ঢাকা, মঙ্গলবার,১৭ অক্টোবর ২০১৭

মধ্যপ্রাচ্য

সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতাকে কেন 'আরব বাজ' বলা হতো?

নয়া দিগন্ত অনলাইন

২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭,শনিবার, ১৪:২২


প্রিন্ট
সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতাকে কেন 'আরব বাজ' বলা হতো?

সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতাকে কেন 'আরব বাজ' বলা হতো?

আধুনিক সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা বাদশাহ আবদুল আযীয বিন আবদুর রহমান বিন ফয়সাল বিন তুর্কি বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল সউদ হিজরী ১২৯৩ সালের ১৯ জিলহজ রাতে (১৪-০১-১৮৭৬ ঈসায়ী) রিয়াদের রাজ প্রাসাদে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা তাঁকে সঠিক ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলেন। ছয় বছর বয়সে তিনি বিখ্যাত শাইখ আবদুল্লাহ আল-খুরাইজির শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। ১১ বছর বয়সেই কুরআন হিফজ সমাপ্ত করেন। পরবর্তীকালে তিনি বিভিন্ন আলেমের কাছ থেকে তাফসীর, হাদীস, ফিকাহ, তাওহীদ, আরবী ভাষা, সীরাতুন্নাবী ও ইসলামের ইতিহাস ইত্যাদি অধ্যয়ন করেন।

লেখাপড়ার পাশাপাশি আবদুল আযীয তার পিতার সাথে বিভিন্ন সভা-সমিতি, বৈঠক ও সফরে যেতেন ও সেখানে বিভিন্ন বৈষয়িক বিষয়ে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। সাথে সাথে অশ্ব চালানো ও যুদ্ধ কৌশলও রপ্ত করেন। তার পিতার সাথে কুয়েতে অবস্থানকালে তৎকালীন কুয়েতের রাজা মুবারক আছছবাহর (১৩০৯ হি.) কর্মকাণ্ড, শাসনকার্য ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।

পরবর্তীতে তিনি শাইখ আবদুল¬াহ আবদুল লতিফ আল-আশ-শায়েখের নিকট থেকে ইসলামী ধর্মতত্ত্ব বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেন। তাঁর পরিবার কুয়েত থেকে ফেরার পথে মুররাহ উপজাতির সাথে অবস্থান করার সময় প্রায় সাত মাস অশ্ব চালানো শেখেন। সেখানে তিনি ১০ বছর অবস্থান করেন। সউদী আরব নামক একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় তিনি অদম্য সাহসিকতার পরিচয় দেন। রাজ্যগুলো একত্রকরণে তিনি ছিলেন আদর্শ ব্যক্তি। সেটির জন্য তিনি অব্যাহতভাবে সংগ্রাম করেন। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ, মজলিসে শূরা, ট্রাস্টি পরিষদ ও অন্যান্য প্রশাসনিক দফতর গঠন করেন। বিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠী থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয় ঐক্য ও স্বাধীনতাকে রক্ষা করেন। যা প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। নিকটতম আরব রাষ্ট্র ইরাক, ইয়েমেন, মিসরসহ অন্যান্য প্রতিবেশী দেশ থেকে তিনি তার রাজ্য চালনায় দৃঢ় সমর্থন আদায় করতে সক্ষাম হন। বাদশাহ আবদুল আযীয যুদ্ধক্ষেত্র অত্যন্ত ধার্মিকতা ও বদান্যতার পরিচয় দেন বিধায় তিনি শত্রুদের পরাজিত করতে সক্ষম হন। তাদেরকে বের করে দেয়ার পরিবর্তে তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার করেন।

হিজাযের অধিবাসীদেরকে তিনি স্বাধীনতা ও নিজস্ব বিষয়ে শাসন করার ক্ষমতা প্রদান করেছেন। একজন বুদ্ধিমান রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তিনি প্রথম সউদী রাষ্ট্রের ভুলগুলো বুঝতে পারেন। এ কারণে তাঁর রাজ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যয় ঝুঁকি নিতে হয়নি। সউদী আরবের প্রতিষ্ঠাতা বাদশাহ আবদুল আযীয বিন আবদুর রহমান আল সাউদ যখন ১৩৪৩ হিজরীতে হিজায তথা বর্তমান মক্কায় প্রবেশ করেন তখন তিনি দেখলেন, হারামে মাক্কীতে কয়েকটি সালাতের জামায়াত হয়। প্রথম জামায়াতে ইমামতি করেন শাফেয়ি মাযহাবের ইমাম। দ্বিতীয় জামায়াতে ইমামতি করেন হানাফি মাযহাবের ইমাম। তৃতীয় জামায়াতে ইমামতি করেন মালিকী মাযহাবের ইমাম এবং চতুর্থ জামায়াতে ইমামতি করেন হাম্বলি মাযহাবের ইমাম। এরপর ১৩৪৫ হিজরীর ২০ রবিউল আখের নাজদ ও হিজাযের উলামাদের একটি দলের সাথে বৈঠক করেন। সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়, এখন থেকে মসজিদে হারামে শুধু একটি জামায়াত হবে। প্রতি মাযহাব থেকে তিনজন ও হাম্বলি মাযহাব থেকে দুইজন ইমাম নির্বাচন করেন। যারা পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের ইমামতি করবেন। এভাবেই আল্লাহ তায়ালা মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের প্রতীক কাবাকে হেফাজত করেছেন।

বাদশাহ আবদুল আযীয এবং তেল যুগ :
ঊনবিংশ শতকের তৃতীয় দশকের শুরুর দিকে সউদী রাষ্ট্রের অর্থনীতি কঠিন অবস্থার দিকে গিয়েছিল। সেটি কয়েক বছর স্থায়ী ছিল। ব্যক্তিগত আয় ছিল নিম্নমানের এবং রাষ্ট্রের আয় ছিল স্বল্প। সরকার ঋণী হয়ে পড়েছিল। এমনকি সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন দেয়া সম্ভব ছিল না। আবদুল আযীয এবং তাঁর উপদেষ্টাগণ এটা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন এবং এ সঙ্কটের সমাধান খুঁজছিলেন। তারা খনিজ সম্পদ ও তেল অনুসন্ধানের চিন্তা করলেন।

দীর্ঘ সময়ব্যাপী অভিজ্ঞ লোকজনদের সাথে আলোচনার পর ১৯৩৩ সালে সউদী সরকার ক্যালিফোর্নিয়া স্ট্যান্ডার্ড ওয়েল কোম্পানির সাথে প্রায় ৪৯৫৫০০ বর্গমাইল এলাকার তেল অনুসন্ধান ও উৎপাদনের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করেন। রাজ্যের পূর্ব উপকূল থেকে তেল অনুসন্ধান কার্য শুরু হয়। ১৯৩৪ সালে দাহরান এলাকার সর্বপ্রথম বাণিজ্যিক তেলক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়। প্রথম অপরিশোধিত তেল জাহাজের মাধ্যমে বাহরাইনে রফতানি করা হয় এবং ১৯৩৯ সালে বাদশাহ আবদুল আযীযের উপস্থিতিতে রা’স তান্নুরা বন্দর থেকে তেল ট্যাংকারে করে রফতানি করা হয়। এ আবিষ্কার ছিল জমিন এবং সমুদ্র উপকূলীয় এলাকার প্রাকৃতিক গ্যাস আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে ১৯৪৪ সালে পূর্বের নাম পরিবর্তন করে অ্যারাবিয়ান আমেরিকান তেল কোম্পানি করা হয়।

রাজ্য শাসনের মূলনীতি : তিনি সাতটি মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে রাজ্য শাসন করতেন। ১. আল্লাহর কিতাব ও নবী মুহাম্মাদ (সা:)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী বিচার-ফয়সালা করা ২. বিদআত ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা ৩. পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টির চেষ্টাকারী, পাপাচারী অপরাধীকে শাস্তি প্রদান ৪. জনগণের সামাজিক দায়-দায়িত্ব গ্রহণ ৫. জনগণের সম্মানজনক জীবনযাত্রার পথ সহজীকরণ ৬. অভ্যন্তরীণ ও বহিঃনিরাপত্তা সংরক্ষণ ৭. কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনুপ্রবেশ না করা।

মৃত্যু : বিশ্ব কাঁপানো আরব বাজপাখি নামে খ্যাত ইতিহাস সৃষ্টিকারী বাদশাহ আবদুল আযীয ১৩৭৩ হিজরী সালের ২ রবিউল আউয়াল মোতাবেক ১৯৫৩ সালের ৯ নভেম্বর সোমবার সকাল ৯:৪০ মিনিটে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তায়েফস্থ তার প্রাসাদে ইন্তেকাল করেন।


মাননীয় রাষ্ট্রদূতের বাণী
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের জন্য। তাঁর করুণা ও শান্তি বর্ষিত হোক নবী মুহাম্মদ সা:-এর ওপর এবং তাঁর পবিত্র পরিবার বর্গের প্রতি এবং তাঁর সৌভাগ্যবান সাহাবিগণের ওপর।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ
৮৭তম সৌদি জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রদূতের বাণী

আজকের এই মহান দিবসে আমি আপনাদের অন্তরের অন্তস্তল থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। এই মহান সউদী জাতীয় দিবসে আপনাদের এ প্রেক্ষাপটে প্রথম ঐতিহাসিক দিনটির কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে, যা প্রতি বছর আলমীযান মাসের প্রথম তারিখে ফিরে আসে, যা প্রত্যেক সউদী নাগরিকের মনে ও মননে স্থায়ী অবস্থায় রয়ে গেছে। এই ঐতিহাসিক দিনে এই রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা বাদশাহ আবদুল আযীয বিন আব্দুর রহমান আল সাউদ (আল্লাহ তার কবরকে শান্তিময় করুন) বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ডকে একত্র করেছেন এবং অনৈক্য থেকে ঐক্যের দিকে নিয়ে এসে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছেন, যে রাষ্ট্রে বর্তমানে আমরা বসবাস করছি।

আজ ৮৭তম জাতীয় দিবস উপলক্ষে ওই মহান উপলক্ষগুলো স্মরণ করছি। এগুলো স্থায়ী ঘটনা ও বিশাল অবস্থান, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম স্মরণ করবে এবং স্মরণ করবে তাদেরকে যাদের অক্লান্ত, অসীম ও গভীর জ্ঞান ও উপলব্ধি এই মহান রাষ্ট্র বিনির্মাণে সহায়তা করছে। আল্লাহর অশেষ করুণায় আমাদের দেশ প্রাচুর্য, স্থিতিশীলতা ও কল্যাণের মধ্যে বিরাজ করছে। সউদী আরব অল্প কয়েক বছরের মধ্যে সব ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সভ্যতার উন্নয়ন ও সার্বিক উন্নতি করছে, যার দৃষ্টান্ত বিরল। এ রাষ্ট্রটি নিরাপত্তা, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যে উন্নতি বাস্তবায়ন করেছে, যা পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রদান ও গণনা করা কঠিন, যা বিশ্বে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। সউদী ভিশন-২০৩০ ব্যাপকভাবে বিস্তৃত ও জীবনের সব ক্ষেত্রকে শামিল করেছে এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক, শিক্ষা, সামাজিক সাংস্কৃতিক ও সভ্যতার সব দিক ও বিভাগে সূক্ষ্ম বিশ্লেষণে অনুপ্রবেশ করেছে। যেহেতু এ ভিশন জনগণের অংশগ্রহণ তাদের মেধা ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে হয়েছে, আর এ ভিশনের সাথে এ দেশের জন্য তাদের কার্যকলাপ চলছে খাদিমুল হারামাইন ও যুবরাজের নেতৃত্বে। ভিশন-২০৩০ সম্পর্কে অল্প কয়েক লাইনে বর্ণনা দেয়া আসলেই কষ্টকর। যেহেতু এই ভিশনের মাধ্যমেই ভবিষ্যতের বিশাল উন্নতি, উদ্যোগ ও প্রকল্পের চিন্তা সন্নিবেশিত হবে, যা স্থায়ী ও সামগ্রিক উন্নতির বিরাট আশা। যেমন ভাবি খাদিমূল হারামাইন আশ শারিফাইন বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আযীয আল সাউদও তার সঠিক পথে পরিচালিত সরকার পরিকল্পনা করেছেন।

এ উপলক্ষে আজ ওই বিষয়গুলো উল্লেখ করতে হয় যে সউদী আরব মুসলিম বিশ্বের জন্য বিশাল খিদমত আঞ্জাম দিচ্ছে। যেহেতু এটি অহির অবতরণস্থল ও রিসালাতের সূচনাস্থল ও মুসলমানদের কিবলা। তাই সে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ইসলাম ও মুসলমানের সার্বিক ব্যাপারগুলো অগ্রাধিকার দেয়। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তরে মসজিদ নির্মাণ করে চলছে। যার সূচনা হয়েছে মূলত সউদী যুগের মাসজিদুল হারামাইনের সম্প্রসারণের মাধ্যমে। আর এটি সব যুগের মধ্যে অন্যতম। ফলে হজ আদায় করা বেশ সহজসাধ্য হয়েছে, আগে তা ছিল খুব কষ্টসাধ্য। বর্তমানে হারামাইন শারিফাইন সব মুসলিমের গর্ব করার মতো বিষয়ে পরিণত হয়েছে। তাই আল্লাহর ঘরের হাজীগণ ও মসজিদে নববীর জিয়ারতকারীরা প্রশান্তির সাথে যাবতীয় বিধান পালন করতে পারছেন। সউদী আরব তাদের খিদমতের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা চালাচ্ছে, যা কাছের ও দূরের সবাই অবলোকন করছে। পরে সেই কুরআন ছাপানো ও বিলি করার দিকে মনোনিবেশ করছেন। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন ভাষায় এর লাখ লাখ কপি বিতরণ করা হচ্ছে, যাতে সবার হাতের নাগালে কুরআন পৌঁছে যায়।

সউদী-বাংলাদেশ সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর, যা ধর্মীয় সাংস্কৃতিক ও মানবিক বন্ধনগুলোর দৃঢ়ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। সউদী আরব সব সময় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে ও সাহায্য-সহযোগিতা করে থাকে। বিশেষ করে নানা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময়। বাংলাদেশের ইসলাম ধর্মপ্রাণ জনগণ সউদী আরবকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং সউদী আরবের জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সার্বিক সহায়তা করে। অন্য দিকে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী শ্রমিক সউদী আরবের বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করছে, যা তাদের জন্য পৃথিবীর সর্ববৃহৎ শ্রমবাজার হিসেবে স্বীকৃত। বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বিগত অর্থবছরের ২০১৫-২০১৫ অর্থবছরের ১০ মাসের (জুলাই-এপ্রিল) মধ্যে বাংলাদেশী শ্রমিকদের মোট বৈদেশিক রেমিট্যান্স (১২.২৫) বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, এর মধ্যে শুধু সউদী আরব থেকে তিন বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি এসেছে। এ দেশের সব মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সউদী আরবের বিশেষ অবদান রয়েছে। বাংলাদেশ এমন একটি দেশ, যার কিছু অঞ্চল সমুদ্র উপত্যকায় অবস্থিত। এ অঞ্চলগুলো প্রতি বছরই বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের সম্মুখীন হয়।

সউদী আরব একটি অগ্রণী দেশ, বাংলাদেশ যখন এসব প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয় তখনই তার সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে। সউদী আরব ২০০৭ সালে ‘সিডর’র দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশীদের (১৫০) মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্থ ত্রাণসহায়তা প্রদান করেছে। সউদী আরব বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে যেমনÑ ঘরবাড়ি, স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষার জন্য আশ্রয়কেন্দ্র, হাসপাতাল, সেতু ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র তৈরি করতে সহায়তা করছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালে সউদী আরব সফর এবং সউদী আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আযীয আল সাউদের সাথে সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে সউদী-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরো জোরদার হয়েছে। তদ্রƒপ বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের সউদী আরব সফরের মাধ্যমে এ সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে ওপরের বর্ণিত চিরস্থায়ী ও স্মরণীয় বিষয়গুলো শুধু এই উজ্জ্বল ভূখণ্ডের অবদান থেকে কিছু আলোকছটা মাত্র। আমি এই শুভমুহূর্তে আমাদের দেশ, সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করছি, তিনি যেন আমাদের ভ্রাতৃপ্রতিম এই দেশকে আমাদের জন্য নিরাপদ রাখেন এবং এ দেশের সুযোগ্য নেতৃত্বকে আরো শক্তিশালী করেন এবং অস্থির আঞ্চলিক পরিবেশকে শান্ত ও নিরাপত্তা দান করেন।

এই মহান দিবস উপলক্ষে আমি আমার এবং দূতাবাসের সব সদস্যের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাচ্ছি দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আযীয এবং তার বিশ্বস্ত যুবরাজ ও সম্মানিত রাজকীয় পরিবার ও সব সৌদি নাগরিককে।

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
আব্দুল্লাহ এইচ এম আলমুতাইরি
রাষ্ট্রদূত, রাজকীয় সৌদি দূতাবাস
ঢাকা, বাংলাদেশ

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫