ঢাকা, মঙ্গলবার,১২ ডিসেম্বর ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

পরিষ্কার পানিতেও মাছ শিকারে ব্যর্থ!

মিনা ফারাহ

২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭,শনিবার, ১৮:৫৪


মিনা ফারাহ

মিনা ফারাহ

প্রিন্ট

পরিস্থিতি সাপেক্ষে, গণতন্ত্র বলতে এখন একমাত্র বিএনপি। সশরীরে না থাকলেও, সংসদের বাইরে থেকেই অভিভাবকের মতো পাহারা দিচ্ছে। প্রতিটি অধিবেশনেই জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে বিষোদগার তুলে প্রমাণ করা হচ্ছে, বিএনপিই একমাত্র বিরোধী দল। না হলে, বর্তমান সংসদের একটি বক্তব্যও পাবলিক ‘খায় না’, খবরেও মূল্য পায় না। গণতন্ত্রহীনতা থেকে বাঁচতেই জিয়া-পরিবারকে সংসদের মধ্যমণি করে পাবলিক হিউমিলিয়েশন থেকে রক্ষা। হাইকমান্ডের মুখে ক্ষমতার ধারাবাহিকতার বিষয়টি বারবার উচ্চারিত হওয়ায়, ভবিষ্যতে আর কোনো বৈধ নির্বাচন না হওয়ার আশঙ্কা। একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে দূর করে দিয়ে এভাবে ক্ষমতা হাতিয়ে নেয়া প্রসঙ্গে একটি কথাই মনে পড়ে।

প্রতিবারই রায়ের আগে বলত, ওমুক হলে আগুন জ্বলবে, আগুনে হাত দিলে হাত পুড়ে যাবে। আমরা খুশি, বিরাট ক্ষতি সত্ত্বেও আগুন জ্বালায়নি। তবে ঘোলা পানিতে শুধু মাছ শিকারই নয়, আগের চেয়ে পরের আগুন আরো তীব্র হওয়া সত্ত্বেও, প্রতিবারই আগুনে হাত দিয়ে অক্ষত আওয়ামী লীগ প্রমাণ করল- বিডিআর থেকে ১৬তম সংশোধনীর রায়, আগুনও তাদের কাছে পরাজিত।

বিএনপি ভদ্রলোকের দল, পাল্টা জবাব দিতে লজ্জা পায়। সে জন্যই যা খুশি বলে, যা মনে হয় করে ক্ষমতাসীনেরা। অশালীন হলেও সমস্যা নেই। দলীয় ফোরামে হাইকমান্ডের বক্তব্যকে রেফারেন্স করে লেখাটি, ৯-৯-২০১৭ ‘আমাদের সময়’সহ প্রায় সব পত্রিকায় প্রকাশিত।
‘নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবেই নির্বাচন পরিচালনা করবে। আমরা সেটা নিশ্চিত করব। এটা নিয়ে অহেতুক পানি ঘোলা করার চেষ্টা করা আর সংবিধান লঙ্ঘন করে অন্য কিছু করার সুযোগ নেই।’
ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করবে কারা? অভিযোগটি অন্ধের এভারেস্ট জয়ের মতো। বিএনপি সেই অন্ধ এবং আওয়ামী লীগ হচ্ছে দুর্গম এভারেস্ট। একে অতিক্রম করা বিএনপি কেন, বিশ্বের ক্ষমতাধর অনেক রাষ্ট্রের পক্ষে অসম্ভব। বিডিআর থেকে ১৬তম সংশোধনীর রায়, প্রতিটি ইস্যুকেই ক্যাশ করতে ব্যর্থ বিএনপি, অন্যদিকে প্রতিটি আগুনেই হাত দিয়ে অক্ষত হাত আওয়ামী লীগের। এক বছরের বদলে চার বছর পরেও ক্ষমতায় থাকা, তারই প্রমাণ। ঘোলা পানিতে মাছ শিকার দূরে থাক, হিমালয়ে নদীর উৎপত্তিস্থলগুলো থেকে টলটলে পানি এনে দিলেও পুঁটি-রুই শনাক্ত করতে পারবে বলে মনে হয় না বিএনপি।

রোহিঙ্গা বিষয়ে ফখরুলদের ত্রাণ বিলানোর অধিকার ছিনিয়ে নিলেও কিছু করতে পারলেন? রোহিঙ্গা ক্রাইসিসের অন্তরালে ভয়ঙ্কর খেলায় মেতেছে করপোরেট ওয়ার্ল্ড। চীন, রাশিয়া, আমেরিকার বিশাল বিনিয়োগ এবং ভয়ঙ্কর স্নায়ুযুদ্ধের শিকার আরাকান।

কালের কণ্ঠ ১০ সেপ্টেম্বর, করপোরেট ওয়ার্ল্ডের দাবি, দ্রুত আরাকানের মাটি খালি করে দিতে হবে। ‘২০১২ সালের হামলার পর বড় বড় প্রজেক্ট স্থাপনের জন্য যে পরিমাণ ভূমি দরকার ছিল, ২০১০-১৩ সালের মধ্যে দখল করা জমি বেড়েছে ১৭০ শতাংশ। ২০১২ সালে ভূমি নিয়ন্ত্রণের যে আইন, তা কেবল বিশাল মাপের করপোরেট দখলদারিত্বকেই সমর্থন করে। ... ৩১ লাখ একর জমি অধিগ্রহণের পুরোটাতেই রোহিঙ্গাদের বাস। ... উন্নয়নের দোহাই দিয়ে মূলত লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে ভূমি ছাড়া করা হচ্ছে...’ -গার্ডিয়ান পত্রিকার নিবন্ধটি কি বিএনপি পড়েছে?

মিয়ানমারে রাখাইন অভিযানে অকুণ্ঠ সমর্থন চীনের। রোহিঙ্গা সঙ্কটে মিয়ানমারের পাশে থাকবে ভারত Ñশ্রিংলা। ডিস্টার্বিং খবরগুলো প্রকাশ করেছে ১২ সেপ্টেম্বরে বহু পত্রিকা। ধুমছে অস্ত্র বিক্রি করছে পরাশক্তিরা, সৈন্য ট্রেনিং দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া-ব্রিটেন। হোয়াইট হাউজের ঘোষণা, পণ্য বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হবে না। এই সময়ে হাইকমান্ডের নির্দেশে গম কেলেঙ্কারি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর চাল কিনতে সস্ত্রীক মিয়ানমার ভ্রমণ? ডিস্টার্বিং নিউজগুলো মিডিয়ায় নেই, বরং হাইকমান্ডের নোবেল পাওয়ার আলোচনাই আসল। ১৭ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের সঙ্গে দ্ইু লাখ টন চাল কেনার চুক্তি করছেন ক্ষমতাসীনেরা। সংসদে গণহত্যা বিষয়ে নিন্দা প্রস্তাব না তোলাটা, হুন্তাদের রোহিঙ্গা পলিসিকেই কি অনুমোদন করে না?

২০০৮ সালে যে করপোরেট ওয়ার্ল্ডের হাতে ধরা খেয়েছে বাংলাদেশ, এদের হাতেই ধরা খেলো আরাকান। উদাহরণস্বরূপ, যৌথ উদ্যোগে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রই শুধু নয়, ৪০০-র বেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন সুন্দরবনে। সুন্দরবনের বিদায়ে এর চেয়ে যোগ্য উদাহরণ আর কী? আমাদের দেশেই রেখে আর রোহিঙ্গাদের দেশ ছাড়া করে চলছে করপোরেট ওয়ার্ল্ডের উন্নতির নামে ধ্বংসযজ্ঞ। চীনের কাজ খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ দেশগুলোকে ঋণের জালে জর্জরিত করে মাছ শিকার। বাংলাদেশে ২৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে সুখবর নেই। এই গভীরে কখনোই পৌঁছায় না বিএনপি। আওয়ামী লীগও চায়, হালকা আলোচনায় ব্যস্ত রেখে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করে ঘরে তুলতে।
‘নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবেই নির্বাচন পরিচালনা করবে। আমরা সেটা নিশ্চিত করব। এটা নিয়ে অহেতুক পানি ঘোলা করার চেষ্টা করা আর সংবিধান লঙ্ঘন করে অন্য কিছু করার কোনো সুযোগ নেই।’

বিষয়টি যেন শেয়ালের কাছে মুরগি বর্গা দেয়া। নির্বাচন কমিশন স্বাধীন না পরাধীন, আওয়ামী লীগের এখতিয়ার নয়। নির্বাচন কমিশন নিয়ে কোনো দেশের রাজনীতিবিদেরাই এভাবে বেপরোয়া নন। রকিবমার্কা কমিশনের চেয়ে আরো বিতর্কিত হতে পারে বর্তমান ইসি। গণতন্ত্রের সব ফায়ারওয়ালই ব্লক করে দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার বাহাস। এমন প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচনও ভেজাল হতে বাধ্য। এরকম ইসির অধীনে ফখরুলরা অন্য কিছু করবেন, নাকি আওয়ামী লীগই হাতিয়ে নেবে নির্বাচন?
‘আমার হাসি পায় যখন নির্বাচন নিয়ে কথা বলে।’

হাসি পাবে কেনো? চতুর্থ এবং ১৫তম সংশোধনী এনে সংবিধানকে তুরুপের তাস বানানোর ইতিহাস বিএনপির নয়, বরং একদলীয় শাসন বিলুপ্ত করে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে মুক্ত করার ইতিহাস। এ জন্যই বিলুপ্ত আওয়ামী লীগেরও পুনর্জন্ম ১৯৭৮ সালে। এখানেই শেষ নয়। হাইকমান্ডের অনুপস্থিতিতেই নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা। ইরানের শাহ্ পরিবারের মতো না করে বরং ১৯৮১ সালে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনেরও ব্যবস্থা। প্রতিটি ঘটনাই বিএনপি নেতার উদার মানসিকতার পরিচয়। এ জন্য হাইকমান্ডের উচিত আজীবন কৃতজ্ঞ থাকা। একই দৃষ্টান্ত নির্বাসিত জিয়া পরিবারের সন্তানদের বেলায় দূরে থাক, ১৩ সেপ্টেম্বরের সংসদে যে ভয়ানক ঘোষণা, নির্বাচন হলে খালেদাই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনায় নতুন করে অস্তিত্ব সঙ্কটে ফেলার ব্লুপ্রিন্ট। হাইকমান্ডের এসব বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের পাল্টা জবাব যারা দিতে পারে না, তারাই করবে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার?

‘মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া শুরু করেছে বিএনপি। জিয়া ’৭৫-এ বঙ্গবন্ধু হত্যার পর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন।’
বক্তব্য সর্বৈব ভুল। ১৫ আগস্টের পরেই খন্দকার মোশতাক প্রেসিডেন্ট। ৭ নভেম্বর সিপাহি বিপ্লবের মাধ্যমে মুক্ত জিয়া আবারো আর্মি চিফ। ২১ এপ্রিল ১৯৭৭ সালে সপ্তম প্রেসিডেন্ট। ১৯৭৮ সালে বিএনপি গঠন। ১৯৭৯ সালে জাতীয় নির্বাচন।
ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া সমান। ফখরুলরা প্রতিক্রিয়াশীল হলে হয়তো এই মাপের কদর্য বক্তব্য শুনতে হতো না। সম্বোধনেও সীমিত থাকা উচিত ছিল। তা না করে, ৫ জানুয়ারির প্রধানমন্ত্রীর পদটিকেই স্বীকৃতি দেয়া হচ্ছে সম্বোধনে। ইতিহাস বলে, যখন জাসদের আগুনে জ্বলছিল দেশ, গণবাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ মানুষ, বাস্তব কারণে কর্নেল তাহেরের ফাঁসি এবং ক্ষমতার পটপরিবর্তন ইতিহাসে নতুন নয়। ৩০ মে ১৯৭৭-এর ভোট জাতীয় নির্বাচন নয়। সেটা ছিলÑ ‘হ্যাঁ’-‘না’ কনফিডেন্স রেফারেন্ডাম। জিয়ার সরকারে যোগ দেয়নি এমন বিশ্বস্ত আওয়ামী লীগারের সংখ্যা কত? এদের অনেকেই হাইকমান্ডের গুরুত্বপূর্ণ পদে, যেমন এইচটি ইমাম। বাগাড়ম্বর দিয়ে সত্য ধামাচাপা দেয়ার মাত্রা লাগামছাড়া।

‘১৯৭৯ সালের নির্বাচন পূর্বপরিকল্পিত। আগেই ঠিক ছিল আওয়ামী লীগকে ৪০টির বেশি আসন দেয়া হবে না।’ এই অভিযোগ সত্য হলে ক্ষমতাসীনদেরই লজ্জা পাওয়ার কথা। কারণ দুর্ধর্ষ বাকশাল আইনে বিলুপ্ত আওয়ামী লীগকে পুনর্জন্মই নয়, ’৭৯-র নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিলে তারা পান ৩৯টি সিট। এর অর্থ, গণতন্ত্র মানেই বিএনপি।

‘ভোটচুরির অপরাধে নির্বাচনের দেড় মাসের মাথায় জনগণ আন্দোলন করে পদত্যাগে বাধ্য করে।’ কিন্তু হাইকমান্ড জানেন, ইন্টারিম সরকারের তিন মাসের কোটায় নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। তার পরেও অবৈধ ১৫তম সংশোধনীর সপ্তম বর্ষ চলছে। ৫ জানুয়ারির অবৈধ ক্ষমতা দখলেরও চতুর্থ বর্ষ এটা। তার পরেও তিন মাসের কোটা পূরণ করেনি হাইকমান্ড। অন্যদিকে ১৩তম সংশোধনী এবং জাতীয় নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর দৃষ্টান্ত বেগম খালেদা জিয়া। ২০১১ সালে এটাকেই বিলুপ্ত করল হাইকমান্ড। জনতার মঞ্চ কিংবা ২৮ অক্টোবরের দৃষ্টান্তও তারাই। ৩০৩ দিনের হরতালও তারাই। আওয়ামী লীগ প্রমাণ করেছে, ঘোলা পানিতে মাছ শিকারই নয়, দলটি বর্তমানে সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক।

‘নির্বাচন চলাকালে প্রশাসন এবং সবকিছু নির্বাচন কমিশনের হাতে থাকে। ... ইউনিয়ন পরিষদ, মেয়র... সব নির্বাচনই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ... নির্বাচন যেন অবাধ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ হয়, সে জন্য যা যা করণীয় আমরা করেছি। ... ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জনগণকে যে ওয়াদা করেছিলাম তা রেখেছি। ... কাজেই ভোটের অধিকার নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেবো না।’
নির্বাচন কমিশনের হাতে ক্ষমতা থাকলে অর্ধেক ভোটার যাদের, তাদের এই বেহাল অবস্থা হয় কিভাবে? সরকারের ধারাবাহিকতার ব্যাপারে জোরজবরদস্তিইবা কেন! নির্বাচনকালীন সরকারপ্রধানের পদ ছাড়তে এত ভয়ের কারণ খালেদাকে! স্থানীয় নির্বাচনের সঙ্গে যারা জাতীয় নির্বাচনের তুলনা করে, আসলেই তারা রাজনীতির যোগ্য কি না! ভাত ও ভোটের অধিকার প্রসঙ্গে বলতে হয়, ১০ টাকা নয় চালের মূল্য ৮০ টাকার পথে এবং সে জন্যই মিয়ানমার থেকে দ্ইু লাখ টন চাল আমদানির ব্যবস্থা। রোহিঙ্গা ক্রাইসিস প্রমাণ করল, সু চিকে যারাই সৃষ্টি করেছে, তারাই ৫ জানুয়ারির অস্বাভাবিক সরকারের আবিষ্কারক। আমাদের সর্ববিষয়ে সাউথব্লকের একচেটিয়া প্রভাব বিএনপির রাডারে নেই। এরা ব্যস্ত পরিষ্কার পানিতে মাছ দেখার আনন্দে।
‘খুন, হত্যা, লুটপাট, মানিলন্ডারিং এটাই মনে হয় তাদের চরিত্র।’

এই বক্তব্যেই প্রমাণ, বিডিআর থেকে ১৬তম সংশোধনীর রায়... আগুনে হাত দিলে সত্যিই হাত পোড়ে না আওয়ামী লীগের। প্রতিটি ঘটনাই ম্যানেজ করে ফেলে। যেমন ১৫তম সংশোধনীতে সই দেয়া সিনহা তখন মহাত্মা গান্ধী, ১৬তম সংশোধনীর বেলায় তিনিইÑ খালেদা। ট্রাইব্যুনালের বেলায় এনবিআর-দুদকের প্রয়োজন হয়নি, হয়েছে বিচারকদের অভিশংসনের রায়ের বেলায়। এরই নাম আওয়ামী লীগ, যা চিনতে বারবারই ভুল করেছেন ম্যাডাম।

‘২০১৪ সালে যে নির্বাচন করেছিলাম, তাতে স্পষ্টই দেখা গেছে নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে তাদের কাজ করে থাকে।’ বিষয়টি যেন, ঠাকুর ঘরে কে কলা খাই না। ২০১৪ সালে স্বাধীন নির্বাচন হলে, পরাধীন নির্বাচন কেমন, ২০১৯-এর আগে স্পষ্ট করতে হবে। ক্রেমলিন স্টাইলে রাজনৈতিক মাফিয়াকবলিত নির্বাচনের রূপকল্পও তা বাতিল করতে হবে। তা না করে যারাই হাত-পা বাঁধা বিএনপিকে সাঁতার প্রতিযোগিতায় বাধ্য করে নিজেকে আবারো বিজয়ী ঘোষণায় অনড়, লেখাটি তাদের জন্য স্বস্তিদায়ক।

কথায় বলে, মরাকে মারিস না। মারতে মারতে বিএনপিকে রোহিঙ্গা বানিয়ে ফেললেও, থামার চিহ্ন নেই! ১৩ তারিখের সংসদে দুটো হৃদয়বিদারক ঘটনার একটি, ত্রাণ বিতরণে বাধা। অন্যটি, সংসদে সিনহা ও জিয়া পরিবারকে তুলাধোনা করা। সেখানে ভাষা, বডিল্যাংগুয়েজ, শব্দচয়ন... জাতি সত্যিই শোকাহত। একজন প্রধান বিচারপতিকে গালিগালাজের মাধ্যমে যে বার্তাটি পাবলিককে দেয়া হলো, বিচার বিভাগকে অপমান করা যাবে, পক্ষে না গেলে রায় মানার কারণ নেই, পাবলিকও একইভাবে হট্টগোল করে বিচার বিভাগকে উড়িয়ে দিতে পারে...।’ সংসদে জিয়া পরিবারের নতুন অর্থ পাচারের বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার থেকে পরিষ্কার, পলিটিক্যাল রোমান্স এবং শোকেস নির্বাচনের বাইরে যাবে না হাইকমান্ড। এর পরেও ঘোলা পানিতে বিএনপির মাছ শিকার নিয়ে বাগাড়ম্বর কেন!

গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উচ্চারিত প্রতিটি শব্দই গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায়, জনজীবনে প্রভাব রাখে। বক্তব্যগুলোও সেই মাপেরই হবে। নির্বাচন হাতছাড়া হলে এই দফায় নির্মূল-নির্বংশ হওয়ার সম্ভাবনা তাদেরই মুখে। তাইতো দিশেহারাদের বাগাড়ম্বর, আসলেই যার সংবাদ মূল্য নেই। তার পরেও গুরুত্ব দিয়ে ছাপতে বাধ্য মিডিয়া। কারণ, ১৬তম সংশোধনীর রায় অনুযায়ী, অবৈধ সংসদের গণতন্ত্রহীনতার মধ্যে একমাত্র জিয়া পরিবারকে গালিগালাজই অপমান থেকে রক্ষা করছে ক্ষমতাসীনদের। এ ছাড়া, গণতন্ত্র প্রমাণের অন্য কোনো ইস্যু তাদের হাতে নেই।

ইমেইল : farahmina@gmail.com
ওয়েবসাইট : www.minafarah.com

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫