ঢাকা, সোমবার,২০ নভেম্বর ২০১৭

নারী

  আমিও বলতে চাই  

আর কত?

২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭,সোমবার, ০০:০০


প্রিন্ট

প্রতিদিন একটা ধর্ষণ বা নির্যাতনের খবর বের হচ্ছে। এভাবে নারী আর শিশুরা যদি নির্যাতিত হতে থাকে, তাহলে দেশ কোথায় গিয়ে ঠেকবে? বগুড়ায় ছাত্রীকে ধর্ষণ পরে মা ও মেয়ের মাথা ন্যাড়া করার ঘটনায় সবাই হতবাক। এই ঘটনার সাথে জড়িত একজন শ্রমিকলীগ নেতাকে সহযোগীসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। কিছুদিন আগে নারী ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে রাজধানীর কদমতলি থানা থেকে পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। আরো কিছু দিন আগে রাজধানীর পরীবাগ থেকে কাজের মেয়েকে নির্যাতনের পর সাততলা থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করা সন্দেহে সালেহ আহমদ নামে এক চরিত্রহীন পুরুষকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এভাবে না জানি আরো কত নারী নির্যাতনের খবর অপ্রকাশিত থেকে যায় আল্লাহই জানেন! 

এখনো নিয়মিত পত্রিকার পাতাজুড়ে নারী নির্যাতনের খবর আসে। বেশির ভাগ নারী যৌতুকের জন্য নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। আর কিছু নির্যাতন হচ্ছে অশিক্ষিত ও বিকৃত মানসিকতাসম্পন্ন মানুষের হাতে। তবে নারী নির্যাতনকারী শিক্ষিত হোক আর অশিক্ষিত হোক সে মানসিকভাবে বিকৃত এটা নিশ্চিত। মাঝে মধ্যে চার দিক থেকে শুধু এমন বাতাস ভারী করা খবর আসতে থাকে। আর্তনাদে কেঁপে ওঠার খবরের মতো খবরও আসে। আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে চিৎকার করে কাঁদার খবরগুলো যেন মাঝে মধ্যে ধারাবাহিকভাবে চলমান প্রক্রিয়াতে রূপান্তর হয়! এমন ঘটনাগুলো থামবে কখন বোঝা মুশকিল! এই পৈশাচিক বর্বরতায় নির্যাতনগুলো বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হয় না। অনেক সময় নির্যাতন করেও থেমে নেই, তারপর হত্যা করা হয়। যেমনÑ কুমিল্লার সোহাগী জাহান তনু হত্যার কোনো ক্লু পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে না। এই নারী নির্যাতনের মতো ঘৃণিত কাজ যারা ঘটাচ্ছে, তাদের মনুষ্যত্ব দূরে থাক পশুত্ব আছে কি না সেটাও সন্দেহ দেখা দিয়েছে। কারণ পশুরাও এমন নির্যাতন দেখলে কেঁপে উঠবে। যারা এমন নির্যাতন করছে তাদের মনে হয় না যে যাকে নির্যাতন করছে সে একজন মানুষ। মানুষের প্রতি মানুষের অনুভূতি জেগে না উঠলে বুঝতে হবে সে মানুষ নয় পশু। মূলত নির্যাতনকারীরা পশুই। নারী নির্যাতনের খবর প্রকাশিত হলে সব পুরুষ হেয় হয়। পুরুষ ছোট হয়। আমি আবারো বলতে চাই, এরা পুরুষ নয় পশুর কাতারে। এদের রক্ষা করা বা পালন করার জন্য থাকে আরেকটি পশুর দল। মূলত এদের পক্ষ হয়ে কোনো কাজ করাই উচিত নয়! 

আমাদের দেশে নারীদের অবমাননা নতুন কিছু নয়। অতীতেও অনেক নারী ও শিশু ধর্ষণের স্বীকার হয়েছে। অনেক সময় ধর্ষণের পর অনেক নারী আর শিশুকে হত্যাও করা হয়েছিল। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আসামিরা আইনের ফাঁক গলে বেঁচে যায়। শাস্তি দেয়ার সঠিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করা না গেলে এসব ঘৃণিত অপরাধ বন্ধ হবে না। 

এখন আধুনিক যুগ! উন্নত ও সভ্য যুগ। নারী-পুরুষ দু’জনই এই উন্নতির সমান অংশীদার। শিক্ষার আলোয় আজ মানুষ আলোকিত। অনেক নারী আজ দুনিয়ার বড় বড় সেক্টর সামলাচ্ছেন। দেশের অনেক নেতৃত্ব শীর্ষ পদে থেকে আজ নারীরা চালাচ্ছেন। আর যে সব নারী ঘরসংসার সামলাচ্ছেন তাদের অবদানও নেহাত কম নয়! রাখছেন সভ্যতার উন্নতিতে। কারণ ঘরসংসার সামলানো কম ঝামেলার নয়। আর এই সংসার সামলানোর জন্য পারিশ্রমিক দেয়া হতো! তাহলে এর মূল্য কত হতো একবার ভেবে দেখা দরকার। তাই ঘরের নারীদেরও সঠিক মূল্যায়ন পাওয়ার অধিকার রয়েছে। বাইরে কাজ করতে যাওয়া নারীরা বেশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন। কিন্তু কেন?

সংশয়ের ব্যাপার হচ্ছে, এই আধুনিক যুগে এসেও প্রতিদিন পত্রিকার পাতাজুড়ে ধর্ষণের খবর। দুনিয়াজুড়েই নারীরা আজ ধর্ষিত হচ্ছে। পরিসংখ্যানে মনে হয় এসব অপ্রীতিকর ঘটনা ভারতে সবচেয়ে বেশি ঘটে। উন্নত দেশগুলোতেও এসব ঘটনা ঘটে চলেছে। আমাদের দেশেও এসব ঘটনা কম হচ্ছে না। কিছু মানবরূপী হিংস্র পশু সুযোগ খুঁজে এভাবে নারীর জীবন আর মানসম্মান নষ্ট করার জন্য। এসব নরপশুর কাছে মনে হয় না নারী সেও মানুষ। সে কোনো ভোগের বা অসম্মানের বস্তু নয়। একজন নারীর পেট থেকেই সে জন্ম নিয়েছিল। নৈতিক শিক্ষার অভাব এমন ঘৃণিত পশুদের কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। অনেক সময় অপরাধীরা বিত্ত ও প্রভাব দিয়ে তাদের কৃত অপরাধ চাপা দিয়ে দেয়। অপরাধ চাপা দিলেও তারা আর পশু থেকে মানুষ হয়ে উঠে না। আবার সুযোগ পেলে আরো বড় অপরাধের জন্ম দেয়। তাই আইন ও প্রশাসনের উচিত শুরুতেই এদের দমন করে পঙ্গু করে দেয়া বা নির্মূল করা।

এসব বীভৎস ঘটনা থেকে বেঁচে থাকার জন্য নারীদেরও অধিক সচেতন থাকতে হবে। অল্প বয়সের মেয়েরা বন্ধু নির্বাচন করতে গিয়ে বেশি ভুল করে। এ ক্ষেত্রে তাদের উচিত চাকচিক্য থেকে চরিত্রকে বেশি গুরুত্ব দেয়া। সামান্যতম সন্দেহের অবকাশ থাকলেই সে ছেলে বন্ধু থেকে দূরে সরে যাওয়া উচিত। অনেক সময়ে প্রেমের ফাঁদে আটকে পড়েও অনেক মেয়ে ধর্ষিত হচ্ছে। কিছু দুশ্চরিত্র বখাটে ছেলে প্রেমের জালে অনেক ভালো মেয়ের সর্বনাশ করে। সম্প্রতি ঢাকার বনানীর আলোচিত ধর্ষণের দুটো ঘটনা থেকে এসব ফুটে ওঠে। তবে সব ঘটনা কিন্তু প্রকাশ পায় না। কিছু ঘটনা প্রকাশ পায় মাত্র, যা নিয়ে দেশে হইচই পড়ে যায়।

দুনিয়াতে সব পুরুষ খারাপ নয়। কিছু কুলাঙ্গারের জন্য আজ আমরা পুরুষ জাতি লজ্জিত। তাই সব পরিবারের উচিত তাদের মেয়েদের পুরুষ সম্পর্কে নয়, খারাপ পুরুষ সম্পর্কে ধারণা দেয়া। শিশুদের বোঝাতে হবে একটা নির্দিষ্ট রেখার বাইরে সে যেন না যায়। পরিচিত আর অপরিচিত কেউ ডাকলেও যেন নিজ ঘরের সীমানা ছেড়ে না যায়। সেই সাথে সব সময় চোখ কান খোলা রেখে নিজেকে নিরাপদ রাখার চেষ্টা থাকুক নারীদের মাঝে। নিরাপদে থাকুক আমাদের দেশেরসহ দুনিয়ার সব নারী। সব ধর্ষণে আর নির্যাতনের আইনি বিচার সমানভাবে হোক এই কামনা করি। 

 

কাজী সুলতানুল আরেফিন

পূর্ব শিলুয়া, ছাগলনাইয়া, ফেনী

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫