ঢাকা, শনিবার,২১ অক্টোবর ২০১৭

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

কিমকে উচিত শিক্ষা দিতে যাচ্ছেন ট্রাম্প

নয়া দিগন্ত অনলাইন

২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭,রবিবার, ১১:৩০ | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭,রবিবার, ১১:৪০


প্রিন্ট
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয় নেতা কিম জং উন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয় নেতা কিম জং উন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, "উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে আরো আগেই সামাল দেয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা হয়নি। যাহোক, আমি এখন তাকে শিক্ষা দিতে যাচ্ছি।"

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতাকে 'পাগল মানুষ' এবং 'লিটল রকেট ম্যান' বলেও আখ্যা দেন।

গত সপ্তাহ থেকে ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতাকে রকেট ম্যান হিসেবে উল্লেখ করে আসছেন।

ট্রাম্প বলেন, "আমাদের মাঝে এমন কোনো পাগল নেতা থাকা উচিত নয় যিনি যেখানে খুশি সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র মারবেন।"

শুক্রবার অ্যালাবামা অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান সিনেটর লুথার স্ট্রেঞ্জের জন্য আয়োজিত এক সমাবেশে যোগ দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ''রকেট ম্যানকে অনেক আগেই- বিল ক্লিনটনের আমলে শিক্ষা দেয়ার দরকার ছিল। তবে আমি আর বারাক ওবামার কথা রিপাবলিকানদের বলতে চাই না।"

ট্রাম্প আরো বলেন, "কিমকে এখন সামাল দেয়া উচিত নয়। কিন্তু আমি তা করব কারণ আমাকে এটা করতে হবে। লিটল ম্যান, আমরা এটা করতে যাচ্ছি। কারণ আসলেই আমাদের সামনে আর কোনো পথ নেই। আসলেই কোনো পথ খেলা নেই।"

একে অপরকে 'উন্মাদ' বললেন ট্রাম্প-কিম
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন বলেছেন 'উন্মাদ' মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কারণেই তিনি বুঝেছেন যে, তার দেশের জন্য পরমাণু অস্ত্র উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বন্ধ না করে তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এক বিবৃতিতে কিম বলেন, "জাতিসঙ্ঘে যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উত্তর কোরিয়াকে ধ্বংসের জুমকি দিয়েছেন, সে ভাষণের জন্য তাকে চড়া মূল্য দিতে হবে।"

ওই বিবৃতিতে ট্রাম্পকে মানসিক বিকারগ্রস্ত বলেও উল্লেখ করেন কিম জং উন।

এর প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার টুইটারে কিমকে 'ম্যাডম্যান' বা 'উন্মাদ ব্যক্তি' বলে মন্তব্য করেছেন।

ট্রাম্প তার টুইট বার্তায় লিখেছেন, "উত্তর কোরিয়ার কিম জং উন যে সত্যিকার অর্থেই একজন উন্মাদ ব্যক্তি, যে আসলে তার দেশের মানুষকে হত্যা করা বা তার মানুষ না খেয়ে মরছে তা মোটেও পরোয়া করে না। সে এমনভাবে তার কর্মের স্বাদ ভোগ করবে যেমনটা আগে কখনোই হয়নি।"

এর আগে জাতিসঙ্ঘে দেয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেছিলেন, যদি আমেরিকাকে নিজেদের সুরক্ষায় ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য করা হয় তবে তারা উত্তর কোরিয়াকে 'সম্পূর্ণ ধ্বংস' করে দেবে।

তিনি কিমকে 'আত্মঘাতী মিশনে থাকা রকেট ম্যান' বলেও ব্যঙ্গ করেন।

সাম্প্রতিক সময়ে এই দুই নেতা বেশ বাকযুদ্ধে মেতেছেন, উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করছেন।

নিজের বিবৃতির শেষে কিম ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন "আগুনের মাধ্যমে আমি নিশ্চিতভাবে এবং অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের ভীমরতিগ্রস্ত এই বৃদ্ধকে আমার হাতের মুঠোয় আনবো।"

দুই নেতার এই বাকযুদ্ধের প্রতিক্রিয়া চীন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে "পরিস্থিতি জটিল ও সংবেদনশীল' হয়ে উঠেছে।

"একে অপরকে হুমকি না দিয়ে প্রত্যেকের উচিত সংযমের মধ্যে থেকে আচরণ করা" বলেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখপাত্র।

রাশিয়াও আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার আহ্বান জানিয়েছে। ক্রেমলিন মুখপাত্র বলেছেন, "দুই দেশের মধ্যে যে উত্তেজনা চরমে উঠছে তাতে মস্কো উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে"।

উ.কোরিয়ার চূড়ান্ত লক্ষ্য কী?

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন তার দেশের সামরিক শক্তিকে আমেরিকার সম-অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কঠোর নিন্দা জানানোর পরপরই এ অঙ্গীকার করেন তিনি।

কিম জং-উনের বরাত দিয়ে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ এ খবর জানিয়েছে। তিনি বলেছেন, “সামরিক শক্তিতে আমেরিকার সম-অবস্থানে পৌঁছানো হচ্ছে আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য যাতে মার্কিন শাসকরা আর কখনো উত্তর কোরিয়ায় সামরিক হামলার হুমকি দেয়ার ধৃষ্টতা না দেখায়।”

উত্তর কোরিয়ার নেতা বলেন, শুক্রবার তার দেশের পক্ষ থেকে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র নিখুঁতভাবে তার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দেয়া সত্ত্বেও দেশের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচিকে পরিপূর্ণতা দেয়ারও ঘোষণা দেন কিম জং-উন।

শুক্রবার উত্তর কোরিয়া জাপানের উপর দিয়ে মাঝারি-থেকে-দূরপাল্লার হুয়াসং-১২ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। ওই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কয়েক ঘণ্টা আগে জাপানকে ‘সাগরে ডুবিয়ে’ দেয়ার হুমকি দিয়েছিল পিয়ংইয়ং।

ক্ষেপণাস্ত্রটি আকাশে উড্ডয়নের পর জাপানের কর্মকর্তারা নিয়মিত টেলিভিশন অনুষ্ঠান বন্ধ করে হোক্কাইদো দ্বীপের অধিবাসীদেরকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং জনগণ সে আহ্বানে সাড়া দেয়। কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্রটি হোক্কাইদো দ্বীপে আঘাত হানার পরিবর্তে এর আকাশ দিয়ে উড়ে যায় এবং দ্বীপটিকে অতিক্রম করে আরো ২,২০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সাগরে পতিত হয়।

গত রাতেই জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ এক জরুরি বৈঠকে বসে ওই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানালেও নতুন করে কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়নি।

গুয়াম দ্বীপে আঘাত হানতে সক্ষম উ.কোরিয়ার নতুন ক্ষেপণাস্ত্র
যুদ্ধের হুমকি, নিষেধাজ্ঞা, আন্তর্জাতিক চাপের তোয়াক্কা না করে আবার জাপানের উপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। ক্ষেপণাস্ত্রটি গুয়াম দ্বীপে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানতে সক্ষম।

জাপানের উত্তরে হোক্কাইডো দ্বীপের উপর দিয়ে উড়ে যায় উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র। সেখান থেকে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগরের উপর আছড়ে পড়েছে সেটি। স্থানীয় সময় সকাল ৭টার দিকে সাইরেনের শব্দে মানুষ সতর্ক হয়ে পড়ে।

মোবাইল ফোনের মাধ্যমেও তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে পরামর্শ দেয়া হয়। তবে পর পর এমন দুটি ঘটনা সত্ত্বেও জাপানের উত্তরে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি।

দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা সম্পর্কে কিছু তথ্য প্রকাশ করেছে।

তাদের সূত্র অনুযায়ী, ১৯ মিনিট ধরে সেটি আকাশে ছিল। ৭৭০ কিলোমিটার সর্বোচ্চ উচ্চতা ছোঁয়ার পর সেটি মোট ৩,৭০০ কিলোমিটার দূরে প্রশান্ত মহাসাগরে আঘাত হানে। অর্থাৎ গুয়াম দ্বীপে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এই ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় ছিল।

এই সাফল্য সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়া নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর উপর নিখুঁত আঘাত হানার ক্ষমতা আয়ত্ত করেছে কিনা, তা নিয়ে অনেক মহলে সন্দেহ রয়ে গেছে।

যাবতীয় চাপ সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়ার এমন ধারাবাহিক বেপরোয়া আচরণের জবাব কী হতে পারে, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট অবস্থান দেখা যাচ্ছে না। অ্যামেরিকা ও জাপানের অনুরোধে শুক্রবারই জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে জরুরি বৈঠক ডেকেছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বলেছেন, গোটা বিশ্বকে একযোগে উত্তর কোরিয়ার উদ্দেশ্যে স্পষ্ট বার্তা পাঠাতে হবে। সে দেশ তার আচরণের মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি বিঘ্নিত করছে।

উল্লেখ্য, এর আগে উত্তর কোরিয়া জাপানকে ‘ডুবিয়ে দেবার' হুমকি দিয়েছিল।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন সে দেশের বিরুদ্ধে ‘নতুন পদক্ষেপ' নেবার ইঙ্গিত দিয়েছেন। কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়া আরো একঘরে হয়ে পড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইন বলেছেন, এই মুহূর্তে উত্তর কোরিয়ার সাথে সংলাপ একেবারেই অসম্ভব। তিনি উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবিলা করতে নিজের প্রশাসনে নির্দেশ দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, সরাসরি সমরাস্ত্রের আঘাত ছাড়াও দক্ষিণ কোরিয়া ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক পাল্স অথবা জৈব রাসায়নিক অস্ত্র দিয়ে হামলার আশঙ্কা করছে।

উত্তর কেরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার শেষ পরিণতি কী?
উত্তর কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। দেশ দুটি সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে কি না তাই নিয়ে আলোচনা হচ্ছে সর্বত্র। হুমকি পাল্টা-হুমকির এই পরিস্থিতির শেষ কোথায় তা কেউ জানে না। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এর সম্ভাব্য কিছু পরিণতি।

প্রতিরক্ষামূলক যুদ্ধ : সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এইচআর ম্যাকমাস্টার প্রতিরক্ষামূলক যুদ্ধের নতুন একটি তত্ত্ব আবিষ্কার করেছেন। এর ফলে উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর মধ্যে বিপরীত প্রতিক্রিয়া হতে পারে। তারা যুক্তরাষ্ট্রে আক্রমণের চিন্তা বাদ দিয়ে উল্টো অভ্যুত্থান কিংবা বিদ্রোহ করে বসতে পারে। এই নীতির নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ারও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। দেশজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রেখেছে সরকার। সামরিক তৎপরতামুক্ত এলাকার মাত্র ৪০ মাইল দূরেও রয়েছে এর অবস্থান। আগাম কোনো হামলা কিম জং উনকে নিরস্ত্রীকরণে ভালো ফল দেবে না বরং প্রতিশোধ নিতে তিনি বেসামরিক লোকদের ওপর হামলা চালাতে পারেন।

সীমিত শক্তি প্রয়োগ : উত্তর কোরিয়াকে শাস্তিমূলক বার্তা পাঠানোর জন্য একটি জোরালো অবরোধ আরোপ করা যেতে পারে, যার মধ্যে থাকতে পারে শক্তি প্রয়োগও। তবে অবশ্যই সেটি হতে হবে প্রতিরক্ষামূলক আগাম হামলার চেয়ে কম মাত্রার। এর মধ্যে থাকতে পারে পরবর্তী আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র বা পারমাণবিক পরীক্ষা ক্ষেত্রে বোমা হামলা। তবে এ ক্ষেত্রে বড় একটি ঝুঁকি হচ্ছে উত্তর কোরিয়া হয়তো সীমিত শক্তি প্রয়োগ ও সর্বাত্মক যুদ্ধের মধ্যে পার্থক্য করতে পারবে না। সে ক্ষেত্রে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে তা নিবৃত করা কঠিন এবং তারা সব বিপজ্জনক অস্ত্র প্রয়োগ করতে পারে।

উত্তর কোরিয়াকে নেতৃত্বশূন্য করা : উত্তর কোরিয়াকে নেতৃত্বশূন্য করা যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সমর পরিকল্পনার একটি অংশ। শোনা যাচ্ছে, শুধু এ কাজের জন্য দক্ষিণের একটি বিশেষ বাহিনীও রয়েছে। তবে এটি একটি ভুল পরিকল্পনা হতে পারে। বিশ্বে এই মুহূর্তে সবচেয়ে জোরালো নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে থাকা লোকদের অন্যতম কিম জং উন। আবার তাকে হত্যা করা হলে তার চেয়েও উগ্র কেউ ক্ষমতায় বসবে না এমন নিশ্চয়তা নেই। সেটি হলে যুদ্ধ আরো ত্বরান্বিত হবে।

অর্থনৈতিক চাপ জোরদার : ইতোমধ্যেই অর্থনৈতিক দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বিচ্ছিন্ন দেশে পরিণত হয়েছে উত্তর কোরিয়া। চলতি সপ্তাহেও দেশটির ওপর নতুন কিছু অবরোধ আরোপ করেছে জাতিসঙ্ঘ। এগুলো আরো জোরদার করতে প্রয়োজন চীনের অংশগ্রহণ; কিন্তু তাতে দেশটির সরকার পতন হয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা বেইজিংয়ের। বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করার ‘অপরাধে’ চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অবরোধ আরোপের আহ্বান জানাচ্ছেন মার্কিন ভাষ্যকাররা; কিন্তু তাতে পাল্টা-ব্যবস্থা নিতে পারে চীন। সেটি হলে সঙ্কটে পড়বে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক। অধিকন্তু এটি আরো স্পষ্ট যে, এতে চোরাচালানের ওপর নির্ভর করে টিকে থাকা কিম সরকারের মনোভাব পাল্টে যেতে পারে।

আনুষ্ঠানিক আলোচনায় ফিরে আসা : বারাক ওবামা প্রশাসনের সময় বন্ধ হয়ে যাওয়া ছয় জাতি আলোচনায় ফিরে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই উত্তর কোরিয়ার। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, পিয়ংইয়ং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বন্ধ করলে এবং আলোচনার মাধ্যমে পারমাণবিক কর্মসূচি প্রত্যাহার করতে রাজি হলেও তারা কেবল আলোচনায় বসবে। উত্তর কোরিয়া রাজি নয় এই শর্তে। উত্তর কোরিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নেয়া হলেও তা বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে কর্মসূচিতে প্রভাব ফেলবে। আরো অনেক দেশ তখন উত্তর কোরিয়ার পথ অবলম্বন করতে পারে।

উভয়পক্ষের সংযম : চীন ও রাশিয়া একটি প্রস্তাব দিয়েছে যাতে রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা সামরিক মহড়া বন্ধ রাখলে উত্তর কোরিয়াও বন্ধ রাখবে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। এতে অবশ্য দক্ষিণ কোরিয়ার আত্মরক্ষামূলক সামরিক কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট এ বিষয়ে কতটা আন্তরিক তা স্পষ্ট নয়।

নিঃশর্ত আলোচনা : উত্তর কোরিয়াবিষয়ক মার্কিন বিশেষজ্ঞ সেগফ্রেইড দুই পক্ষকে দ্রুত নিঃশর্ত আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি পরিদর্শন করে আসা এই বিশেষজ্ঞ আশঙ্কা করছেন তা না হলে ছোট কোনো উসকানিতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫