ঢাকা, মঙ্গলবার,১২ ডিসেম্বর ২০১৭

গবেষণা

কৃষিতে ড্রোনের ব্যবহার কি ফসল উৎপাদন বাড়াবে?

বিবিসি বাংলা

২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭,রবিবার, ০৯:৫৬ | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭,রবিবার, ১০:০৩


প্রিন্ট
পুরো বাগানের ওপরে নজর রাখছে ড্রোন।

পুরো বাগানের ওপরে নজর রাখছে ড্রোন।

দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েস্টার্ন কেপ অঞ্চলে ড্রোন ব্যবহার করে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। সেখানে একটি লেবুর বাগানের গিয়েছিলেন সংবাদদাতা তুরাই মাদুনা।

বাগানটির বেশির ভাগ লেবুই রপ্তানি হয় মধ্যপ্রাচ্যে। বাকিটা চলে যাবে স্থানীয় সুপার মার্কেটে।

ইদানীং সেখানে মাথার উপর দিয়ে নিয়মিত উড়ে যায় ড্রোন। মনে হয় যেন বড় ধরনের একটি মাছি অনেক শব্দ করে ভন ভন করে উড়ে গেলো।

ড্রোনটি যেন পুরো বাগানের ওপরে নজরদারি করছে। ফার্স্ট ফ্রুট গ্রুপ নামের এই বাগানটির প্রধান নির্বাহী হাইন গার্বার বলছিলেন , "সাধারণত আপনার যতদূর চোখ যাবে আপনি তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সময়েরও একটা ব্যাপার আছে। এই দুটি বিষয়ের উপর নির্ভর করবে আপনি দিনে আপনার বাগানের নির্দিষ্ট কতটুকুর উপর নজর রাখতে পারবেন। কিন্তু ধরুন বাগানের অন্য কোন অংশে আপনার যাওয়া হলো না আর সেখানে কোন সমস্যা হয়ে গেলো।"

সেই সমস্যারই সমাধান করছে ড্রোন। আপনি নিজে উপস্থিত না হতে পারলেও উড়ে উড়ে পুরো বাগানোর উপর নজর রাখছে দুর থেকে পরিচালিত ছোট এই উড়ন্ত যন্ত্রটি।

কিন্তু কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে ড্রোনের কি সম্পর্ক?

দক্ষিণ আফ্রিকায় এই প্রযুক্তির উদ্যোক্তারা বলছেন হয়ত খামারের বেড়া কোথাও ভেঙে গেলো, কোথায় পানি কমে গিয়ে ফসল শুষ্ক হয়ে গেছে, খামারের কোন অংশে ফসল কম হয়েছে অথবা কোথায় মাটির চেহারা দেখতে কেমন সবই উঠে আসবে ড্রোনের তোলা ছবি থেকে।

এরপর সে সম্পর্কিত রোজকার ডাটা আপনি পাবেন কম্পিউটারে। যা আপনি নিয়মিত বিশ্লেষণ করতে পারবেন। ৎ

হাইন গার্বার বলছিলেন ড্রোন ব্যবহার করে বেশ উপকৃত হচ্ছে তার ফার্ম।

জাতিসংঘ বলছে ২০৫০ সালের মধ্যে পৃথিবীর জনসংখ্যা দাঁড়াবে দশ বিলিয়নে। এত বিপুল মানুষের খাদ্যের যোগান দিতে এই সময়ের মধ্যে পৃথিবীর কৃষি উৎপাদন অন্তত ৭০ শতাংশ বাড়াতে হবে।

জাতিসংঘ বলছে এজন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে আফ্রিকার দেশগুলোকে কেননা পৃথিবীর দুই তৃতীয়াংশ অব্যবহৃত চাষযোগ্য জমি রয়েছে আফ্রিকাতে।

ড্রোন দিয়ে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। ওয়েস্টার্ন কেপ অঞ্চলের কৃষি খামারগুলোকে ড্রোন সেবা দিয়ে থাকে অ্যরোবটিকস নামের একটি কোম্পানি। এরপর ড্রোন থেকে তোলা ছবি তারা বিশ্লেষণ করে।

কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী জেমস প্যাটারসন বলছিলেন, "এই মুহূর্তে মাটির আর্দ্রতা রক্ষা করা এই অঞ্চলের জন্য সবচাইতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ওয়েস্টার্ন কেপ অঞ্চলে এই মুহূর্তে খরা বিরাজ করছে। বাগানগুলো তাই সঠিকভাবে সেচ ব্যবস্থাপনার চেষ্টা করছে। যেমন ধরুন কোন অংশে কম সেচ দেয়া হয়েছে। সেই বিষয়ের উপর নজর রাখা যায়। তারপর ধরুন ফসলের উৎপাদন কোথায় কতটা হলো তা বোঝা যায়। আমরা কোন কিছু সমস্যা হয়ে ওঠার আগেই ধরতে পারছি"

খামারিরা মোবাইল ফোনে অ্যাপ দিয়ে নিজেরাও যাতে এসব ড্রোন পরিচালনা করতে পারেন সে ব্যবস্থাও চালু করা চেষ্টা চলছে।

ড্রোনের ব্যবহার আফ্রিকার কৃষির চেহারা বদলে দিতে পারে এমন মনে করা হচ্ছে। কিন্তু এই মুহূর্তে ইন্টারনেটের গতি একটি সমস্যা বলছিলেন জেমস প্যাটারসন।

"আফ্রিকা ভিত্তিক হওয়ার একটি বিষয় হলো সব যায়গায় আমরা ভালো ইন্টারনেট পাইনা। আমরা যে তথ্য সংগ্রহ করি সেটি ক্লাউড ভিত্তিক। ইন্টারনেটের অভাবে ক্লায়েন্টকে আমরা সবসময় অনলাইনে সংরক্ষণ করা এসব দ্রুত তথ্য পৌছাতে পারি না। এটা একটা সমস্যা বটে কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে"

ড্রোনের মতো প্রযুক্তির ব্যবহার একই সাথে তরুণ প্রজন্মের কাছে কৃষিকে আকর্ষণীয় করে তুলবে এমন মনে করা হচ্ছে। এই পদ্ধতিকে বলাই হচ্ছে স্মার্ট ফার্মিং।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫