উইকেটে প্রচুর রান ছিল। তাই ২৯৪ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে রহিত ও রাহানে ধীরে ধীরে রানের গতি বাড়ান। ওপেনিং জুটিতে তাঁরা যোগ করেন ১৩৯ রান। একটা সময় মনে হয়েছিল, ভারত বড় ব্যবধানে জিতবে। কিন্তু রহিত শর্মা ও অজিঙ্কা রাহানে পর পর আউট হতে লড়াইয়ে ফিরে আসার সুযোগ পেয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। ছ’টি চার ও চারটি ছক্কার সাহায্যে ৬২ বলে রহিত করেন ৭১ রান। ন’টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৭০ রান করেন রাহানে। সিরিজে এটি তাঁর দ্বিতীয় অর্ধশতরান।

জোড়া ধাক্কা সামলে ম্যাচের রাশ হাতে তুলে নেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি ও হার্দিক পান্ডিয়া। তৃতীয় উইকেটে তাঁরা তোলেন ৫৬ রান। স্রোতের বিপরীতে কোহলি (২৮) আচমকা উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে দলকে কিছুটা বিপাকে ফেলে দিয়েছিলেন। তার উপর দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিং করে কেদার যাদব (২) অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচে ফেরার সুযোগ করে দেন। কিন্তু হার্দিক পান্ডিয়ার ঝোড়ো ব্যাটিং স্মিথ বাহিনীর যাবতীয় প্রয়াসে পানি ঢেলে দেয়। তবে ৪১ রানের মাথায় হার্দিকের ক্যাচটা যদি স্মিথের হাত থেকে না পড়ত, তাহলে খেলার ফল অন্য রকম হতেও পারত। এটাই ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট!

হার্দিক আর পিছন ফিরে তাকাননি। শক্তি বাড়িয়ে চার-ছক্কার বন্যা বইয়ে দলের জয় প্রায় নিশ্চিত করেন তিনি। হার্দিকের ৭৮ রানের ইনিংসে রয়েছে ৫টি চার ও ৪টি ছক্কা। মণীশ পাণ্ডে এদিন দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন। ৬টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৩৬ রানে তিনি অপরাজিত থাকেন। মহেন্দ্র সিং ধোনিকে ঘিরে ভারতীয় সমর্থকদের মধ্যে বাড়তি উন্মাদনার সঞ্চার ঘটছে প্রতিটি ম্যাচেই। মাহি মাঠে নামার সময় হোলকার স্টেডিয়ামের দর্শকরা তাকে করতালি দিয়ে স্বাগত জানান। ধোনির ব্যাটে ঝড় দেখতে চেয়েছিলেন সকলেই। কিন্তু মাহি সেই পথে হাঁটেননি। ৬ বলে ৩ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।

টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া শুরুটা বেশ ভালোই করেছিল। এদিন ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গে ওপেন করতে নেমেছিলেন অ্যারন ফিনচ। চোটের কারণে গত দু’টি ম্যাচে তিনি খেলতে পারেননি। ভারত পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় স্মিথ বাহিনী মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছিল প্রত্যাবর্তনের আশায়। পুরো ফিট না হওয়া সত্ত্বেও ফিনচকে কার্যত ঝুঁকি নিয়েই প্রথম একাদশে রাখে অস্ট্রেলিয়া টিম ম্যানেজমেন্ট। ফিনচ হতাশ করেননি। ওয়ার্নারের সঙ্গে জুটি বেঁধে ধীর গতিতে শুরু করেন। প্রথম দশ ওভারে অস্ট্রেলিয়া তোলে ৪৯ রান। নতুন বলে হোলাকারের বাইশগজে বেশ ভালোই বল করেন ভারতের দুই পেসার ভুবনেশ্বর কুমার ও যশপ্রীত বুমরাহ।

ভারতকে প্রথম সাফল্যটি এনে দেন হার্দিক পান্ডিয়া। তার বলে ৪২ রানে আউট হন ওয়ার্নার। তবে ওপেনিং জুটিতে ফিনচের সঙ্গে জুটি বেঁধে ৭০ রান যোগ করেন তিনি। যার সুবাদে অস্ট্রেলিয়ার সামনে বড় স্কোর খাড়া করার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। সেই সম্ভাবনা আরও বেড়েছিল দ্বিতীয় উইকেটে ফিনচ ও অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ ১৫৪ রান যোগ করার পর। অ্যারন ফিনচ এদিন একদিনের ক্রিকেটে অষ্টম শতরান পূর্ণ করেন। চোট সারিয়ে মাঠে ফেরার পর তাঁকে বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছিল। বিশেষ করে ভারতের দুই রিস্ট স্পিনার যুজবেন্দ্র চাহাল এবং কুলদীপ যাদবের বিরুদ্ধে ব্যাট হাতে যথেষ্ট সাবলীল ছিলেন তিনি। কুলদীপের বিরুদ্ধে তিনি ২৬ বলে ৪১ রান নেন। ১২৫ বলে ১২৪ রানে তিনি আউট হন। ফিনচের ইনিংসে রয়েছে ১২টি চার ও ৫টি ছক্কা। ফিনচ চারটি ছক্কা হাঁকিয়েছেন ‘গুগলি’তে।

৪০ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ছিল ২৩৪। সেই সময় মনে হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া হয়তো সাড়ে তিনশো রান তুলে ফেলবে। কিন্তু তার পরেই স্পিনারদের হাত ধরে ম্যাচে ফিরে আসে ‘টিম ইন্ডিয়া’। স্মিথ ৬৩ রানে কুলদীপের বলে ধরা পড়েন বুমরাহর হাতে। অজি অধিনায়কের ইনিংসে রয়েছে ৫টি চার। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ফের বড় রান করতে ব্যর্থ। চাহালের বলে তাঁকে ৫ রানে স্টাম্পিং করেন ধোনি। পর পর তিনটি উইকেট পড়ে যাওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার রানের গতিও মন্থর হয়ে যায়। তার উপর বুমরাহ বোল্ড করেন ট্রেভিস হেডকে (৪)। শেষ দশ ওভারে অস্ট্রেলিয়া চারটি উইকেট হারায়। তোলে মাত্র ৫৯ রান। মার্কাস স্টোইনিস ২৮ বলে ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫