ঢাকা, বুধবার,১৩ ডিসেম্বর ২০১৭

অন্যদিগন্ত

উত্তর কোরিয়ার উপকূলের কাছে মার্কিন বোমারু বিমান ‘ধ্বংস’-ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাল্টাপাল্টি হুমকি

বিবিসি ও রয়টার্স

২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭,সোমবার, ০০:০০


প্রিন্ট

উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলের কাছ দিয়ে মার্কিন বোমারু বিমান উড়ে গেছে। যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবেলায় মার্কিন সামরিক বাহিনী উত্তর কোরিয়ার আকাশসীমায় তাদের যুদ্ধবিমান উড়িয়েছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগ ন। তা ছাড়া উত্তরে কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন ও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিও ইয়ং হোকে নতুন করে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়া সাম্প্রতিক সময়ে পরস্পরকে হুমকি দিয়ে কথা বলেছে। পেন্টাগনের মুখপাত্র ডানা হোয়াইট বলেন, যেকোনো হুমকি মোকাবেলায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপের উদাহরণ ছিল এটা। মঙ্গলবার জাতিসঙ্ঘের সাধারণ অধিবেশনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, নিজেদের ও মিত্রদের রক্ষায় প্রয়োজনে উত্তর কোরিয়াকে ‘ধ্বংস’ করবে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার এত কাছে আর কোনো মার্কিন বোমারু বিমান উড়ে যায়নি। আমরা উত্তর কোরিয়ার আচরণ খুবই গুরুত্বের সাথে নিয়েছি।’ জাতিসঙ্ঘে উত্তর কোরীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষণের কিছুক্ষণ আগেই এ ঘোষণা দেয় পেন্টাগন।
মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো জাতিসঙ্ঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে তার দেয়া বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েই উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি ইয়ং এমন মন্তব্য করেন। ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনকে একটি আত্মঘাতী মিশনের ‘রকেট মানব’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। রিং বলেন, ট্রাম্পের মতো একজন মানসিক বিকারগ্রস্ত লোকের কাছ থেকে এমন মন্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে রকেট হামলা চালানো অনিবার্য হয়ে উঠেছে।
উত্তর কোরিয়াকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়া হবে বলে ট্রাম্প যে মন্তব্য করেছেন তার জন্য তাকে চড়া মূল্য দিতে হবে বলেও হুমকি দিয়েছেন রিং।
পেন্টাগনের তরফ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যেকোনো হুমকি মোকাবেলায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে অনেক ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার সুযোগ রয়েছে। এ সামরিক প্রদর্শন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে একটি পরিষ্কার বার্তা। ওই বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্র দেশগুলোকে রক্ষা করতে আমরা সামরিক ক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার করার জন্য প্রস্তুত রয়েছি।
এ দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার এক টুইট বার্তায় উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিও ইয়ং হো যদি ‘ছোট রকেটম্যানের’ চিন্তাভাবনার প্রতিফলন ঘটায় তবে রিও এবং নেতা কিম জং উন ‘খুব বেশি দিন আশপাশে থাকবেন না’ বলে হুমকি দেন। শনিবার ট্রাম্প তার টুইট বার্তায় লিখেন, ‘শুনেছি উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসঙ্ঘে ভাষণ দিচ্ছে। যদি তিনি ছোট রকেটম্যানের চিন্তাভাবনার প্রতিধ্বনি করেন তবে তারা আশপাশে বেশি থদিন থাকবে না।
রকেটের লক্ষ্য হবে যুক্তরাষ্ট্র : উত্তর কোরিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের ‘মন্দ প্রেসিডেন্ট’ ডোনাল্ড ট্রাম্প পিয়ংইয়ংয়ের নেতাকে ‘রকেট মানব’ বলার পর অনিবার্যভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড তাদের রকেটের লক্ষ্যস্থলে পরিণত হবে বলে জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। শনিবার জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেয়া ভাষণে এ কথা বলেন উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি ইয়ং হো। এতে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে পক্ষ দু’টির মধ্যে চলমান উত্তপ্ত বাদানুবাদ আরো বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভাষণে রি ট্রাম্পকে ‘ক্ষমতাগর্বের আত্মপ্রাসাদে ভোগা বিকারগ্রস্ত ব্যক্তি’ যিনি জাতিসঙ্ঘকে ‘অপরাধীদের আশ্রয়স্থলে’ পরিণত করতে চাচ্ছেন বলে অভিযুক্ত করেন। রি বলেন, ট্রাম্প নিজেই ‘আত্মঘাতী মিশনে’ আছেন। এর আগে কিম ‘আত্মঘাতী মিশনে’ আছেন বলে মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। রি আরো বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট অমঙ্গল যুক্তরাষ্ট্রের আসনে বসে আছেন।’

বিশ্ব নেতাদের বার্ষিক ওই অধিবেশেনে রি হুঁশিয়ার করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সদর দফতর বা আমাদের দেশের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক হামলার ইঙ্গিত প্রদর্শন করলে পিয়ংইয়ং নিজেকে রক্ষার জন্য প্রস্তুত আছে। চূড়ান্তভাবে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হওয়া থেকে আমরা এখন মাত্র কয়েক পদক্ষেপ দূরে আছি।’
উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়নের পথে নিষেধাজ্ঞা কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না বলে দাবি করেন তিনি। উত্তর কোরিয়া ‘যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শক্তির ভারসাম্যের’ লক্ষ্যে পৌঁছাবেই বলে প্রত্যয় জানান রি। এক বিবৃতিতে জাতিসঙ্ঘ জানিয়েছে, বক্তৃতা শেষে রি জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় গুতেরেস বাড়তে থাকা উত্তেজনার বিষয়ে রিয়ের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করে উত্তেজনা প্রশমনের অনুরোধ জানান।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫