ঢাকা, সোমবার,২০ নভেম্বর ২০১৭

নারী

নিরাপত্তাহীনতায় রোহিঙ্গা তরুণীরা

২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭,সোমবার, ০০:০০


প্রিন্ট
আতঙ্কে রোহিঙ্গা নারীরা।  ছবি : টেকনাফ শামলাপুর

আতঙ্কে রোহিঙ্গা নারীরা। ছবি : টেকনাফ শামলাপুর

ইতিহাসের ঘৃণ্যতম নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গারা। অত্যাচার থেকে বাঁচতে দলে দলে রোহিঙ্গা শরণার্থী পালিয়ে এসেছে বাংলাদেশে। এদের মধ্যে নারী-শিশুই বেশি। এখানে এত মানুষের একসাথে বসবাসের জন্য রয়েছে নানা সঙ্কট। কিন্তু তার চেয়ে বেশি বিব্রত করছে রোহিঙ্গা তরুণীদের নিরাপত্তার সঙ্কট। এখানেও কিছু খারাপ মানুষ তাদের নানাভাবে হয়রানি করছে। এসব নিয়ে লিখেছেন
গোলাম আজম খান, কক্সবাজার
মিয়ানমারের বুচিডং টমবাজার থেকে পালিয়ে এসে কুতুপালং অস্থায়ী রোহিঙ্গা বস্তিতে ঠাঁই নিয়েছেন তরুণী হামিদা। তার বাবাকে মিয়ানমারের সেনারা গুলি করে হত্যা করেছে। মা ও এক ছোট বোনের সাথে চার দিন আগে তিনি বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন। কিন্তু বাংলাদেশে এসেও স্বস্তিতে নেই হামিদা ও মা আলেয়া খাতুন। সুন্দরী হওয়ায় কিছু লম্পট তাকে ঘিরে রয়েছে। একই সাথে দালালও তাদের আশেপাশে ঘুরঘুর করছে। তিন দিন ধরে নানাভাবে হামিদা ও তার মাকে ফুঁসলাচ্ছে লম্পট ও দালালেরা। নানাভাবে লোভও দেখাচ্ছে। তারা হামিদাকে কুপ্রস্তাবও দিয়েছে। বিনিময়ে টাকা দেবে বলে প্রলোভন দেখাচ্ছে। শুধু লম্পট যুবকেরা নয়, কয়েকজন দালালও হামিদার মাকে টাকার প্রস্তাব দিয়েছে। তরুণী হামিদাকে তারা হোটেলে রাখবে। বিনিময়ে অনেক টাকা দেবে। হামিদা বলেন, ‘বাবাকে চোখের সামনে মরতে দেখেছি। নিজের প্রাণ বাঁচাতে চরম আতঙ্ক নিয়ে পালিয়ে এসেছি। কিন্তু এখানে এসেও শান্তি নেই। প্রতিনিয়ত লম্পটদের কালো হাত তাড়া করছে। এই আতঙ্কের কারণে একটুও শান্তি পাচ্ছি না। মা আলেয়া খাতুন বলেন, ‘নিজ দেশ ছেড়ে জান বাঁচাতে পালিয়ে এসেছি। সুন্দরী মেয়েকে নিয়ে এখানে এসেও বিপদ পিছু নিয়েছে। আমার খুব ভয়, না জানি মেয়েটা হাতছাড়া হয়ে যায়। তাই রাত-দিন মেয়েকে নিজ হাতে ধরে রেখেছি।’ এমন ঘটনা শুধু হামিদার নয়Ñ অনেকেই এর ভুক্তভোগি।
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও রাখাইনদের হামলার মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের একটি বড় অংশই অবিবাহিত তরুণী।
এসব তরুণীর মধ্যে অনেক সুন্দরী তরুণী রয়েছেন। তারা সবাই বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন স্থানে নানাভাবে ঠাঁই নিয়েছেন। প্রাণ বাঁচাতে নিজ দেশ ছেড়ে পালিয়ে এলেও এসব তরুণী শান্তিতে নেই। প্রতিনিয়ত তাদের তাড়া করছে এ দেশীয় লম্পট ও দালালদের কালো হাত। এ নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন রোহিঙ্গা তরুণীরা। নিরাপত্তাহীনতা তাদের পরিবারকেও ভাবিয়ে তুলেছে বলে জানা গেছে।
দলে দলে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের নানাভাবে প্রত্যক্ষ করে জানা যায়, ভাড়া নিয়ে দালালদের বিড়ম্বনা, টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, মোবাইল সেট কেড়ে নেয়া, গরু-ছাগল-মহিষ লুট করা, পানি-খাদ্য সঙ্কট ইত্যাদির পাশাপাশি চরম সমস্যায় ভুগছেন রোহিঙ্গা তরুণীরা।
যেসব মা অথবা বাবার সাথে সুন্দরী তরুণী রয়েছে তারা চরম নিরাপত্তা সঙ্কটে ভুগছেন। মা-বাবার চেয়েও বেশি আতঙ্কে রয়েছেন তরুণীরা। পালিয়ে আসা তরুণীদের মধ্যে বেশির ভাগেরই কোনো-না-কোনো আত্মীয় হত্যার শিকার হয়েছেন।
এ নিয়ে তারা শোকের সাগরে ভাসছেন। তার ওপর লম্পটদের হানা তাদেরকে অসহায় করে তুলেছে।
জানা যায়, পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সাহায্য-সহযোগিতায় কাজ করছেন স্থানীয় লোকজন। এ ছাড়া দূর-দূরান্ত থেকেও লোক গিয়ে অসহায় রোহিঙ্গাদের সহযোগিতা করছেন। কিন্তু কিছু স্থানীয় দুষ্টু লোক রোহিঙ্গাদের সাথে নিষ্ঠুর আচরণ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা রোহিঙ্গাদের গরু-ছাগলসহ নানা জিনিসপত্র লুট করছে। একইভাবে সুন্দরী রোহিঙ্গা তরুণীদের ওপর কুনজর দিয়েছে স্থানীয় কিছু লম্পট শ্রেণীর লোক ও পতিতার দালালেরা। তারা সুন্দরী রোহিঙ্গা তরুণীদের টার্গেট করে নানাভাবে কুপ্ররোচনা দিচ্ছে। ভাগাতে না পেরে অপহরণ পর্যন্ত করছে। অন্য দিকে, পতিতার দালাল চক্রও টার্গেট করেছে সুন্দরী রোহিঙ্গা তরুণীদের। তারা অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে এসব তরুণী ও তাদের পরিবারকে ফুঁসলাচ্ছে। এতে নিরাপত্তা সঙ্কট ভুক্তভোগীদের কুরে কুরে খাচ্ছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তায় পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি নিয়োজিত রয়েছে। কিন্তু পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির সংখ্যা খুব অপ্রতুল হওয়ায় নিরাপত্তার প্রবল সঙ্কট বিরাজ করছে। নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন বাড়ানোর পাশাপাশি নজরদারিও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫