ঢাকা, বুধবার,১৩ ডিসেম্বর ২০১৭

মধ্যপ্রাচ্য

ইরানের পরমাণু চুক্তি বাতিল করে দেবে যুক্তরাষ্ট্র!

রয়টার্স

২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭,শুক্রবার, ০৭:২৫


প্রিন্ট
ইরানের পরমাণু চুক্তি বাতিল করে দেবে যুক্তরাষ্ট্র!

ইরানের পরমাণু চুক্তি বাতিল করে দেবে যুক্তরাষ্ট্র!

দুই বছর আগে ইরান ও ছয় বিশ্বশক্তির মধ্যে স্বারিত পারমাণবিক চুক্তিতে নিরাপত্তা স্বার্থের বিষয়টি ঠিকমতো বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখার পরই চুক্তিতে থাকা না থাকার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার ইরান পরমাণু চুক্তি নিয়ে ওয়াশিংটন এ মনোভাবের কথা জানিয়েছে।

পরমাণু কার্যক্রম সীমিত করার বিনিময়ে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শর্তে ২০১৫ সালে ছয় বিশ্বশক্তি ইরানের সাথে চুক্তিটি করে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একে তার দেশের জন্য ‘বিব্রতকর চুক্তি’ হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়ে আসছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ওয়াশিংটন চুক্তি থেকে সরে গেলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা বেড়ে যাবে, শুরু হবে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতা।

ইরান বলছে, তারা চুক্তি ভঙ্গকারী প্রথম দেশ হবে না। যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে সরে যাবে না বলেও প্রত্যাশা তাদের। জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের বিরতিতে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেন, বাগাড়ম্বরপূর্ণ বক্তৃতা ও প্রচার সত্ত্বেও ট্রাম্প চুক্তি থেকে সরে যাবেন বলে মনে হয় না।

চুক্তি নিয়ে ফের আলোচনার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেন তিনি। 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক সূত্র জানিয়েছে, চুক্তি নিয়ে ইরানের সাথে ছয় জাতির দেশগুলোর এক দীর্ঘ বৈঠকেও চুক্তির ভবিষ্যৎ স্পষ্ট হয়নি। যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তেহরানের ওই বৈঠকেই প্রথম একত্রিত হন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন ও ইরানের মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দায়িত্ব নেয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এটাই প্রথম সাাৎ।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদেশ নীতিবিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মেগারিনি জানান, এখন পর্যন্ত চুক্তির অবমাননা হয়নি বলে সব পরেই বিশ্বাস। তবে এক ঘণ্টা ২০ মিনিটের ওই বৈঠকের পরও যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে থাকবেই এমনটি নিশ্চিত করতে পারছেন না মেগারিনি। তিনি উত্তর কোরিয়াকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘এখনই আমাদের একটি পারমাণবিক সঙ্কট আছে, উচিত হবে না দ্বিতীয় আরেকটি শুরু করা’।

 

এ দিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, চুক্তির ভবিষ্যৎ পরের প্রেসিডেন্টের জন্য রেখে যাবেন না ট্রাম্প। তিনি বলেন, জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) মার্কিন জনগণের নিরাপত্তা স্বার্থ অনুযায়ী বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না তা জানার পরই এ বিষয়ে সতর্কতার সাথে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রেসিডেন্ট।

মঙ্গলবার জেসিপিওএকে ‘আমেরিকার প্রবেশ করা সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও একপাকি চুক্তি’ অ্যাখ্যা দিয়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়ে গেছে বলে সাংবাদিকদের জানান ট্রাম্প। যদিও কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা খোলাসা করেননি তিনি।

 ট্রাম্পকে এ চুক্তি নিয়ে অক্টোবরের ১৫ তারিখের মধ্যে তার সিদ্ধান্তের কথা জানাতে হবে।

ইরান চুক্তি অনুযায়ী কাজ করছে বলে প্রেসিডেন্টের প্রত্যয়ন না পেলে ৬০ দিনের মধ্যে তেহরানের ওপর নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুযোগ পাবে মার্কিন কংগ্রেস। এভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট চুক্তির ভবিষ্যৎ কংগ্রেসের হাতে ছেড়ে দিতে পারেন বলে ধারণা করছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা। অক্টোবরের ১৫ তারিখের আগে ট্রাম্প মত বদলে ফেলতে পারে বলেও আশঙ্কা অনেকের, যদিও প্রকাশ্যে ও ঘনিষ্ঠজনদের কাছেও বারবারই চুক্তি নিয়ে ােভের কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সুবিধা কেড়ে নেয়া হয়েছে বলেও ধারণা তার।

আরেক সূত্রের ধারণা, চুক্তি অুণœ রেখেই পেণাস্ত্র পরীা ও উগ্রবাদী সংগঠনকে সহযোগিতা করার কারণ দেখিয়ে তেহরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন। এরপর চুক্তি শক্তভাবে কার্যকরের দাবি তুলতে পারে তারা।

উত্তর কোরিয়ার ধারাবাহিক পারমাণবিক পরীা ও পেণাস্ত্র নিেেপর মধ্যে জেসিপিওএ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান প্রভাবশালী অন্য দেশগুলোকেও চিন্তার মধ্যে ফেলেছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়াকে ‘ভুল’ হিসেবে অ্যাখ্যায়িত করেছেন। তবে চুক্তির পর ওই অঞ্চলজুড়ে তেহরানের আধিপত্য বাড়ছে বলেও স্বীকার করে নেন তিনি। এ দিকে উপসাগরীয় একটি দেশের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, ইরানের পারমাণবিক চুক্তি ব্যর্থ হলে তার দেশ খুশি হবে।

 

ট্রাম্প আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন দুর্বৃত্ত : রুহানি
 বিবিসি ও আলজাজিরা


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন দুর্বৃত্ত বলে অভিহিত করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। তা ছাড়া ২০১৫ সালে ইরানের সাথে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তির লঙ্ঘন কোনো দেশ করলে তাকে ‘চূড়ান্ত পরিণতি’ বরণ করতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। জাতিসঙ্ঘের ৭২তম সাধারণ অধিবেশনে বুধবার দেয়া ভাষণে এসব কথা বলেন রুহানি। 


বিশ্বের ‘গুটিকয়েক দুর্বৃত্ত দেশের’ মধ্যে ইরান একটি বলে মন্তব্য করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই বক্তব্যের জবাবে ট্রাম্পকে এবার একহাত নিলেন রুহানি। জাতিসঙ্ঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রথমবারের মতো বক্তব্য দিতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সমালোচনা করেছিলেন। ইরানকে বিশ্বের ‘গুটিকয়েক দুর্বৃত্ত দেশের’ একটি অভিহিত করে তিনি বলেছিলেন, ইরানের সাথে সই করা পারমাণবিক চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘লজ্জা’র বিষয়। ট্রাম্পের পূর্বসূরি বারাক ওবামার মেয়াদে ইরানের সাথে সই হয়েছিল ওই চুক্তি, যেটিকে ট্রাম্প ‘মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করে থাকেন। গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাসভবন হোয়াইট হাউজের প থেকে জানানো হয়েছিল, ইরান ওই চুক্তি মেনে চলছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মনে করেন, সেই চুক্তির ‘মূল চেতনা’ ভঙ্গ করছে। মঙ্গলবার জাতিসঙ্ঘে দেয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ইরান ‘দুর্নীতিগ্রস্ত স্বৈরশাসকের’ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ‘অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে দুর্বৃত্ত রাষ্ট্রে’ পরিণত হয়েছে, যারা এখন বিশ্বব্যাপী সহিংসতা ছড়িয়ে দিচ্ছে।


পরদিনই জাতিসঙ্ঘে দেয়া ভাষণে হাসান রুহানি পারমাণবিক চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘আমি আপনাদের সবার সামনে এটা ঘোষণা করছি, ইরান কখনই ওই চুক্তি ভঙ্গকারী প্রথম দেশ হবে না। তবে চুক্তিতে সই করা কোনো দেশ যদি এটাকে লঙ্ঘন করে, ইরান তার চূড়ান্ত ও দৃঢ় জবাব দেবে।’


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে হাসান রুহানি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন কোনো দুর্বৃত্তের কারণে ওই চুক্তি অকার্যকর হয়ে পড়লে তা হবে দুঃখজনক। এতে বিশ্ব সুবর্ণ একটি সুযোগ হারাবে। আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির ব্যত্যয় ঘটিয়ে নতুন মার্কিন প্রশাসন কেবল তাদের নিজেদের গ্রহণযোগ্যতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে। তাদের প্রতিশ্রুতির েেত্র আন্তর্জাতিক আস্থাও হারাচ্ছে তারা।’ ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘অজ্ঞ, উদ্ভট ও ঘৃণাসূচক বাগাড়ম্বর’ অভিহিত করে রুহানি বলেন, এ ধরনের বক্তব্য জাতিসঙ্ঘের মতো স্থানে উপস্থাপনের যোগ্য নয়।


উল্লেখ্য, জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্যের (চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র) সর্বসম্মতিক্রমে ২০১৫ সালে ইরানের সাথে পারমাণবিক চুক্তি সই হয়। জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাকি দেশগুলোও এতে সই করে। ওই চুক্তির সূত্র ধরেই ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় জাতিসঙ্ঘ।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫