ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৪ ডিসেম্বর ২০১৭

রকমারি

একজন কবুতর পালক ফরহাদ

কামাল হোসেন

২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭,শনিবার, ১৭:০৫


প্রিন্ট
একজন কবুতর পালক ফরহাদ

একজন কবুতর পালক ফরহাদ

প্রেম হলো মানসিক শান্তির আধার। আর শান্তির প্র্রতীক হচ্ছে কবুতর। এর আরেক নাম পায়রা। এ ছাড়া কপোত, কলরব, পারাবত বা প্রাসাদ কুক্কুট নামেও পরিচিত। বৈজ্ঞানিক নাম columba livia domestica. সব গৃহপালিত কবুতরের উদ্ভব বুনো কবুতর (Columba livia) থেকে। পৃথিবীতে প্রায় ২০০ জাতের কবুতর পাওয়া যায়। বাংলাদেশে রয়েছে প্রায় ৪০-৫০ ধরনের কবুতর। যদিও বর্তমানে এ সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে।

বাংলাদেশের আবহাওয়া, জলবায়ু এবং বিস্তীর্ণ শস্যক্ষেত্র কবুতর পালনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এটা পরিবারের পুষ্টি সরবরাহ, সমৃদ্ধি, শোভাবর্ধনকারী এবং বিকল্প আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এদের সুষ্ঠু পরিচর্যা, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সঠিকভাবে প্রতিপালন করে দেশের দারিদ্র্য বিমোচন ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখা যায়। কবুতর প্রতিপালন এখন শুধু শখ ও বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা এখন একটি লাভজনক ব্যবসায় হিসেবেও পরিগণিত হয়েছে। কবুতর বাড়ি ও পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা ছাড়াও অল্প খরচে এবং অল্প ঝামেলায় প্রতিপালন করা যায়। এক জোড়া সাদা ধবধবে কবুতর দেখামাত্র নিমিষে দেহ-মনে এক ধরনের প্রশান্তি অনুভূত হয়।

একসময় রাজা-রাজায় যোগাযোগ, গোয়েন্দাকর্ম কিংবা রাজকন্যার মনের কথা রাজপুত্রকে পৌঁছে দিতে কবুতরের বিকল্প ছিল না। গ্রামগঞ্জ থেকে শুরু করে শহরের ইট-কাঠের দালান বাড়িতেও কবুতর পালন বেশ জনপ্রিয়। অল্প শ্রম ও স্বল্প ব্যয়ে শুধু আনন্দের খোরাকই নয়, পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগও সৃষ্টি করছে কবুতর। দেড় লাখ টাকা জোড়া কবুতরও রয়েছে আমাদের এই দেশে। বর্তমান সময়ে অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে কবুতর পালন করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। দেশের দারিদ্র্য বিমোচন ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে সমানভাবে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করছে। আবার কেউ কেউ নিতান্তই শখের বশে ব্যক্তিমালিকানায় কবুতর পালন করে যাচ্ছে। এমনই একজন শৌখিন কবুতরপ্রেমী ফরহাদ উদ্দীন ফরহাদ।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার ভুলইন ইউনিয়নের পরতি গ্রামের মরহুম মমতাজ উদ্দীনের ছেলে ফরহাদ। তিনি সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে বাড়ির প্রায় ৫২ শতক জমিতে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন জাতের মাছ চাষের পাশাপাশি গড়ে তুলেছেন কবুতরের বিশাল সংগ্রহশালা। এখানে রয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক প্রজাতির ২৫০-৩০০ কবুতর। বর্তমানে তার বাড়িতে সর্বনিম্ন দুই-আড়াই হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা জোড়ার কবুতর রয়েছে। তার কবুতরের মধ্যে রয়েছে কিং, ট্রেজার, হলুদ সিরাজ, সিলভার, মুখ্খী, ময়ূর, সিলভার সিরাজ, কাকচি, রেসার নর, হোয়াইট লক্ষ্মা নর, লোটন চিকেটস, ময়না, ফর্সা জালালিসহ দেশী প্রজাতির প্রায় এক শ’ জোড়া কবুতর। কবুতর পালনে তার এই আগ্রহের কথা জানতে চাইলে তিনি সাগ্রহে বলেন, নিতান্তই শখের বশে কবুতর পালন করা। বলতে পারেন এটা আমার শখের পাশাপাশি নেশাও।

১৯৮২-৮৩ সালের দিকের কথা। তখন আমার জন্মের পর আমার মরহুমা শ্রদ্ধেয় নানীজান আমাকে দেখতে একজোড়া কবুতর নিয়ে আসেন। কবুতরগুলো দীর্ঘদিন পর্যন্ত ছিল। ওরা ছিল আমার নিত্য খেলার সাথী। শৈশব থেকে অবচেতন মনে কবুতরের প্রতি আমার এক ধরনের প্রেম-ভালোবাসা সৃষ্টি হয়। এরপর বুঝ হওয়ার পর বাজার থেকে আরো পাঁচজোড়া কবুতর কিনে নিয়ে আসি। শুধু তাই নয়, পাশাপাশি বিভিন্ন বাজার থেকে নানা প্রজাতির কবুতর আনতেও শুরু করি। পত্রপত্রিকা, টেলিভিশন বা যখন যেখানে যে প্রজাতির কবুতর দেখি, সেই প্রজাতির কবুতর কিনতে ছুঁটে যাই। কবুতরের প্রতি এতটাই মগ্ন হয়ে পড়ি আমার ধ্যান-জ্ঞান ও দিবারাত্রি হয়ে ওঠে কবুতর। যখনি কোনো কারণে মন খারাপ হয়, ছুটে চলে যাই আমার পোষা কবুতরের কাছে। ওরা আমার সন্তানের মতো। আমার মাথায়, কাঁধে কিংবা হাতে ওরা নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়ায়। ওদের দিকে তাকালে জাগতিক সব দুঃখ-কষ্ট ও ব্যথা নিমেষে ভুলে থাকা যায়। ওরা আমার ঔরসজাত সন্তানের চেয়েও কোনো অংশে কম নয়। কিছু দেশী প্রজাতির কবুতরের বাচ্চা বিক্রি করলেও অন্য কোনো কবুতর আমি বিক্রি করি না।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাতভেদে কবুতরের খাবারের ধরন ভিন্ন। এ পেশায় আগ্রহীদের জন্য তিনি বলেন, কবুতর পালন করার জন্য অতিরিক্ত কোনো খরচ হয় না। প্রয়োজন একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন মনমানসিকতার। কারণ, সুন্দর মন না হলে কবুতর পালন করা যায় না। তা ছাড়া কবুতরকে অতি সহজেই পোষ মানানো যায়।

কবুতর পালন আনন্দদায়ক। কবুতরের গোশত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। প্রতিমাসে গড়ে দুটি বাচ্চা পাওয়া যায় এবং তিন-চার সপ্তাহের মধ্যেই বাচ্চা খাওয়ার উপযোগী হয়। তাদের রোগবালাই কম, খাবার খরচ কম এবং থাকার ঘর তৈরি করতেও খরচ কম লাগে। স্বল্প পুঁজি ও শ্রমে সহজেই লাভবান হওয়া যায়।

কবুতর পালন লাভজনক ব্যবসায়। দেশের দারিদ্র্য বিমোচন ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে কবুতর পালন নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫