ঢাকা, বুধবার,১৩ ডিসেম্বর ২০১৭

শেষের পাতা

বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী ফ্রন্টের ভোট বর্জন

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাচনে কেন্দ্র দখল

ভোট দিতে পারেননি প্রার্থীরাও

ওমর ফারুক, চট্টগ্রাম ব্যুরো ও পটিয়া চন্দনাইশ সংবাদদাতা

২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭,সোমবার, ০০:০০


প্রিন্ট

নব গঠিত চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাচনে সরকারদলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোটকেন্দ্র দখলের অভিযোগ উঠেছে। এতে বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট এস এম ফোরকান, ভাইস চেয়ারম্যান হাজী মোহাম্মদ ওসমান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান উম্মে মিরজান হাবিবা ভোট দিতে পারেননি। তাদের অভিযোগ, উপজেলায় ৪২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৬টিতে সরকার দলীয় ক্যাডাররা তাদের এজেন্টদের মারধর করে বের করে দিয়েছে। বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের পথে পথে বাধা দিয়েছে। মারধর করেছে। ভোটের আগের রাতে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে বোমা ফাটিয়ে কেন্দ্রে না যেতে ভয়ভীতি দেখিয়েছে। সকাল ১০টায় সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির প্রার্থী এজেন্টকে কেন্দ্রে ঢুকতে না দেয়া, নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, অনিয়ম, কারচুপি ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগ এনে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। গতকাল বেলা ২টার দিকে জাতীয় পার্টি ও ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থীরা একই অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করেন। 

গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় শাহমীরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় কেন্দ্রে অল্পসংখ্যক পুরুষ ভোটার। মহিলা ভোটারের লাইনে কেউ নেই। উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল যুবক কেন্দ্রের ভেতরে অবস্থান নিচ্ছেন। ওই কেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থীর কোনো এজেন্ট দেখা যায়নি। পূর্ব শাহমীরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গিয়ে দেখা যায় ভোট কেন্দ্রের আশপাশে কয়েক শ’ ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মী লাঠিসোটা নিয়ে অবস্থান নিয়েছে। পুলিশ তাদের সঙ্গে খোশগল্পে মেতে উঠতে দেখা গেছে। শিকলবাহ এজে চৌধুরী কলেজ কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্ট দেখা যায়নি। বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট এস এম ফোরকান জানান, ওই কেন্দ্রে সকাল ৮টায় যুবলীগ নেতা জসিম ও মান্নানের নেতৃত্বে বিএনপির সমর্থকদের ওপর হামলা করে। ওই সময় তার এজেন্টকে বের করে দেয়া হয়। 

এ দিকে সকাল ১০টায় বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট এস এম ফোরকান শিকলবাহাস্থ তার বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। এ সময় বিএনপি মনোনীত অপর দুই ভাইস চেয়ারম্যান হাজী মোহাম্মদ ওসমান, উম্মে মিরজান হাবিবাও উপস্থিত হয়ে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

এ সময় উপস্থিতি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এহসান এ খান, সাধারণ সম্পাদক আলী আব্বাস, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন মিয়াসহ অন্যান্য নেতা। 

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট এস এম ফোরকান বলেন, এটা একটি চূড়ান্ত প্রহসনের নির্বাচন। এভাবে লোক দেখানো নির্বাচন না দিয়ে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীকে চেয়ারে বসিয়ে দিলেই হয়ে যায়। এই নির্বাচন আরেকটি যুগপৎ প্রহসন ও পাতানো নির্বাচনের দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল দেশের ইতিহাসেÑ দাবি করেন তিনি।

তিনি জানান, ভোটের আগের রাতে স্থানীয় আওয়ামী লীগের ক্যাডার বাহিনী পুরো এলাকায় গুলি বর্ষণ করে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। তার বাসভবনে হামলা চালায়। বেশ কয়েকজন বিএনপি সমর্থককে আহত করা হয়। ভোটের দিন সকাল ৬টা থেকে বড়উঠান, চরলক্ষ্যা, শিকলবাহ এলাকায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের ক্যাডার বাহিনী বিএনপি প্রার্থীর এজেন্ট ও সমর্থকদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়, মারধর করে। 

তিনি জানান, পুলিশের সামনে ছাত্রলীগ-যুবলীগ ক্যাডাররা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া দিলেও পুলিশ ছিল নির্বিকার। 

বিএনপি সমর্থিত ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী মুহাম্মদ ওসমান সাংবাদিকদের অভিযোগ করে বলেন, শাহমীরপুর ও জুলধার দু’টি কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ভাইস চেয়ারম্যান দিদারুল আলমের লোকজন। 

তিনি বলেন, সকাল ৯টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে গেলে দেখতে পাই নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা সেখানে ১৯ জন ম্যাজিস্ট্্েরট নিয়ে তিনি বসে আছেন। প্রশ্ন হলোÑ নির্বাচন চলাকালীন ম্যাজিস্ট্রেটরা কেন্দ্রে না গেয়ে ইউএনও অফিসে কী কাজ করছিল? তিনি বলেন, এটাই হচ্ছে প্রহসনের নির্বাচনের নমুনা। 

এ দিকে নির্বাচন বর্জনের প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ফারুক চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনকে প্রশ্নববিদ্ধ করতে শুরু থেকেই ষড়যন্ত্র করছে বিএনপি। যে কারণে তারা গণসংযোগ করেনি, যায়নি ভোটারদের দুয়ারে। আজকে বর্জন নাটক করে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পরিকল্পনাটি তারা শুরু থেকেই নিয়ে রেখেছিল।

অপর দিকে ব্যাপক কারচুপি ও কেন্দ্রে কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ দলীয় নেতাকর্মীদের প্রভাব বিস্তার, এজেন্টদের বের করে দেয়া এবং একতরফা নির্বাচনের প্রতিবাদে বিএনপি প্রার্থীদের নির্বাচন বর্জনের পর ইসলামী ফ্রন্টের মোমবাতি প্রতীকের ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা মুছা ও জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মুন্নি বেগম নির্বাচন বর্জন করেন। বেলা ২টার দিকে এসব প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানান।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫