গণপরিবহনে ড্রাইভারের ধুমপান
গণপরিবহনে ড্রাইভারের ধুমপান

প্রকাশ্যে ধুমপানে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি!

আনিসুর রহমান এরশাদ

রাজধানীতে প্রকাশ্যে যাত্রীবাহী গাড়িতে ধুমপান থামছে না। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের দ্রুততম  যাতায়াতের ভরসা পাবলিক বাসে ধুমপানের ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে অধুমপায়ী  যাত্রীরা। কর্মব্যস্ত মানুষ কেউ ছুটে জীবিকার তাগিদে তার কর্মসংস্থানে, কেউ বা তার অফিস আদালত, শিক্ষার্থীরা স্কুল কলেজে। নিজ গন্তব্যে যাতায়াতের পথে পাবলিক প্লেসে ধুমপানে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা।

সরেজমিনে দেখা যায়,  বাসের ড্রাইভার গাড়ি চালানো অবস্থায় ধুমপান করছেন। যাত্রীদের আপত্তিকে পাত্তা না দিয়ে সাভারগামী একটি বাসে ড্রাইভার একের পর এক সিগারেট ধরান, টানেন এবং গাড়ির ভেতরেই ধোঁয়া ছাড়তে থাকেন। গাড়ির একজন যাত্রী বলেন, বারবার বলার পরও ড্রাইভার  ধুমপান বন্ধ করছেন না,  হাতে সিগারেট নিয়ে গাড়ি চালাচ্ছে। বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকায় যাত্রীরা সিগারেট ফেলতে বললে ড্রাইভার বলছেন, খারাপ লাগলে পিছনে গিয়ে বসুন। আমি সিগারেট খাবোই, ভালো না লাগলে আপনি নেমে যান। পেছনে বসে থাকা শিশুসহ মহিলা  বাধ্য হয়ে ওঠে পিছনের সিটে বসতে বাধ্য হন। কারণ সিগারেটের আগুন আর ধোঁয়ায় বাচ্চার শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল।

আরেকজন যাত্রী বলেন, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইনের ৪(১) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি কোনো জনবহুল স্থানে ও গণপরিবহনে ধূমপান করতে পারবে না। জনবহুল স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত অফিস, গ্রন্থাগার, লিফট, হাসপাতাল ও ক্লিনিক ভবন, আদালত ভবন, বিমানবন্দর ভবন, সমুদ্রবন্দর ভবন, নৌ বন্দর ভবন, রেলওয়ে স্টেশন ভবন, বাস টার্মিনাল ভবন, ফেরি, প্রেক্ষাগৃহ, আচ্ছাদিত প্রদর্শনী কেন্দ্র, থিয়েটার হল, বিপণি ভবন, পাবলিক টয়লেট, সরকারি বা বেসরকারিভাবে পরিচালনাধীন শিশু পার্ক এবং সরকার কর্তৃক, সরকারি প্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্ধারিত অন্য যে কোনো বা সকল স্থান। এসব স্থানে ধূমপান করলে ধূমপায়ীর ৫০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হবে। কিন্তু আইনের বাস্তবায়ন নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, একজন ধুমপায়ীকে জনসম্মুখে ধুমপান করা উচিত নয়। এতে করে তারা প্রত্যক্ষ ভাবে ধুমপানের প্রতি আসক্ত হয় এবং ধুমপানের প্রত্যক্ষ অনুপ্রেরণা পায়। নিজে ধুমপান না করলেও গাড়ির ভেতরে অন্যের ধুমপানের ফলে শিশু-কিশোরদের চেস্ট ইনফেকশন, ব্রঙ্কাটিস, ম্যানিনজাইটিস, ক্যান্সারসহ মারাত্মক রোগের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য বন্ধ করতে সচেতনতা ও বলপ্রয়োগ দুটোই দরকার। অনেক সময় দেখা যায় পাবলিক প্লেসসহ সব জায়গাতে মানুষ ধূমপান করছে। পাবলিক প্লেসে ধূমপান বন্ধ করতে সচেতনতা দরকার। প্রয়োজন হলে বল প্রয়োগ করতে হবে। আমি নিজেও এক সময়ে ধূমপায়ী ছিলাম। আমি কিন্তু এখন ধুমপান করি না। আমি মনে করি ধূমপান ছাড়তে নিজের আগ্রহ ও অঙ্গীকার থাকতে হবে। আমি চ্যালেঞ্জকে উপভোগ করি। তামাক হলো নীরব ঘাতক। এই ঘাতকের হাত থেকে বাঁচতে আমাদের সেই চ্যালেঞ্জ নিতে হবে।’

প্রসঙ্গত, শহর জুড়ে বিশেষ করে ধুমপায়ী চালকদের সংখ্যা চোখে পড়ার মতো। গাড়িতে যাত্রী নিয়ে চালকের ধুমপান এক অন্যরকম অপরাধ। চালকই এই অপরাধে প্রথম অপরাধী। সচেতন মহলের দাবি ধূমপান আইনের সঠিক প্রয়োগ করে মানুষের সু-স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হবেন কর্তৃপক্ষ।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.